অন্যান্য

পুরুষাঙ্গ বড় করতে এতো মাতামাতি, এক সময় ছোট আকারই ছিল আকর্ষণীয়

ফিলার বা কসমেটিক পদ্ধতি এখন নারীদের জন্য খুবই জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে ঠোঁট, থুতনিসহ শরীরের নানান অংশ আকর্ষণীয় করে তুলছেন। তবে শুধু নারীরা নন, পুরুষরাও এখন ফিলার বা কসমেটিক পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। এর মাধ্যমে মূলত তারা যৌনাঙ্গের গার্থ বা মোটা করার দিকে ঝুঁকছেন। তাদের ধারণা মোটা বা বড় যৌনাঙ্গ পুরুষের আসল সৌন্দর্য। কিন্তু পুরুষাঙ্গের আকার নিয়ে এই আকর্ষণ মোটেই আধুনিক নয়।

ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে কখনো যৌনাঙ্গ লম্বা করার চেষ্টা, কখনো অগ্রচর্ম টেনে বাড়ানো, আবার কখনো অলংকার দিয়ে সাজানোর প্রবণতা দেখা গেছে। আর এর মধ্যে সবচেয়ে অবাক করা উদাহরণগুলোর একটি হলো ১৬ শতকের ব্রাজিলের একটি ঐতিহাসিক বর্ণনায় পুরুষাঙ্গ বড় করার উদ্দেশ্যে বিষধর সাপের কামড় ব্যবহারের কথা পাওয়া যায়।

তবে এই ধরনের ঐতিহাসিক চর্চাকে আধুনিক চিকিৎসা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং এগুলো দেখায়, পুরুষত্ব, যৌন আকর্ষণ ও শরীরের আদর্শ আকৃতি নিয়ে মানুষের চিন্তা কতটা পুরোনো।

১৬ শতকের একটি ঐতিহাসিক বর্ণনা নিয়ে ২০২৪ সালে প্রকাশিত জার্নাল অব ইউরোলোজি-এর একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের টপিরামা জনগোষ্ঠীর মধ্যে পুরুষাঙ্গের আকার বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিষধর সাপকে কামড় দিতে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। গবেষণায় এটিকে ইতিহাসে পুরুষাঙ্গের গার্থ বা আকার বৃদ্ধির নানা প্রচেষ্টার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

এর পেছনে যুক্তি হিসেবে ধারণা করা হয়েছিল, সাপের বিষে কামড়ের জায়গায় প্রচণ্ড ফোলা বা ফোলাভাব তৈরি হতে পারে। ফলে সাময়িকভাবে আকার বড় দেখাতে পারে। কিন্তু সেটিকে প্রকৃত অর্থে স্থায়ী আকার বৃদ্ধি বলা যায় না। বরং বিষধর সাপের কামড় প্রাণঘাতীও হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাপের কামড়ের কারণে যৌনাঙ্গে গুরুতর ক্ষতির নজিরও রয়েছে। এমন ঘটনায় ব্যাপক ফোলা, টিস্যু ক্ষতি, এমনকি গ্যাংগ্রিন পর্যন্ত হতে পারে।

পুরুষাঙ্গ লম্বা করার চেষ্টা ইতিহাসে আরও নানা রূপে দেখা যায়। গবেষণায় পেরুর কলোমেক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ওজন ব্যবহার করে পুরুষাঙ্গ দীর্ঘ করার চর্চার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার ভারতসহ বিভিন্ন অঞ্চলেও শরীরের ওই অংশ টেনে দীর্ঘ করার নানা প্রথার ঐতিহাসিক বর্ণনা পাওয়া যায়। এ ধরনের পদ্ধতিতে মূল লক্ষ্য ছিল শরীরের একটি নির্দিষ্ট আকৃতি অর্জন করা। অর্থাৎ আজকের প্রসাধনী উন্নয়ন-এর সঙ্গে এর উদ্দেশ্যে কিছুটা মিল থাকলেও পদ্ধতিগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।