৮ দিনের বিশেষ লকডাউনের ঘোষণা!

‘করো’নাভাই’রাসের সং’ক্রম’ণের হার ক্রমাগত বেড়ে’ যাওয়ায় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোববার (২৩ মে) থেকে ৮ দিনের ‘বিশেষ ল’কডাউ’ন’ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। শনিবার (২২ মে) রাতে করো’না মহা’মা’রি পরিস্থিতি নিয়ে ইউএনসহ জেলা প্রশাসনের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উখিয়ার ইউএনও নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

এতে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত উখিয়া থেকে কেউ বাইরে যেতে পারবে না এবং বাহির থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। সেই সাথে ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল ছাড়া সবধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলও বন্ধ থাকবে। তবে চিকিৎসার কাজে ও অসুস্থ রোগী আনা-নেয়ার ক্ষেত্রে যানবাহন চলাচল করতে পারবে।

এর আগে, টেকনাফ উপজেলায় শুক্রবার (২১ মে) থেকে ১০ দিনের ‘বিশেষ লকডাউন’ ঘোষণা করে প্রশাসন। এর পাশাপাশি সং’ক্রম’ণের হার উর্ধ্ব গতিতে থাকা উখিয়ার ৪ টি এবং টেকনাফের ১ টি রো’হি’ঙ্গা ক্যাম্পে লক’ডাউন ঘোষণা করে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় প্রশাসন।

এছাড়া দেশি-বিদেশি সংস্থা সমূহের উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ টির ক্যাম্পের অন্যগুলোতে চিকিৎসা, খাদ্য ও জ্বালানীসহ জরুরি সেবা ব্যতীত অন্যান্য কার্যক্রম সীমিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইউএনও নিজাম উদ্দিন বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজারে করো’নাভাই’রাসের সং’ক্রম’ণের হার আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে।

এতে উখিয়া উপজেলা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সং’ক্রম’ণের হার ঊর্ধ্বগতির দিকে। এ নিয়ে রোববার স্থানীয় সরকারের সিনিয়র সচিব মো. হেলালুদ্দিনের অংশগ্রহণে জেলার সব ইউএনও সহ জেলা প্রশাসনের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আগামীকাল রোববার থেকে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত বিশেষ লকডাউন ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শুক্রবার থেকে উখিয়ার ৪ টি ও টেকনাফের ১ টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলছে লকডাউন। এছাড়া দেশি-বিদেশি সংস্থা সমূহকে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ টি ক্যাম্পের অন্যগুলোতে চিকিৎসা, খাদ্য ও জ্বালানীসহ জরুরি সেবা ব্যতীত অন্যান্য কার্যক্রম সীমিত করার জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

‘লকডাউন চলাকালীন উখিয়া উপজেলার ভিতরে বা বাইরে কোন পরিবহন/ব্যক্তি যাতায়াত করতে পারবে না। অর্থাৎ উখিয়া থেকে পার্শ্ববর্তী টেকনাফ বা জেলা সদরে কোনও ব্যক্তি পরিবহন যাতায়াত বন্ধ থাকবে। ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল খোলা থাকবে। এছাড়া হাটবাজারসহ সবধরনের দোকানপাট বিকাল ৫ টা পর বন্ধ থাকবে। তবে অসুস্থ রোগী পরিবহন ও চিকিৎসার কাজে যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকবে।’

ইউএনও বলেন, সভার পরপরই বিকেল থেকে উপজেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে পুরো উপজেলা ব্যাপী মাইকিং করে প্রশাসনের লকডাউন ঘোষণার ব্যাপারে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের সংশ্লিষ্টদেরও সিদ্ধান্ত কার্যকরে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এমনকি প্রথম দিন থেকে মাঠে থাকবে ভ্রমমাণ আদালতও।

নিজাম উদ্দিন আরও জানান, নতুন করে ১০ দিনের বিশেষ লকডাউন ঘোষণার ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের জারি করা পরিপত্র এখনও হাতে আসেনি। আশা করছেন রাতের মধ্যে পৌঁছাবে। এটি হাতে আসার পর গণ বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*