৪ রানে হেরে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ

এই ম্যাচে ৮৫ রানে ৭ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর আশা নিভেই গিয়েছিল। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাট হাতেও নাহিদা আক্তার ওই পরিস্থিতি থেকে জাগিয়ে তুললেন দলকে। ম্যাচ গেল শেষ ওভারে। কিন্তু নাহিদা অপরাজিত থেকে গেলেও তাকে সঙ্গ দিতে পারলেন না কেউ। অসাধারণ এক জয় হাতছাড়া হওয়ার বিষাদে আক্রান্ত হলো বাংলাদেশ।

আজ শুক্রবার মাউন্ট মাঙ্গানুইতে ইতিহাস গড়ার দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেনি বাংলাদেশ। ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর এবার শক্তিশালী ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে মাত্র ৪ রানে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ জিতলে নিশ্চিতভাবেই হতো বাংলাদেশের মেয়েদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা জয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দেড়শোর নিচে আটকে দেওয়ার পর ব্যাটিংয়েও সেই পথে খুব ভালোভাবেই ছিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। কিন্তু দারুণ অবস্থানে থেকে আচমকা পথ হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। পরে সালমা খাতুন-নাহিদা আবার জাগিয়েছিলেন সম্ভাবনা, শেষ ওভারে গিয়ে আর পারা যায়নি।

এদিকে ব্যবহৃত উইকেটে আগে বোলিং নিয়ে নাহিদা- সালমাদের ঝলকে শক্তিশালী ক্যারিবিয়ানদের ১৪০ রানে আটকে দিয়েছিল লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। রান তাড়ায় এক পর্যায়ে ২ উইকেটে ৬০ রান থেকে দ্রুত উইকেট হারিয়ে পরে থামতে হয়েছে ১৩৬ রানে। বাংলাদেশের হন্তারক ক্যারিবিয়ান দুই স্পিনার।

অফ স্পিনার হেইলি ম্যাথিউজ ১৫ রানে নেন ৪ উইকেট। লেগ স্পিনার এফি ফ্লেচার ২৯ রানে পান ৩ উইকেট। ১৪১ রানের লক্ষ্য বলেই আশাটা চওড়া ছিল বাংলাদেশের। সেই পথে শুরুটা ভাল হয়নি। ম্যাথিউজের বলে প্রথম ওভারেই ফেরেন শামীমা সুলতানা। শারমিন আক্তার সুপ্তা এদিনও পেয়েছিলেন ভাল শুরু।

ফারজানা হক পিংকির সঙ্গে তার জুটি জমে যাওয়ার আভাস ছিল। কিন্তু ২৯ রানের জুটির পর সুপ্তাও ম্যাথিউজের অফ স্পিনে স্লিপে ক্যাচ দিলে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এই ওপেনিং ব্যাটার করেন ২৫ বলে ১৭। এরপর দলের দুই মূল ভরসা ফারজানা ও অধিনায়ক নিগার পেয়ে যান জুটি।

শুরুর ধাক্কা সামলে তাদের ব্যাটেই ভরসা খুঁজছিল দল। ফারজানা থিতু হয়ে খেলছিলেন সাবলীলভাবে। তবে কিছুটা মন্থর খেলায় নিজের উপর চাপ নিয়ে থাকবেন। লেগ স্পিনার এফি ফ্লেচারকে এক বাউন্ডারি মারার পর আরেকটির চেষ্টায় স্লগ সুইপে গিয়ে বল ব্যাটে নিতে পারেননি, হয়ে যান বোল্ড।

রুমানা আহমেদ এসেই ফিরে যান এফির বলে। রিতু মনিরও একই অবস্থা। স্কোর ওই ৬০ রানে থাকতেই পর পর ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। নিগার এক প্রান্ত আগলে রেখেছিলেন। তার ৭৭ বলে ২৫ রানের লড়াই থামেন ম্যাথিউজ। ফাহিমা খাতুন টিকতে পারেননি ২ বলের বেশি।

৮৫ রানে পড়ে যায় ৭ উইকেট। অভিজ্ঞ সালমা খাতুন নেমে ইতিবাচক অ্যাপ্রোচে কিছু রান বাড়িয়ে গেছেন। কিন্তু তাকে কিছুটা সঙ্গ দিয়ে আশা বাড়িয়েছিলেন নাহিদা আক্তার। তবে ৪০ বলে ২৩ করে সালমা বিদায় নিলে সেই আশাও নিভে যায়। নাহিদা-জাহানারা নিভু নিভু আশা ফের জাগিয়েছিলেন।

৪৬তম ওভারে জাহানারার বিদায় স্তব্ধ করে দেয় টাইগ্রেস ক্যাম্প। নাহিদা ছিলেন অবিচল। চেষ্টা চালিয়েছেন জানপ্রাণ দিয়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৬৪ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থেকে যান। এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে যাওয়া ক্যারিবিয়ানরা সতর্ক শুরুর পর প্রথম উইকেট হারায় পেসার জাহানারা আলমের বলে। ডাদেন্দ্রা ডটিনকে তুলে নেন তিনি।

সালমা-নাহিদা আক্তার মিলে প্রচডণ চাপে ফেলে দেন ওয়েস্ত ইন্ডীজকে। একের পর এক ডট বলে বেধে রাখেন ক্রিজে। তাতে মিলে উইকেটও। নাহিদা ফেরান হেইলি ম্যাথিউজকে, রাশেদা উইলিয়ামসকে ছাঁটেন সালমা। এদিকে উইন্ডিজ কাপ্তান স্টেফানি টেইলর বাঁহাতি স্পিনার নাহিদার দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোকা বনে হন বোল্ড।

এদিন বাংলাদেশের ফিল্ডিংও হয় দারুণ। শিনলি হেনরিকে দারুণ থ্রোতে রান আউট করেন ফারজানা। ৭০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে বসে উইন্ডিজ। বাকি পথে কিপার-ব্যাটার শেমেইনি ক্যাম্পবেল। ১০৭ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে নিয়ে যান দেড়শোর কাছে। ওই রানই অবশ্য পরে হয়ে যায় যথেষ্ট।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*