২ আসনেই হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল

দুই আসনের উপ-নির্বাচনে হলফনামায় গড়মিল পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম।


রোববার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে এ আদেশ দেন তিনি।জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গড়মিল পাওয়া গেছে। সেখানে কয়েকজন ভোটারের সমর্থন না পাওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

মনোনয়নপত্র বাতিল প্রসঙ্গে হিরো আলম বলেন, আমি আগের বার যে ভুল করেছি সে ভুলটা এবার করিনি ৷ তবুও আমার দুটো আসনেই মনোনয়ন বাতিল করা হলো৷ আমি আজ রাতে ঢাকায় যাবো ও আগামীকাল রিট করব৷

এর আগে, বিএনপির দুই সংসদ সদস্য পদত্যাগ করার পর বগুড়ার দুটি আসন থেকেই উপ-নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন হিরো আলম। গত ২ জানুয়ারি দুপুরে বগুড়ার নির্বাচন অফিস থেকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসানের কাছ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি।



ওইদিন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে হিরো আলম জানান, বগুড়া ৬ ও ৪ আসনে আমি এবার নির্বাচন করব। যেহেতু আমার বাসা সদরে তাই এলাকাবাসী চায় আমি সদরে ভোট করি। তাই সদরে মনোনয়নপত্র কিনলাম। এছাড়া যেহেতু বগুড়া-৪ আসনে আমি একবার নির্বাচন করেছিলাম। তাই সেখানেও এবার আরও একবার নির্বাচন করতে চাই। আমার সদরের এলাকাবাসী এবং কাহালু নন্দীগ্রামের এলাকাবাসীর কারও যেন মন খারাপ না হয়, তাই দুই আসন থেকেই এবার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করছি, এবার সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) দুটি আসন থেকেই সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন তিনি। কোনো আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না বলে জানিয়েছিলেন হিরো আলম। একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও আলোচিত হিরো আলম বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী (সিংহ মার্কা) হয়েছিলেন। ওইসময় তিনি ৬৩৮ ভোট ভোট পান। এতে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তবে ভোটের মাঝমাঠে গিয়ে অবশ্য তিনি নির্বাচন বর্জন করেন।

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনেই হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। আপিল করলে নির্বাচন কমিশন শুনানির পর তা বাতিল করে। পরে উচ্চ আদালতের তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে তৎকালীন বগুড়ার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের হাতে পছন্দের ‌‘সিংহ’ প্রতীক তুলে দেন।

বগুড়া সদরের এরুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা হিরো আলম শৈশবে চানাচুর বিক্রি করতেন। পরে তিনি সিডি বিক্রি এবং ডিশ সংযোগের ব্যবসা করেন। নিজেই মিউজিক ভিডিও তৈরি করে ডিশ লাইনে সম্প্রচার শুরু করেন। এভাবে হিরো আলমের তৈরি মিউজিক ভিডিও এবং ইউটিউব সিনেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনায় আসেন।

প্রসঙ্গত, বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১১ ডিসেম্বর বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মো. সিরাজ ও বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন স্পিকারের কাছে পদত্যাগ করেন। ফলে আসন দুটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ১ ফেব্রুয়ারি ইভিএমে ভোট গ্রহণের জন্য তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ৫ জানুয়ারি। আগামী জানুয়ারি ১৫ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

Sharing is caring!