২০ বছর পর সৌরভের আউট নিয়ে ইনজামামের স্বীকারোক্তি

ক্রিকেটকে বলা হয় ভদ্রলোকের খেলা। আর তাই আইসিসির নিয়মসিদ্ধ মানকাড আউট করেও সমালোচনার শিকার হতে হয় রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মত ক্রিকেটারদের। কখনো কখনো ক্রিকেটের ‘স্পিরিট অব গেম’ উঠে যায় নিয়মকানুনের উর্ধ্বে।

পাকিস্তানের ক্রিকেটে ভদ্রলোক হিসেবে খ্যাত যে কয়জন, তাদের একজন ইনজামাম উল হক। এবার সেই ইনজামাম ফাঁস করলেন নতুন গোমর। ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের বহুল আলোচিত এক টেস্টে সৌরভ গাঙ্গুলির আউট হওয়া নিয়ে সন্দেহ ছিল বলে জানিয়েছেন ইনজামাম।

১৯৯৯ সালের জানুয়ারিতে চেন্নাইয়ে প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হয় ভারত ও পাকিস্তান। জয়ের জন্য ভারতের প্রয়োজন ২৭১ রান। শেষপর্যন্ত পাকিস্তান পেল ১২ রানের জয়। শচীন টেন্ডুলকারের (১৩৬) সাথে আর একজন ব্যাটসম্যান দাঁড়িয়ে যেতে পারলে হয়ত ঐ ম্যাচ মুঠোয় পুরতো ভারত। কিন্তু শচীনের যোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠতে পারেননি কেউ।

তাতে যে পুরোটাই পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের অবদান, এমনটি বলার সুযোগ নেই। ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ বল মোকাবেলা করা সৌরভ গাঙ্গুলি উইকেটে সেট হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। সাকলায়েন মুশতাকের বলে তাকে নাকি তালুবন্দী করেছেন উইকেটরক্ষক মইন খান।

অন্তত স্কোরকার্ড এমনটিই বলে। কিন্তু ইনজামামের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানিরা জোরালো আবেদন করে আম্পায়ারের কাছ থেকে আউট আদায় করে নিলেও ঐ ক্যাচটি সন্দেহজনক ছিল। সন্দেহজনক ক্যাচে জোরালো আবেদনের নজির অবশ্য পাকিস্তানের কাছ থেকে নতুন নয়!

সম্প্রতি রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সাথে একটি অনলাইন আড্ডায় ইনজামাম বলেন, ‘এই ঘটনায় দুটি মানুষ জড়িয়ে ছিল। একজন আজহার মেহমুদ, অন্যজন মইন খান। সৌরভের ব্যাট ছুঁয়ে যাওয়া বল প্রথমে আটকায় আজহার, এরপর মইন ক্যাচ ধরে। আজহার ঐ টেস্টে আমার বদলি ফিল্ডার হিসেবে নেমেছিল। আমি মাঠে ছিলাম না। তবে আমি এটুকু বলতে পারি, ঐ ক্যাচটা ছিল সন্দেহজনক।’

ইনজামামের এই দাবির পর ভারত ও পাকিস্তানের গণমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের চ্রায়ত বৈরিতা নতুন কিছু নয়। ইনজামামের এই মন্তব্যের পর কোথাকার জল কোথায় গড়ায়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *