১৮ বছরের মধ্যে বুড়োদের দেশ হবে বাংলাদেশ!

বাংলাদেশ আগামী ১৮ বছরের মধ্যেই ৬৫ বছরের বেশি মানুষের দেশে পরিণত হবে “প্রতিদিনেই নবীন বাড়বে, প্রবীণ হবে সবাই”, কবির ভাষায় নবীনের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়লেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার উল্টোটাই ঘটার ইঙ্গিত দিয়েছে ইউনিসেফ।

মে মাসে প্রকাশিত এক নীতিপত্রে ইউনিসেফ জানিয়েছে, আগামী দুই থেকে আড়াই দশকের মধ্যে বাংলাদেশ প্রবীণপ্রধান দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। এই তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশ ২০২৯ সালে “প্রবীণপ্রবণ” দেশ এবং ২০৪৭ সালে “প্রবীণপ্রধান” দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে।

ইউনিসেফ বলছে, বাংলাদেশ আগামী ১৮ বছরের মধ্যেই ৬৫ বছরের বেশি মানুষের দেশে পরিণত হবে। আর এর ফলে কমবে অর্থনীতিতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বাড়তি সুবিধা পাওয়ার সুযোগ।জনসংখ্যাবিদদের মতে, কোনো দেশের জনসংখ্যার ৭ শতাংশ বা তার বেশি সংখ্যক মানুষের বয়স ৬৫ বছরের উপরে হলে তাকে প্রবীণপ্রবণ সমাজ (এজিং সোসাইটি) বলা হয়৷

ইউনিসেফের মতে, দেশে ১৯৭৮ সাল থেকে কর্মক্ষম মানুষের হার বাড়তে থাকলেও তা আর এক যুগ পর্যন্ত থাকবে। এরপর ২০৩৩ সাল থেকেই দ্রুত কমতে থাকবে কর্মক্ষম জনসংখ্যার হার। অন্যদিকে কোনো দেশের জনসংখ্যার ১৪ শতাংশ বা তার বেশি সংখ্যক মানুষের বয়স ৬৫ বছরের উপরে হলে তাকে প্রবীণপ্রধান সমাজ (এজড সোসাইটি) বলা হয়।

নির্ভরশীল জনসংখ্যার হার বাড়লেও তার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে বিশেষ কয়েকটি অর্জন। সেগুলো হলো–১৯৯২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃ’ত্যুর হার কমেছে ৬৭ শতাংশ।১৯৭৫ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নারীদের গড় প্রজনন হার কমেছে গড়ে ৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের বয়স কাঠামোয় পরিবর্তন আসায় ১৯৮০ সালে দেশে তরুণ জনসংখ্যার হার বেশি থাকলেও ২০১৫ সালে শিশুদের হার কমে যাওয়ায় ২০৫০ সাল নাগাদ বেড়ে যাবে বয়স্কদের হার। আর এই বিশাল সংখ্যক বয়স্ক জনগোষ্ঠীর কারণে জাপানের মতো একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে বাংলাদেশকেও।

সংবাদপত্র প্রথম আলোতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানান, সুযোগের সদ্ব্যবহার করলে মানুষ প্রবীণ হওয়ার আগেই ধনী হতে সক্ষম। আর এই কথাটি কোনো দেশের বেলায়ও যে এক তার বাস্তব উদাহরণ জাপান। বাংলাদেশের হাতে এখনও এক যুগের বেশি সময় আছে প্রবীন হওয়ার আগেই এই জনসংখ্যাকে কাজে লাগানোর।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*