১৫১ রানের লক্ষ্য দিল তামিমরা

দলে স্বীকৃত ওপেনার আছেন আসলে ৪ জন। আব্দুল মজিদ, অভিষেক মিত্র, পারভেজ হোসেন ইমন এবং শামসুর রহমান শুভ।প্রথম দু’জনার মধ্যে অভিষেক মিত্রকে প্রথম ম্যাচ খেলানো হয়েছে; কিন্তু রান পাননি। তাই দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই প্রথা ভেঙ্গে নিচ থেকে মাহমুদুল হাসান লিমনকে প্রমোশন দিয়ে পারভেজ ইমনের ওপেনিং পার্টনার করা হয়।

সে ম্যাচেও ২৬ বলে ২ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে ৩৮ রানের এক কার্যকর ইনিংস উপহার দেন মাহমুদুল হাসান লিমন। আজ শনিবার সন্ধ্যায় প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষেও পরিবর্তিত ওপেনার হিসেবে মাহমুদুল হাসান লিমনকে খেলিয়েছে মোহামেডান।

সেই ম্যাচের মত গিয়ে তিরিশের ঘরে পৌছাঁনোর আগেই ১৮ বলে ২৩ রানের এক ইনিংস খেলেছেন মাহমুদুল হাসান লিমন। তার ওপেনিং পার্টনার পারভেজ ইমনও মোটামুটি হাত খুলে খেলেছেন। তাতেই প্রথম উইকেটে ৪০ রানের (৪.৩ ওভারে) কার্যকর জুটি পায় মোহামেডান।

কিন্তু এমন সুন্দর সূচনার পরও মোহামেডান বড়সড় পুঁজি গড়তে পারেনি। সেটা যে শুধুই মোস্তাফিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা বোলিং নৈপুণ্যের কারণেই, তা নয়। শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে হাতে পর্যাপ্ত উইকেট থাকার পরও শেষ ৫ ওভারে হাত খুলে খেলতে না পারার চরম মাশুল দিয়েছে মোহামেডান।

প্রাইম ব্যাংক অফস্পিনার নাহিদুল ইসলামের বলে মাহমুদুল হাসান লিমন ডিপ মিডউইকেটে রনি তালুকদারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পর থেকেই আসলে রানের গতি কমতে থাকেএকমাত্র পারভেজ ইমন ছাড়া আর কেউ হাত খুলে খেলতে পারেননি। ওপেনার পারভেজ ইমন উইকেটের চারিদিকে শটস খেলে রানের গতি সচল রাখেন।

পেস ও স্পিনে প্রায় সমান স্বচ্ছন্দে খেলে চার-চারটি ছক্কাও হাঁকান পারভেজ ইমন।কিন্তু তারপরও অভিজ্ঞ শামসুর রহমান শুভ তার সাথে তাল মেলাতে না পারায় মাঝখানে মোহামেডানের রানের গতি খানিক স্লথ হয়ে যায়। অপরপ্রান্তে শুভর ব্যাটের স্লথ গতি দেখে পারভেজ ইমন হাত খুলে খেলতে গিয়ে হাফ সেঞ্চুরি করেই সীমানার কাছে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

৩৭ বলে ফিফটি পূর্ণ হয় চট্টগ্রামের ড্যাশিং ওপেনার পারভেজ ইমনের। ১৪ নম্বর ওভারে লেগস্পিনার অলক কাপালিকে লং অনের ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে সীমানার খুব কাছে ধরা পড়ে সাজঘরে ফেরেন ইমন।

এরপর শামসুর রহমান শুভর সাথে জুটি বাঁধেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাট হাতে সময়টা ভাল কাটছে না তার। দলের প্রথম ম্যাচে ২৯ করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে আউট হয়েছেন শূন্য রানে। আজ সাকিব পেয়েছেন রান করার অনুকুল পরিবেশ। যখন উইকেটে যান তখনো ইনিংসের বাকি ছিল ৪১ বল। হাতে ৮ উইকেট।

হাত খুলে খেলার আদর্শ প্লাটফর্ম; কিন্তু তারপরও সাকিব দলকে তেমন কার্যকর কিছু দিতে পারেননি। আউট হয়ে গেছেন ১৫ বলে ২০ রান করে।পেসার শরিফুলের বলে ১৭ রানে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিল্ডার নাহিদুল হক তা ধরে রাখতে পারেননি।

তবে ওই ওভারেই মোস্তাফিজের উইকেট সোজা বলকে সরে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন মোহামেডান ক্যাপ্টেন।হাতে পর্যাপ্ত ওভার ও উইকেট, মজবুত ভিতের ওপর দাঁড়িয়েও রানের চাকা সচল করতে পারেননি মোহামেডান মিডল ও লেট অর্ডাররা। এর মধ্যে ইনিংসের ১৮ নম্বর ওভারেই সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সাকিব বাহিনীর।

মোস্তাফিজের করা ওই ওভারেই মোহামেডান হারায় ৩ উইকেট। আউট হন অধিনায়ক সাকিব, অভিজ্ঞ পারফরমার শামসুর রহমান শুভ আর অলরাউন্ডার শুভাগত হোম। হাতে অনেক উইকেট থাকার পরও শুভ ৩৪ বলে ৩৩ রানের ইনিংসটি দলের কোন কাজেই আসেনি । বরং ক্ষতিই হয়েছে মোহামেডানের।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*