হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আলোচিত ২ নেতা

হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনার পর আলোচিত হেফাজতে ইসলামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির দুই নেতা সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মোবারক উল্লাহ কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। সোমবার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনের ঘোষিত ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে মাওলানা সাজিদুর রহমানকে যুগ্ম মহাসচিব এবং মুফতি মুবারক উল্লাহকে সম্মানিত সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে সাজিদুর রহমান হেফাজতের সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির নায়েবে আমির ছিলেন। সোমবার কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণাকালে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাজিদুর রহমানকে বর্তমান মহাসচিবের পাশে দেখা গেছে।

তবে অভিযোগ আছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক তাণ্ডবের ঘটনার পর জেলার বিশিষ্টজনেরা গ্রেফতারের দাবি তোলার পর থেকেই হেফাজত নেতা সাজিদুর রহমান ও মোবারক উল্লাহ অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন।

এদিকে তাণ্ডবের ঘটনায় মাওলানা সাজিদুর রহমান ও মোবারক উল্লাহর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সদর থানায় একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পুলিশ এখন পর্যন্ত এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি। এ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী তার ফেসবুক পেজে গণমানুষের পক্ষে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে একাধিক বার মন্তব্য করেছেন।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে হেফাজতের তাণ্ডবের ঘটনার পর থেকে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে। গত ২ জুন সাজিদুর রহমান ও মোবারক উল্লাহকে গ্রেফতারের দাবিতে সচেতন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটি।

এদিকে নবগঠিত কমিটিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হেফাজতের দুই শীর্ষ নেতা স্থান পাওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জেলা আওয়ামীলীগ। এ ব্যাপারে দলটির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, ওই দুই নেতা কোথায় জায়গা পেল না পেল এ নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঘটনায় অপরাধী।

এ ঘটনায় তাদেরকে গ্রেফতার করতে হবে। তাদের অপরাধের ধরণ অনুযায়ী শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এটাই আমাদের আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে দলগত প্রত্যাশা। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত তিনদিন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।

তাণ্ডব চলাকালে তারা সরকারি-বেসরকারি অন্তত অর্ধশত স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সব ঘটনায় মোট ৫৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাগুলোতে এজাহারনামী আসামির সংখ্যা ৪১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৩০শ থেকে ৩৫ হাজার জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ গত আড়াই মাসে অন্তত পাঁচ শতাধিক আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*