হালাল বিনোদন নিয়ে যা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ

সুখী জীবনের জন্য চাই আনন্দ ও বিনোদন। বিনোদনহীনতার কারণে মানুষ ভোগে হতাশায়। আর হতাশা থেকে তৈরি হয় ব্যর্থতা। ইসলাম পরিপূর্ণ জীবনবিধান। তাই অনেকেরই জানার আগ্রহ, বিনোদন সম্পর্কে ইসলাম কী বলে? কিভাবে বিনোদনের মাধ্যমে মানসিক প্রশান্তির কথা বলা হয়েছে শান্তির এই ধর্মে।

এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহের সঙ্গে। তিনি বলেন, ইসলামে যেকোনো নিষ্পাপ আনন্দ ও বৈধ বিনোদন সুন্নত। অবসর সময়ে কিভাবে বিনোদন নিতে হবে সে ব্যাপারে নবীজি (সা.) দিয়ে গেছেন সঠিক নির্দেশনা।

গল্প, কৌতুক, হাস্যরস, খেলাধুলা, কবিতা আবৃত্তি, পদ্য প্রণয়ন, গদ্যপাঠ, সাহিত্যরচনা কিংবা সংগীত সব বিষয়েই দেওয়া হয়েছে সঠিক পথ। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইসলাম ধর্মে জীবনের সব প্রয়োজন পূরণ করা হয়েছে। শুধু বিধিবিধান মানার নাম ইসলাম নয়।

আমাদের নবীজি গল্প, কৌতুক, হাস্যরস, খেলাধুলা সবই করতেন। তবে তার গল্প বা কৌতুকে অসত্য বলে কিছু ছিল না। মসজিদে নববী নির্মাণের সময় তিনি ছন্দের তালে তালে কবিতা পাঠ করতেন। সাহাবীরাও কষ্ট লাঘবের জন্য তার সঙ্গে গেয়ে উঠতেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম হাস্যরসকে অবশ্যই অনুমোদন করে। তবে কিছু নির্দেশনা আছে। যেমন কাউকে বিদ্রূপ বা ঠাট্টা করা যাবে না, ভয় দেখানো যাবে না, ক্ষতি করা যাবে না, পশুপাখি কষ্ট পায় এমন কিছু করা যাবে না। আজকাল মানুষকে হাসানোর জন্য অহেতুক মিথ্যা কথা বা মিথ্যা গল্প শোনানো হয়।

আমাদের নবীজিও মানুষকে হাসাতেন তবে সেটা সত্য কথা বা গল্পের মাধ্যমে। সত্য কথা বলে কৌতুক করলে ইসলাম অবশ্যই সেটাকে অনুমোদন দেয়। আধুনিক যুগে আনন্দ বিনোদনের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো সংগীত। আবার অনেকেরই সময় কাটে ভিডিও গেমস, টিকটক, ইউটিউব বা ভ্লগিং করে।

এসব বিষয়ে ইসলামের কী নির্দেশ? এ প্রসঙ্গে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, শারীরিক ব্যায়াম বিষয়ক বিনোদনকে ইসলাম অনেক উৎসাহিত করে। নবীজি নিজেও এ ব্যাপারে উৎসাহ দিয়ে গেছেন। নবীজির সময়ে ইথোপিয়ানরা মসজিদ প্রাঙ্গণেই খেলাধুলা করতেন এবং এটার অনুমোদন ছিল। কিন্তু আমাদের সমাজে হয়তো মানুষ এটাকে খুব বাজেভাবে দেখবে।

তিনি বলেন, টিকটকসহ অন্যান্য অ্যাপের ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত। এসব মূলত অশ্লীলতা, মিউজিক, বেহায়াপনা, অন্যের অধিকার খর্ব করায় পরিপূর্ণ থাকে। এসব বিষয়কে ইসলাম অনুমোদন দেয় না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো যদি আপনি ব্যবহার করতে চান তাহলে শরিয়া বিধি মেনে ব্যবহার করতে হবে।

গানের কথায় যদি খারাপ কিছু না থাকে, আপত্তিকর মন্তব্য না থাকে, দেশ, সমাজ, মানবতা, আল্লাহ ও তার নবীর গুণগান থাকে তাহলে শুনতে পারেন। তবে কোনো বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না, এটা ইসলামে নিষিদ্ধ। প্রাকৃতিক শব্দ, মুখের করা মিউজিক এগুলো ব্যবহার করা যাবে।

খেলাধুলার ব্যাপারেও ইসলাম বেশ উদার। বিনোদনের ক্ষেত্রে শুধু যে পুরুষদেরই অনুমতি দিয়েছে তা নয়। রয়েছে নারীদের জন্যেও দিক নির্দেশনা। এছাড়া স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বের হওয়া সুন্নাত বলে জানান এই ইসলামী চিন্তাবিদ। তিনি বলেন, নারীদের বিনোদনের ব্যাপারে ইসলাম পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছেন।

নবীজি সারাদিন ব্যস্ত থেকে বাসায় এসেও কখনো গুরুগম্ভীর হয়ে থাকতেন না। তিনি স্ত্রীর সঙ্গে দৌড় প্রতিযোগিতা করতেন। একবার নবীজির স্ত্রী হেরে যাওয়ার পর মন খারাপ করেছিলেন। তাই তিনি পরবর্তীতে আবার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ইচ্ছে করেই হেরে গিয়েছিলেন যাতে তার স্ত্রী খুশি হয় ও আনন্দ পায়।

শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, নবীজির আমলে ইথোপিয়ানরা মসজিদের আঙ্গিনায় খেলাধুলা করতেন। একবার বিবি আয়েশা নবীজির কাছে খেলা দেখতে চাওয়ার আবদার করেন। নবীজি তাকে খেলা দেখতে নিয়ে গেলেন। তখন বিবি আয়েশা নবীজির পেছনে বসে কাঁধে থুতনি রেখে খেলা দেখেছিলেন।

নবীজি তাকে ততক্ষণ নাগাদ খেলা দেখতে দিয়েছিলেন যতক্ষণ না বিবি আয়েশা নিজ থেকে বাসায় যেতে চাইলেন। এ সময় নবীজি বিবি আয়েশার পর্দার সকল বিধানই রক্ষা করেছিলেন। এক হাদিসে বিবি আয়েশা বলেন, হে পৃথিবীর যুবকরা তোমাদের স্ত্রীদের বিনোদন ও চাহিদার প্রতি তোমরা অবশ্যই খেয়াল রাখবে।

এর মানে হলো নারীরা তাদের গণ্ডির ভেতর থেকে অবশ্যই বিনোদন উপভোগ করতে পারবে তবে অবশ্যই শরিয়ার বিধি মেনে। আমাদের মা, বোন, স্ত্রী সবারই বিনোদনের অধিকার আছে। ইসলামই তাদের সে অধিকার দিয়েছে।

আধুনিক যুগে বিনোদন প্রত্যাহিক জীবনেরই একটা অংশ। কল্যাণকর যেকোনো বিনোদনকেই বৈধ বলা হয়েছে ইসলাম ধর্মে। তবে এমন আনন্দকে পরিত্যাগ করতে বলা হয়েছে যার পরিণতি হতে পারে বেদনার। এছাড়া জ্ঞানচর্চাকে বলা হয়েছে সর্বোত্তম বিনোদন।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*