সেই যন্ত্রণা এখনও তাড়া করে বেড়ায় মেসিকে

২৮ বছরের খরা ঘুচল। সেই মাহেন্দ্র ক্ষণ ধরা দিল। বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেন আর্জেন্টাইনরা। বড় কোনো আসর জিতে শিরোপা বগলদাবা করলেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মেসির হাতে শিরোপা এনে দিতে মুখিয়ে ছিলেন তার সতীর্থরা। সেই সত্যি পূরণ হলো রোববার।

২০১৬ সালের সেই যন্ত্রণা এখনও তাড়া করে বেড়ায় মেসিকে। না, রোববার সেটি পুনরাবৃত্তি ঘটতে দিলেন না তার সতীর্থরা।ফাইনালে মেসি গোল করতে পারেননি, তবে খেলেছেন অসাধারণ। জয়ের নেপথ্য নায়ক হয়েই মাঠ ছাড়লেন। আর তাই মারাকানার সব আলো তার দিকেই।

এই জয় মেসিদের কাছে বিশেষ কিছু। হবে না কেন? চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলকে যে নাস্তানাবুদ করে ছেড়েছে তারা। গত কয়েক বছরে যাদের বিপক্ষে খেলে জয়ের স্বাদ পূরণ হয়নি, শনিবার রাতে সেই স্বপ্নের জয়ই ধরা দিল।

মেসির কাছে দেশের হয়ে প্রথম মেজর ট্রফি জয়ের আনন্দটাই যে সম্পূর্ণ আলাদা। আর সেটা যদি আসে বেশ কয়েকবার স্বপ্নভঙ্গের পর তাহলে তো কথাই নেই। লিওনেল মেসির কোপা আমেরিকা শিরোপা জয়ের স্বপ্নের শুরু ২০০৭ সালে। সেবার দক্ষিণ আমেরিকার সবচেয়ে মর্যাদাকর এ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল ব্রাজিল।

কিন্তু তরুণ মেসির ট্রফি জয়ের স্বপ্ন গুড়িয়ে দিয়েছিল সেলেসাও শিবির।পরে ২০১৫ ও ২০১৬ টানা দুবার হতাশ হতে হয় আর্জেন্টাইন এ ফুটবল জাদুকরকে। মেসির দল দু’বারই ফাইনালে এসে শিরোপা হাতছাড়া করে চিলির কাছে।

২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে পেনাল্টি শুটআউট থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মেসি। এটি সবচেয়ে বেশি পুড়িয়েছে তাকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশকে কী এনে দিতে পেরেছেন, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। জুটেছিল চোকার তকমা।

সেই ম্যাচের পর রাগে দু:খে অভিমানে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন লিওনেল মেসি।যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেদিন কোপার ফাইনালে টাইব্রেকারে চিলির কাছে ৪-২ গোলে হেরে যায় আর্জেন্টিনা।

খেলা শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে মেসি বলেছিলেন, ‘আমার জন্য জাতীয় দল আর নয়। আমি যা পারি, মনে হয় করে ফেলেছি। চ্যাম্পিয়ন হতে না পারা আমার জন্য কষ্টের।’

তিনি বলেন, ‘সামর্থ্যের পুরোটা দিয়ে আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিতে পারিনি। কোপার শিরোপাটা না পাওয়া সত্যিই আমার হৃদয় ভেঙে দিয়েছে। সম্ভবত এটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’

তিনি বলেন, ‘নিজের সঙ্গে বারবার কথা বলেছি এবং অনেক মানুষও এমনি চায়। আমি সত্যিই ক্লান্ত। কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিতে হল, কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন।’যদিও অবসরের ঘোষণার পর দ্রুতই ফিরে এসেছেন এবং পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।আজ হয়তো মেসি ২০১৬ সালের ফাইনালের সেই যন্ত্রণা ভোলার চেষ্টা করবেন।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*