সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন খুলনা

দ্বিতীয় দিনের পরিবহন ধর্মঘটে খুলনায় ঢুকতে পারছে না দূরপাল্লার বাস। চলছে না লঞ্চও। শ্রমিক নেতাদের দাবি, মহাসড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধের দাবিতে তাদের এই কর্মসূচি। বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে ধর্মঘটের কোনো সম্পর্ক নেই।

খুলনার সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে বাস। বন্ধ রয়েছে পরিবহনের কাউন্টারগুলো। মহাসড়কে ইজিবাইক, মাহেন্দ্রা, সিএনজি, নসিমনসহ অবৈধ যানবাহন বন্ধের দাবিতে খুলনায় ঘুরছে না গাড়ির চাকা।

শুক্রবার সকাল থেকে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে যাত্রীদের আনাগোনা থাকলেও কোনো বাস ছেড়ে যায়নি, আবার কোনো বাস খুলনাতে প্রবেশ করেনি। এতে যাত্রীরা পড়েছেন দুর্ভোগে।

একই সঙ্গে লঞ্চ শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, নৌরুটে চাঁদাবাজি বন্ধসহ ১০ দফা দাবিতে দুই দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। এতে সকাল থেকেই ভোগান্তিতে নদী পথের যাত্রীরা।

এদিকে বাস ও যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধের পর এবার বন্ধ করা হয়েছে নগরে প্রবেশের প্রধান দুই খেয়াঘাট। শুক্রবার রাতে যাত্রীপ্রতি ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য রূপসা ও জেলাখানা ঘাট বন্ধের ঘোষণা দেন নৌকা মাঝি সমিতির নেতারা। এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।

এদিকে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, শনিবারের বিভাগীয় সমাবেশ কেন্দ্র করেই এসব ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করে সংগঠনের নেতারা জানান, রুটি রুজির জন্যই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।

খুলনা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সহ-সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন জানান, সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধভাবে নছিমন, করিমন, মাহেন্দ্রা, ইজিবাইক চলাচল করছে। এতে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ায় লোকসান গুণতে হচ্ছে। তাই ২০ অক্টোবরের মধ্যে এসব অবৈধ যান চলাচল বন্ধ না হওয়ায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। এর সাথে সমাবেশের কোনো সম্পর্ক নেই।

খুলনার বিআইডব্লিউটিএ পুরাতন লঞ্চ ঘাট থেকে প্রতিদিন ভোর ছয়টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ছয়টি লঞ্চ ছেড়ে যায়। আর খুলনা সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন শতাধিক যাত্রীবাহী বাস বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যায়।

Sharing is caring!