সর্বভারতীয় রাজনীতিতে মুসলিম নেতা ওয়াইসীর উত্থান

ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে উত্থান ঘটেছে আসাদউদ্দিন ওয়াইসীর। সর্বত্র চলছে ওয়াইসীকে নিয়ে চর্চা। ভোটের রাজনীতিতে কোথাও কোথাও প্রভাবক রূপে আবির্ভাব ঘটছে ওয়াইসীর। ওয়াইসী ছিলেন আঞ্চলিক দলের নেতা। কিন্তু ক্রমেই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে ঘটছে ওয়াইসীর উত্থান।

দক্ষিণের হায়দারাবাদ থেকে উত্তরের বিহার হয়ে পূর্বের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করছেন মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসী। পূর্বে নিজাম শাসিত হায়দারাবাদ ছিল অন্ধ প্রদেশের অংশ ও রাজধানী। এখন সেটি নতুন রাজ্য তেলেঙ্গানার মূল কেন্দ্র।

হায়দারাবাদের রাজনীতিতে বংশানুক্রমিক কর্তৃত্ব ওয়াইসীদের। ওয়াইসীর পিতাও বার বার সংসদে জিতেছেন। ওয়াইসী বহু বছর ধরে সংসদ সদস্য। ওয়াইসীর ভাই আকবরউদ্দিন ওয়াইসীও উদীয়মান নেতা। ব্যক্তিগত জীবনে উচ্চশিক্ষিত, ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসী স্পষ্ট ভাষণ ও লড়াকু মনোভাবের জন্য পুরো ভারতের নজর কেড়েছেন।

দলীয় রাজনীতিকেও ওয়াইসী আঞ্চলিক গণ্ডি থেকে জাতীয় স্তরে উত্তরণ ঘটাচ্ছেন। ওয়াইসী ফলও পাচ্ছেন উল্লেখ করার মতো। ওয়াইসী মাঠে নামায় এবার বিহারে মুসলিম ভোটের ভিন্নচিত্র দেখা গেছে। বিহারের কিছু কিছু এলাকায় মুসলিম ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠ।

সেসব স্থান বেছে নিয়ে ২০ জন প্রার্থী দিয়েছিলেন হায়দারাবাদের নেতা সর্বভারতীয় মজলিসে ইত্তেহাদুল মুসলিমিনের নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসী। সেখানে মোট ভোটের সংখ্যা চার কোটি, যার মধ্যে ‘মীম’ পেয়েছে ১.২৪% ভোট। এই ভোটগুলো নির্বাচনের জয়-পরাজয়ে বিরাট ভূমিকা পালন করেছে।

ওয়াইসী পেয়েছেন পাঁচটি আসন। অনেক আসনে দ্বিতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে দলটি। কোথাও কোথাও তাদের প্রাপ্ত ভোটের নিরিখে নির্ধারিত হয়েছে বড় দলগুলোর জয়-পরাজয়। ওয়াইসীর লোকজন অবশ্য এই যুক্তি মানতে নারাজ। তারা মনে করেন, বিজেপি বা অন্য দলের লাভের চেয়ে তাদের নিজেদের লাভ-ক্ষতি নিয়েই তারা বেশি চিন্তিত।

নানা দলের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে মুসলিমগণ বছরের পর বছর ভোট দিয়ে অবহেলা, বঞ্চনা ও নির্যাতন ছাড়া কিছুই পান নি। ফলে আমরা নিজেদের জন্য লড়াই করছি। কে জিতলো বা হারলো, সেটা দেখছি না।’ ওয়াইসী দীর্ঘ বছর নির্বাচিত হয়ে আসছেন আগের অন্ধ ও বর্তমানের তেলেঙ্গানা রাজ্যের হায়দারাবাদ থেকে।

তার কাজের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উন্নয়নের বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়। তিনি এবার তার নিজের এলাকার বাইরে পিছিয়ে থাকা মুসলিম এলাকাগুলোতে কাজ শুরু করেছেন। নির্বাচনে প্রার্থীও দিচ্ছেন। বিহারের আগে মহারাষ্ট্রেও তার প্রার্থী জয় পেয়েছেন।

সামনে তিনি আসাম, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ প্রভৃতি রাজ্যের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও প্রার্থী দেবেন বলে ঘোষণা দিয়ে কাজ করছেন। অনেকে মনে করেন, ওয়াইসী মাঠে নামলে পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন ২০২১ সালের বিধান সভা ভোটের চেহারা বদলে যাবে।

মুসলিম ভোট পেয়ে অতীতে যারা সহজে নির্বাচিত হয়েছিলেন, তারা এবার সুযোগ হারাবেন। লাভ হবে বিজেপির, এক্ষেত্রে বিজেপি বিরোধী জোট গড়ার বিকল্প নেই এবং এতে ওয়াইসীর পক্ষে সংগঠিত মুসলিম ভোটারদের কার্যকরভাবে আসন বণ্টনের নিরিখে খুশি করেই কিছু করতে হবে।

একতরফাভাবে সাম্প্রদায়িকতার ভয় দেখিয়ে বা মিত্রতার প্রদর্শনী করে মুসলিম ভোট হাতিয়ে নেওয়া ওয়াইসীর রাজনৈতিক উত্থানের কারণে এবার হয়ত সম্ভব হবে না, এমনটিই অভিজ্ঞ মহলের ধারণা।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *