শ্রমিকলীগ নেতাকে মারধর করে ‘আব্বা’ ডাকাল দুই তরুণ!

সদরের এম বালিয়াতলী ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন গাজীকে (৪৮) মারধর করেছেন দুই যুবক। জোর করে ‘আব্বা’ ডাকিয়ে সে দৃশ্যের ভিডিও ধারণও করেন তারা।ভিডিওটি বাংলানিউজের হাতে এসেছে।

জানা গেছে, রোববার (১ জানুয়ারি) রাত আটটার দিকে দেলোয়ার গাজীকে ডেকে নেন বাপ্পি ও হাসিব নামে স্থানীয় দুই তরুণ। চালিতাতলী বাজার থেকে গাজীকে একটি মাঠে নিয়ে তাদের নেতৃত্বে মারধর করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, গাজীকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন তরুণ। তাদের মধ্যে একজন পাইপ দিয়ে শ্রমিকলীগের নেতা গাজীকে এলাপাতাড়ি মারছেন। এ সময় ‘বাপ্পি আমাকে আর মারিস না’ বলে কাকুতিও করতে দেখা যায় তাকে। এ সময় তাকে আব্বা ডাকতে বলেন বাপ্পি। রেহাই পেতে বাধ্য হয়ে গাজী তাকে আব্বা বলে ডাকেন।

সোমবার (২ জানুয়ারি) ভুক্তভোগী গাজীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়নের উড়বুনিয়া এলাকার বিন্দু চৌকিদারের ছেলে বাপ্পি ও একই এলাকার বাদল চৌকিদারের ছেলে হাসিবের নেতৃত্বে চালিতাতলীতে একটি গ্যাং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা মাদক সেবন ও ব্যবসার পাশাপাশি ছিনতাই-চাঁদাবাজি ইভটিজিংসহ নানা অপরাধ করে থাকে। বাপ্পি-হাসিব গ্রুপের সমস্যা মানুষের পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দিয়ে মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করে।

গাজী বলেন, আমি এসবের প্রতিবাদ করেছিলাম। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়। গতকাল রাত আটটার দিকে আমাকে বাজার থেকে ডেকে কথা বলার জন্য পাশের একটি মাঠে নিয়ে যায় তারা। পরে বাপ্পি-হাসিবসহ ৭/৮ জন মিলে লোহার রড দিয়ে আমাকে মারধর করে। এলাকা ত্যাগ করতেও বলা হয়েছে। আমাকে আব্বা ডাকতেও বলা হয়। জীবন বাঁচাতে যা বলেছে, আমি তাই করেছি। আমি চিকিৎসার জন্য বরিশালে। সুস্থ হয়ে ফিরে আইনের আশ্রয় নেব।

গাজী ছাড়াও আরও এক যুবকের সঙ্গে একই কাণ্ড ঘটিয়েছে বাপ্পি-হাসিব গ্রুপ গত বছর অক্টোবরে সুমন নামে এক তরুণকে ধরে নিয়ে চালিতাতলী নদীর পাড়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন তারা। সুমনকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। সে ঘটনারও ভিডিও ধারণ করেন তারা। সেই ভিডিও আছে বাংলানিউজ প্রতিবেদকের হাতে।

এ বিষয়ে কথা হলে গাজীর মতো সুমনও একই কথা বলেন। তিনি জানান, ওই ঘটনায় তিনি বরগুনা সদর থানায় মামলা করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত বাপ্পি-হাসিব গ্রেফতার হননি।

বরগুনা সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহমেদ বলেন, দেলোয়ার গাজীকে মারধরের ঘটনাটি শুনেছি। এখন পর্যন্ত থানায় এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ-মামলা, যা-ই হোক আমরা ব্যবস্থা নেব।

সুমনের মামলা প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ওই ঘটনার তদন্ত চলছে। আসামিদের ধরতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। তবে এখনও গ্রেফতার সম্ভব হয়নি।

Sharing is caring!