শরিফুলের পর তাসকিনের জোড়া আঘাত

জয়ের জন্য ৩১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে জানেমান মালানকে মুশফিকুর রহিমে গ্লাভসে ক্যাচ বানিয়ে প্রোটিয়াদের ১৮ রানের উদ্বোধনী জুটি থামান শরিফুল ইসলাম। আরেক ওপেনার কাইল ভেরাইনেকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

ডানহাতি এই পেসারের লেংথ বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে আউট হয়েছেন ২৫ বলে ২১ রান করা ভেরাইনে। নবম ওভারের প্রথম বলে উইকেট নেয়া তাসকিন চতুর্থ বলে এইডেন মার্করামকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানিয়েছেন। তাসকিনের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে থাকা মেহেদি হাসান মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে আউট হয়েছেন মার্করাম।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে বাংলাদেশ। টাইগারদের হয়ে এই ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন লিটন দাস, সাকিব আল হাসান ও ইয়াসির আলী।টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই দেখেশুনে খেলেছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস।

এর মধ্যে তামিম ইকবাল নিজের রানের খাতা খুলেছেন লুঙ্গি এনগিদিকে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড অঞ্চল দিয়ে ছক্কা মেরে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাত খুলেছেন লিটন। তিনি কেশভ মহারাজের এক ওভারেই নিয়েছেন ১৫ রান। এর মধ্যে একটি ছক্কা ও দুটি চার ছিল। তামিম হাফ সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে আন্দিলে ফেহলুকায়োর বলে এলবিডিব্লিউ হয়ে আউট হয়েছেন। তামিম অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন যদিও কোনো লাভ হয়নি।

তামিম ফেরার পর ২১.৫ ওভারে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহ একশো ছাড়ায়। খানিক বাদেই সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ৬৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন। এর এক বল পরেই মহারাজের বলে বোল্ড হয়েছেন লিটন। মুশফিকুর রহিম অবশ্য সাকিবকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি।

এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার মহারাজের বলে টপ এজ হয়ে ফাইন লেগে ডেভিড মিলারের হাতে ধরা পড়েছেন। এরপর ইয়াসির আলীকে নিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস টেনেছেন সাকিব। এই বাঁহাতি ব্যাটার তার ইনিংসের শুরু থেকেই বলের মেরিট বুঝে খেলেছেন। আর ইয়াসির শুরুতে কিছুটা সময় নিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাত খুলেছেন।

আন্দিলে ফেহলুকায়োকে লং অফ দিয়ে ছক্কা মেরে ৫০ বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন সাকিব। ইয়াসির তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ৪৪ বলে। চতুর্থ উইকেটে সাকিব-ইয়াসিরের জুটি একশো ছাড়িয়ে যায়। সাকিব ৭৭ রানে এনগিদির বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন।

পরের ওভারেই ইয়াসিরকে নিজের বলেই ক্যাচ নিয়েছেন কাগিসো রাবাদা। এরপর বাংলাদেশের রান বাড়িয়েছেন আফিফ হোসেন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। যদিও বেশিক্ষণ তাদের রান তুলতে দেননি জানসেন। আফিফ আউট সাইড অফের বলে স্কয়ার লেগে খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ১৭ রানে তিনি ক্যাচ দিয়েছেন ভ্যানডার ডাসেনের হাতে।

শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ ২৫ রান করে আউট হয়েছেন জানসেনের বলে ডাসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ মিলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩০০ পার করেন। মিরাজ ১৯ ও তাসকিন ৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর- বাংলাদেশ- ৩১৪/৭ (৫০ ওভার) (তামিম ৪১, লিটন ৫০, সাকিব ৭৭, ইয়াসির ৫০; মহারাজ ২/৫৬, জানসেন ২/৫৭), দক্ষিণ আফ্রিকা – ৩৬/৩ (৮.৪ ওভার) (ভেরাইনে ২১, তাসকিন ২/৭, শরিফুল ১/১০)

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*