লিটন নাকি জগদীশন, কার হাতে থাকবে কেকেআরের গ্লাভস

আইপিএল নিলামের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্সের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা ছিল উইকেটকিপিং। বাবা ইন্দ্রজিৎ ও শেলডন জ্যাকসনকে নিলামের জন্য ছেড়ে দিয়ে গুজরাট টাইটান্স থেকে ট্রেড করেছিল রহমানউল্লাহ গুরবাজকে।

নিলামে তাই একজন হেভিওয়েট উইকেটরক্ষক ব্যাটার প্রয়োজন ছিল দলটির। তবে শাহরুখ খানের দল একজন নয়, দুই-দুইজন দক্ষ কিপারকে দলে নিয়েছে মিনি নিলাম থেকে। তাদের মধ্যে কে পাবেন সেরা একাদশের কিপিং গ্লাভস- লিটন দাস নাকি নারায়ণ জগদীশন- তা বড় এক প্রশ্ন বটে।

ভারতের হয়ে এখনও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও নারায়ণ জগদীশন অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন। তামিলনাড়ুর হয়ে তার সর্বশেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে সেঞ্চুরি আছে ৬টি, হাফসেঞ্চুরি একটি। ৬ সেঞ্চুরির একটি আবার ডাবল হান্ড্রেড, একদিনের ক্রিকেটে ২৭৭ রানের যে ইনিংসে রেকর্ড বই চুরমার করে গড়েছেন বিশ্বরেকর্ড।

অবাক করা ব্যাপার হল, ২৭ বছর বয়সী এই উইকেটরক্ষক ব্যাটারের আইপিএল ক্যারিয়ার কিন্তু খুব বেশি বড় নয়। এখন পর্যন্ত মাত্র ৭টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন, রান করেছেন মোটে ৩৯, ব্যাট করার সুযোগই মিলেছে মাত্র ৪ ইনিংসে।

প্রত্যেক খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারেই উত্থানপতন থাকে। ২০ লাখ রুপি ভিত্তিমূল্যের জগদীশনকে ৯০ লাখ রুপিতে কলকাতা এমন এক সময় দলে ভিড়িয়েছে, যখন তিনি ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে তো বটেই, স্বপ্নের মতো ছন্দে রয়েছেন।

ফর্ম বিবেচনায় বলতেই হবে, জগদীশনকে অনেকটা কম পয়সা খরচ করেই পেয়ে গেছে কলকাতা। তবে সেদিক থেকে আরও অবাক করবে লিটন দাসের সাইনিং। লিটন এবারের আইপিএলে দল পাবেন, তা অনেকটা নিশ্চিতই ছিল। এমনকি তার দিকে কলকাতার চোখ থাকবে, এটাও ছিল অনুমেয়। কিন্তু প্রথম দফায় লিটনের নাম উঠলে কলকাতা বা অন্য কোনো দল বিড করেনি। দ্বিতীয় দফায় লিটনের নাম ওঠায় কলকাতা মোটেও কালক্ষেপণ করেনি, ভিত্তিমূল্যের ৫০ লাখ রুপি খরচ করেই দলভুক্ত করে তাকে।

সম্প্রতি ২৭৭ রানের ইনিংসে বিশ্বরেকর্ড গড়ে দলকে জেতান জগদীশন।

কলকাতা একইভাবে ভিত্তিমূল্যে দলভুক্ত করেছে আরেক বাংলাদেশি সাকিব আল হাসানকেও। অবশ্য অল্প টাকা হাতে নিয়ে অনেক খেলোয়াড় প্রয়োজন ছিল বলে এই কৌশলের আশ্রয় কলকাতাকে নিতেই হতো। তবে দলটির জন্য স্বস্তির বিষয় এই- কিপিং নিয়ে যে দুর্ভাবনা ছিল তা অনেকটাই উবে গেছে নিলামের পর।

অবশ্য এখনও টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তা ভাঁজ থাকবে। তার কারণ- গ্লাভস তুলে দেওয়া হবে কার হাতে- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ঘাম ঝরবে কোচ-অধিনায়কের। জগদীশন স্থানীয় ক্রিকেটার হিসেবে একাদশে থাকার দৌড়ে এগিয়ে আছেন স্বভাবতই। তবে লিটনের মতো ক্রিকেটারকে একাদশে রাখলে গোটা দলের চেহারাই যে বদলে যাচ্ছে! এই দুই উইকেটরক্ষক ব্যাটারের মধ্যে অনেকটাই পিছিয়ে থাকছেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ, কারণ অভিজ্ঞতার কারণে লিটনের ধারেকাছে ঘেঁষার সুযোগ নেই তার, আর ফর্ম বিবেচনায় জগদীশন তো ঢের এগিয়ে কোনো দ্বিধা ছাড়াই। তবে লিটন ও জগদীশন দুজনই একাদশে থাকলে, কে হবেন উইকেটরক্ষক?

শেষপর্যন্ত কলকাতার কিপিং গ্লাভস নিয়ে মূল লড়াই হবে তাই লিটন ও জগদীশনের মধ্যেই!

Sharing is caring!