লকডাউনের আগে ঘরে ফেরার তাড়া ছিল, তাই পেনাল্টি মিস করেছি

তারুণ্যে টগবগে ফ্রান্স ফুটবল বিশ্বকাপের মতো ইউরো জিতবে বলে যাঁরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, করোনা তাঁদের মিথ্যা প্রমাণ করে দিল। প্রশ্ন উঠতে পারে, করোনা কীভাবে ফ্রান্সকে নিয়ে করা ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণ করল? সেটা বুঝতে হলে তাকাতে হবে বর্তমান পরিস্থিতির দিকে।

সামনে কঠোর লকডাউন। যাঁরা ঘরে আছেন, তাঁদের ঘরের বাইরে যাওয়া একদমই নিষেধ। আর যাঁরা ঘরের বাইরে আছেন, তাঁদের ঘরে ফিরতে হবে দ্রুত। এমতাবস্থায় ঘরে ফেরার তাড়া সবারই। ফ্রান্স তার ব্যতিক্রম হবে কেন? চাইলেই ফ্রান্স সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিতে ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে পারত।

৩-১ গোলে এগিয়ে থেকে সে পথেই হাঁটছিল ফ্রান্স। হঠাৎ আসন্ন কঠোর লকডাউনের কথা কে যেন খেলোয়াড়দের কাছে পৌঁছে দেয়। এতেই ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। জেতা ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে গিয়ে ৩-৩ গোলে ড্র হয়। এরপর অতিরিক্ত সময়েও ইচ্ছা করে কোনো গোল করেনি ফ্রান্স।

অবশেষে পেনাল্টিতে গিয়ে তারা বুঝিয়ে দিল, আসলে লকডাউনে বাইরে বাইরে থাকার চেয়ে ঘরে থাকাই উত্তম! শেষের পেনাল্টিটা মিস করে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ‘একটু থামুন’–এর তরফ থেকে পেনাল্টি মিস করার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে এমবাপ্পে বলেন, ‘আরে ভাই, ইউরোর চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি৷ সামনে কঠোর লকডাউন আসছে।

এখনো যদি বাইরে ঘুরে ঘুরে ফুটবল খেলি, তাহলে তো পুলিশের লাঠির বাড়ি একটাও মাটিতে পড়বে না। তাই সুযোগ বুঝে পেনাল্টিটা মিস করলাম, যাতে লাঠির বাড়িগুলা সব সুইজারল্যান্ড আর অন্য দলগুলা মিলে খায়। আমরা বরং বাড়িতে গিয়ে আরাম করি!’

বোঝাই যাচ্ছে, ফ্রান্স মাথা খাটানো এক দল। বুদ্ধি আছে বলেই তারা প্রায় জেতা ম্যাচ শেষমেশ হেরে গেল। দীর্ঘদিন পর ফ্রান্সের জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া করিম বেঞ্জেমার কণ্ঠেও ছিল এমবাপ্পের সুর। বেঞ্জেমা জানান, ‘চার ম্যাচে চারটি গোল করছি। চাইলে এবারের ইউরোটাও আমরা নিতে পারতাম।

শুধু লকডাউনের কথা বিবেচনা করেই সেটা বিসর্জন দিয়েছি। ঘরে ফিরতে হবে দ্রুত। তাই ছোট ভাই এমবাপ্পেকে দিয়ে পেনাল্টিটা মিস করিয়েছি। এবার লকডাউনে ঘর থেকে বের হব না একদম।’ সমর্থকেরা ফ্রান্সের এমন আকস্মিক বিদায়ে প্রথমে হতাশ ছিলেন স্বাভাবিকভাবেই।

তবে পরবর্তী সময়ে যখন বিদায়ের পেছনের এই মহৎ কারণ সম্পর্কে জানতে পারেন, তখন থেকেই গর্বে সবার বুক ফুলে ওঠে। সে রকম এক সমর্থকের সঙ্গেই কথা হচ্ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সমর্থক বলেন, ‘ফ্রান্সের মতো এ রকম একটা বুদ্ধিমান দল নিয়ে গত রাত থেকে দারুণ গর্ব বোধ করছি।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপের সময় করোনা কিংবা লকডাউন ছিল না। তাই সহজেই বিশ্বকাপটা নিয়ে নিলাম। তাহলে এবারও কি পারতাম না আমরা ইউরোটা নিয়ে নিতে? এবারও পারতাম! শুধু সামনে কঠোর লকডাউন আসছে দেখেই ঘরে ফিরে গেলাম।

ফ্রান্স যেমন হেসে–খেলে বিশ্বকাপ জিততে পারে, তেমনি ইচ্ছাকৃত পেনাল্টি মিস করে ঘরেও ফিরতে পারে। আপনারাও ঘরে ঢুকুন। ভুলে যাবেন না, সামনে কিন্তু কঠোর লকডাউন!’ এতটুকু বলেই আড়ালে চোখ মুছতে মুছতে স্থান ত্যাগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই ফ্রান্স সমর্থক!

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*