রোজার মাসেও লড়াই করতে হবে: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ইউক্রেনের মুসলমানদের আসন্ন পবিত্র রোজার মাসেও লড়াই করতে হবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এই পবিত্র রমজান মাসে যেন ইউক্রেনের মানুষের ওপর দুর্দশার ছায়া না পড়ে। শনিবার (২৬ মার্চ) কাতারের দোহা ফোরামে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন। এমন খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

জেলেনস্কি বলেন, তারা আমাদের বন্দর ধ্বংস করছে। ইউক্রেন থেকে রপ্তানি পণ্যের অনুপস্থিতি বিশ্বের দেশগুলোকে একটি ধাক্কা দিবে। তিনি বলেন, ইউরোপের ভবিষ্যৎ আপনাদের প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর করে। তিনি দেশগুলোকে তাদের জ্বলানি সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানান। কেননা কাতার প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানিতে বিশ্ব নেতৃত্ব দিচ্ছে।

বিশ্বকে পারমাণবিক অস্ত্রের হুমকি দেখানোয় তিনি রাশিয়ার সমালোচনা করেন। জেলেনস্কি আরও বলেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে এ আস্ফালন করেছে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র দিয়ে শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশ নয়, পুরো গ্রহকে ধ্বংস করতে পারে। জাতিসংঘ ও বিশ্বশক্তিকে দেশটির সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য ২০০৮ সাল থেকে আবেদন করে ইউক্রেন। মূলত, এ নিয়েই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তবে সম্প্রতি ন্যাটো ইউক্রেনকে পূর্ণ সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় দ্বন্দ্বের তীব্রতা আরও বাড়ে। ন্যাটোর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাহারে চাপ প্রয়োগ করতে যুদ্ধ শুরুর দুই মাস আগ থেকেই ইউক্রেন সীমান্তে প্রায় দুই লাখ সেনা মোতায়েন রাখে মস্কো।

কিন্তু এই কৌশল কোনো কাজে না আসায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দুই ভূখণ্ড দনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় রাশিয়া। ঠিক তার দুদিন পর ২৪ তারিখ ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরপর রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথে ইউক্রেনে এই হামলা শুরু করে।

এ দিকে চলমান এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়েছেন প্রায় ৩৯ লাখ মানুষ। যুদ্ধে ইউক্রেনের ১৩শ’ সেনা এবং রাশিয়ার ১৬ হাজার ১০০ সৈন্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। তবে রাশিয়া বলছে, যুদ্ধে তাদের এক হাজার ৩৫১ সেনা নিহত এবং ইউক্রেনের আড়াই হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া জাতিসংঘ জানিয়েছে, রুশ অভিযানে ইউক্রেনের এক হাজার ৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। সূত্র : আল জাজিরা

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*