যে কারণে আর্জেন্টিনার সঙ্গে স্কালোনির নতুন চুক্তিতে দেরি হচ্ছে

আর্জেন্টাইন ফুটবল নিয়ে এই মুহূর্তে এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। স্কালোনি গত ১৮ ডিসেম্বর কাতারে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন। এরপর ৩১ ডিসেম্বর আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। তাঁর সঙ্গে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) নতুন চুক্তির কথা উঠেছে বিশ্বকাপের আগেই। কিন্তু মেসি–দি মারিয়ারা বিশ্বকাপ জিতে দেশে উদ্‌যাপন সেরে নিজ নিজ ক্লাবে যোগ দিয়ে মাঠেও নেমে গেছেন, কিন্তু স্কালোনির নতুন চুক্তি এখনো আলোর মুখ দেখেনি। সম্প্রতি স্প্যানিশ রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই চুক্তি নিয়ে কিছু কথা বলেছেন স্কালোনি, ‘কিছুদিনের মধ্যেই বুয়েনস এইরেসে যাব। সভাপতির সঙ্গে বসে আমরা যে চুক্তিতে পৌঁছাতে চাই, সেই চেষ্টা করব। এটাই ভেবেছি। তবে কবে যাব, সেটি ঠিক করিনি।’


আর্জেন্টাইন এই কোচ এখন স্পেনের মায়োর্কায় পরিবারের সঙ্গে আছেন। বুয়েনস এইরেসে কবে যাবেন, তা কেন ঠিক করতে পারেননি স্কালোনি, চাইলে এই প্রশ্ন তোলাই যায়। আর্জেন্টিনাকে ৩৬ বছর পর আরাধ্য বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন স্কালোনি। কোথায় তাঁর সঙ্গে নতুন চুক্তির বিষয়টি আগে প্রাধান্য পাবে কিংবা বোর্ডই এ বিষয়ে আগেভাগে সব সেরে ফেলার চেষ্টা করবে—তা না, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের পারস্পারিক সম্পর্কে কোথায় যেন একটু সুর–তাল–লয় কেটে যাওয়ার আভাস মিলছে, আসলেই কি দূরত্ব তৈরি হয়েছে?

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে অবশ্য আগে থেকেই অন্য সুর বাজছে। স্কালোনির সঙ্গে নতুন চুক্তি নাকি স্রেফ সময়ের ব্যাপার। এএফএ এ বিষয়ে নাকি যেকোনো সময়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে। আর সেই চুক্তি হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। আপাতত বিষয়টি এ পর্যন্ত ঝুলে থাকায় অনেকেই অন্য কিছুর গন্ধ পাচ্ছেন। স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’র আর্জেন্টিনা সংস্করণের ওয়েবসাইটে এ বিষয় নিয়ে লিখেছেন প্রতিবেদক সান্তি ভিয়াহোজ। তিনি বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে কারণ খোঁজার চেষ্টা করেছেন।



প্রতিবেদনের শুরুতে জানানো হয়েছে, কাতার বিশ্বকাপের আগে হুন্ডুরাস ও জ্যামাইকার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল আর্জেন্টিনা। তখন এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া ও স্কালোনির মধ্যে একটি বিষয়ে কথা–কাটাকাটি হয়েছিল। অফিশিয়ালি এ নিয়ে কিছুই জানা যায়নি। তবে গুঞ্জন ছিল, তাপিয়ার কাছে কিছু একটা চেয়েছিলেন স্কালোনি এবং তার উত্তরে এফএ সভাপতি যা বলেছিলেন, তাতে কষ্ট পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার এই কোচ। স্কালোনি নাকি সেই কষ্ট এখনো মনে রেখেছেন আর তাই নতুন চুক্তিতে দেরি হচ্ছে।

কিছুদিন আগপর্যন্তও মনে করা হয়েছে, নতুন চুক্তিতে দেরির কারণ সম্ভবত টাকাপয়সা। ফেডারেশনের নেতৃত্ব নিয়ে স্কালোনি নাকি তেমন একটা সন্তুষ্ট নন। তাই নতুন চুক্তি নিয়ে একটু দূরে দূরে থাকছেন। এএফএ যেভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তাতে স্কালোনি নাকি কিছু বিষয়ে অস্বস্তিতে আছেন এবং সেসব নাকি স্কোয়াডের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে। মার্কার প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, সভাপতির সঙ্গে স্কালোনির মন–কষাকষির গুঞ্জন চাউর করেছিলেন সংবাদকর্মী মারিয়ানো হ্যামিল্টন। ঘটনাটি এমন, এএফএর যেসব কর্মকর্তা কাতার বিশ্বকাপে যেতে পারবেন না, তাঁদের ওই দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়েছিলেন তাপিয়া। আর্জেন্টিনা জাতীয় দল যেখানে ছিল, সেখানে জ্যামাইকার বিপক্ষে ম্যাচের আগের রাতে পার্টি দেন তাপিয়া। হইহুল্লোড়ে মেসিদের সমস্যা হচ্ছিল, স্কালোনি তাই সেই পার্টিতে গিয়ে নিচুস্বরে হুইহুল্লোড়ের অনুরোধ জানান। এএফএ সভাপতি তাপিয়া তখন উত্তর দেন, ‘আরে বাদ দাও। আমি চেয়েছি বলেই তো তুমি এখন এখানে (জাতীয় দলের কোচ)।



এএফএ সভাপতির সঙ্গে নতুন চুক্তির কী কী শর্ত নিয়ে স্কালোনির কথা হয়েছে, তা জানা যায়নি। মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কালোনি যদি সেদিন তাপিয়াকে অপমানসূচক কথাও বলে থাকেন, তবু এএফএ সভাপতি সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজে উত্তরই দিয়েছেন। এই স্কালোনিই একসময় তাপিয়ার কাছে বাতিল কোচ ছিলেন। কিন্তু ২০১৮ বিশ্বকাপের পর হোর্হে সাম্পাওলির জায়গায় কেউ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নিতে চাননি। তখন সহকারী থেকে স্কালোনি সাহস করে প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অন্যভাবে বলা যায়, ‘স্কালোনির জন্যই তাপিয়া আজ এখানে!’

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সত্যটা হলো নতুন চুক্তির আগে এএফএ সভাপতি তাপিয়ার আচরণ পাল্টানোর কথা বলবেন স্কালোনি। এ ছাড়া ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলোর ফরম্যাটও পাল্টানোর দাবি করবেন তিনি। আর্জেন্টিনার উঠতি খেলোয়াড়েরা যেন এসব টুর্নামেন্ট থেকে লাভবান হতে পারেন, এটাই চাওয়া স্কালোনির।

Sharing is caring!