যু’দ্ধবি’ধ্বস্ত গাজায় যেসব সংকটে মানুষ !

অধিকৃত পূর্ব জে’রুসা’লেমে ইস’রায়ে’লি ও ফি’লিস্তি’নিদের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে উ’ত্তেজনা বাড়ার পটভূমিতে গা’জায় সর্বসাম্প্রতিক ১১দিনের র’ক্ত’ক্ষ’য়ী এই ল’ড়াই শুরু হয়। এর জেরে সং’ঘ’র্ষ হয়েছে শহরে মুসলিম ও ইহুদিদের পবিত্র স্থানে।

হামাস ইস’রায়ে’লকে সেখান থেকে সরে যাবার হুঁশিয়ারি দেবার পর ১০ মে ইস’রায়ে’লকে লক্ষ্য করে র’কে’ট নি’ক্ষে’প শুরু করলে ইস’রা’য়েল পা’ল্টা বিমান হা’ম’লা চালায়। দুই পক্ষের ল’ড়া’ই এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, দ্রুত স’হিং’স’তার মাত্রা ২০১৪ সালে ইস’রায়ে’ল ও গা’জার ল’ড়াই’কে ছাপিয়ে যায়।

গা’জায় প্রায় সময়ই প্রতিদিন বিদ্যুৎ চলে যায়। এই ল’ড়াই শুরু হবার আগে গা’জার বা’সাগুলোতে পা’লা করে প্রতিদিন মাত্র আট ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ দেওয়া হতো। সাম্প্রতিক ল’ড়া’ইয়ে বি’দ্যুতের লাইনগুলো বি’ধ্ব’স্ত হয়ে গেছে এবং দেখা দিয়েছে তী’ব্র জ্বা’লানি সং’কট। জা’তিসংঘের মানবিক ত্রাণ সমন্বয়কারী দপ্তর (ওচা) বলছে, এখন বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ আসছে দিনে মাত্র তিন চার ঘণ্টা করে। কোথাও কোথাও তাও ভে’ঙে পড়েছে।

গাজা ভূখণ্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটা বড় অংশ আসে ইস’রায়ে’ল থেকে। খু’ব নগণ্য একটা অংশ উৎপাদিত হয় গাযার একটাই মাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে, আর সামান্য অংশ সরবরাহ করে মিশর। গা’জার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং মানুষের বাসাবাড়িতে যে জেনারেটর আছে তার জন্য নির্ভর করতে হয় ডি’জেল জ্বা’লানির ওপর।

কিন্তু ইস’রায়ে’ল হয়ে যে জ্বা’লানি গা’যা’য় আসে তা প্রায়শই বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে সাধারণ সময়েও বিদ্যুত সরবরাহ বি’ঘ্নিত থাকে। ল’ড়াই’য়ের ফলে তা এখন আরও তী’ব্র হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গা’জার জনসংখ্যার প্রায় ৮০% বিদেশি ত্রা’ণের ওপর নির্ভরশীল। প্রায় দশ লাখ মানুষ খাবার জন্য দৈনন্দিন খাদ্য সহায়তার মুখাপেক্ষী।

যাতায়াতের ওপর ই’সরা’য়েল অব’রোধ জা’রি করার ফলে গা’জা থেকে ঢোকা ও বেরন মা’রাত্ম’কভাবে ব্যা’হত হচ্ছে। ফলে মানুষের ব্যবসা বাণিজ্য করার সুযোগ বিপ’র্য’স্ত হয়ে পড়েছে। অব’রোধের বেড়া’জাল ডিঙা’তে হামাস সুড়’ঙ্গ পথের নেট’ওয়ার্ক তৈরি করে, যার মাধ্যমে গা’জা ভূখণ্ডে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসা হতো।

ক’রোনাভাই’রাসও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য বড়ধরনের বিপর্যয় তৈরি করেছে। বিশ্ব ব্যাংক বলছে, গাজা এই অর্থনৈতিক বিপর্যয় সবে মাত্র কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল। ফলে এই ল’ড়া’ই সেই ঘুরে দাঁড়ানোর পথে বড়ধরনের একটা ধাক্কা দিয়েছে। গা’জা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গা’জায় আ’টটি শি’বি’রে গা’দাগা’দি করে বাস করেন প্রায় ৬ লাখ শর’ণার্থী।

সাধারণত এক বর্গ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে বসবাস করেন ৫,৭০০র বেশি মানুষ- যে পরিসংখ্যান ল’ন্ডনের জনঘ’নত্বের কাছা’কা’ছি। কিন্তু গাজা সিটিতে এক বর্গ কিলোমিটারে বাস করেন ৯ হাজারের অধিক মানুষ। জাতিসংঘের হিসাব বলছে, ২০১৪ সালের যু’দ্ধে ক্ষ’তিগ্র’স্ত বা বি’ধ্ব’স্ত হ’য়েছিল ১ লাখ ৪০ হাজার বসতবাড়ি।

প্রায় ৯০ হাজার মানুষকে তাদের বসতবাড়ি আবার নির্মাণ করার কাজে তারা সহায়তা দিয়েছিল। ওচা বলছে, এখন সাম্প্রতিক এই যু’দ্ধে’র কারণে কয়েকশ বসতবাড়ি ভেঙে গুঁ’ড়ি’য়ে গেছে। অনেক বাড়ি মাটিতে মি’শিয়ে গেছে। তারা বলছে, প্রকৃত ক্ষ’য়ক্ষ’তি নি’রূপণ করতে বেশ সময় লেগে যাবে।

গা’জার জন-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবস্থা নানা কারণে সঙ্গিন। জাতিসংঘ সংস্থা ওচা বলছে, ইস’রায়ে’ল ও মিশরের দিক থেকে অব’রোধ, পশ্চি’ম তীর কেন্দ্রিক ফিলিস্তিনি প্রশাসনের গা’জার জন্য অ’পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ব’রাদ্দ এবং ফি’লিস্তি’নি প্রশাসনের মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টা’নাপো’ড়েন এবং হা’মাসের কর্মকাণ্ড সবই গা’জার করুণ স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার জন্য দায়ী।

জাতিসংঘ গা’জায় ২২টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র চালায়। ইস’রায়ে’লের সাথে পূর্ববর্তী সং’ঘা’তের সময়ই গা’জার বেশ কিছু হাসপাতাল ও ক্লিনিক ক্ষ’তিগ্র’স্ত বা বি’ধ্ব’স্ত হয়ে গেছে। গা’জার কোন রো’গীর যদি পশ্চিম তীর বা পূর্ব জে’রুসালে’মের হাসপাতালে চিকিৎসা নেবার দরকার হয়, তাহলে তাকে আগে ফি’লিস্তি’নি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করে তার জন্য অনু’মোদন নিতে হবে।

তারপর ইস’রায়ে’ল সরকা’রের কাছে গা’জা থেকে বেরনর জন্য পাস যোগাড় করতে হবে। ২০১৯ সালে গাজা ভূখ’ণ্ড থেকে চিকিৎসা থেকে বেরন আ’বেদন অনুমোদনের হার ছিল ৬৫%। গত কয়েক মাসে করো’নাভাই’রাসের কারণে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রীতিমত প্রবল চাপের মুখে রয়েছে।

গা’জার বেশি’রভাগ মানুষ পা’নির সংকটে দিন কা’টান। কলের পানি লব’ণা’ক্ত এবং দূ’ষিত এবং পা’নের উপযোগী নয়। গা’জার বা’সিন্দাদের একটা বড় অংশের বাসায় পা’ইপ লাই’নে পানির সংযোগ থাকলেও ওচা বলছে পরিবারগুলো পানি প্রায় অনিয়মিতভাবে। ২০১৭ সালে পরিবারগুলো কলের পানি পেত প্রতি চার দিন অন্তর মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘন্টার জন্য। এর কারণ ছিল পানি পাম্প করার জন্য বিদ্যুতের অভাব।

সর্বসাম্প্রতিক এই ল’ড়াই’য়ের ফলে এই সমস্যা আরও সঙ্গিন হয়েছে। পানির সরবরাহ আরও কমে গেছে বিদ্যুতের অভাবে। গা’জার বহু শিশুই জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে লেখাপড়া করে। সাম্প্রতিক যু’দ্ধের কারণে বেশিরভাগ স্কুলভবন এখন আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বো’মা’ব’র্ষ’ণ থেকে বাঁচতে পরিবা’রগুলো এইসব স্কুলভবনে আশ্রয় নিয়ে আছে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*