যুক্তরাষ্ট্র ধসে পড়বে, যুক্তি তুলে ধরলেন পুতিন!

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, যে কোনো সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তির মতো বর্তমান মার্কিন সরকারও প্রচলিত নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন সব সমস্যা তৈরি করেছে যা এখন তাদের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয় ঠিক যেমনটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকারের আমলে ঘটেছিল।

তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে অর্থনৈতিক বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অবকাশে বিশ্বের প্রথমসারির গণমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকদের এক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের ধসে পড়ার ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন আরো বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা আর্থ-রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে তারা এমন এক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে যে তারা যা ইচ্ছা তাই করতে পারে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে।

তারা এও মনে করে তাদের শক্তি সামর্থ্য এতটাই বেশি যে যদি কোনো ক্ষেত্রে ভুল করেও বসে তাহলেও তাদের খুব একটা সমস্যা হবে না। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলদর্পী মার্কিন সরকারের সামনে বিরাজমান বিভিন্ন সমস্যা ও এসব ক্ষেত্রে তাদের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে আরো বলেছেন,

‘গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে তাদের জটিল সব সমস্যার মাত্রা স্থায়ীভাবে বেড়েই চলেছে এবং এমন এক সময় আসবে যখন এসব সংকট থেকে বেরিয়ে আসার আর কোনো সুযোগ তাদের থাকবে না। তাই নিশ্চিতভাবে বলা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন এক ভুল পথে হাঁটছে যে পথে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নও পা দিয়েছিল।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে তাদের ভবিষ্যত পরিণতির বিষয়ে এমনসব কথাবার্তা বলেছেন যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের ক্ষেত্রে বলা হতো এবং শেষ পর্যন্ত সত্যিই সোভিয়েত ইউনিয়ন ধসে পড়েছিল।

এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট পুতিন মার্কিন বলদর্পিতা ও স্বেচ্ছা’চারী আ’চরণের তীব্র স’মালোচনা ও এর পরিণতির ব্যাপারে হুশিয়ার করে দিয়ে বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরও বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও হুবহু ট্রাম্পের নীতিই অনুসরণ করছেন। বাইডেনও অন্য দেশের বিরুদ্ধে হু’মকি ও নিষে’ধাজ্ঞার নীতি বহাল রেখেছেন।

মস্কোর বি’রুদ্ধে ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক এ নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এখনো যু’ক্তরাষ্ট্র যদি ভেবে থাকে অন্য দেশের হুমকি মোকাবেলার ক্ষমতা তাদের রয়েছে তাহলে তারা মা’রাত্ম’ক ভুল করবে। প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদেরকে বিশ্বের এক নম্বর মোড়ল ও একমাত্র শক্তিধর মনে করে এবং তারা বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থার বিরোধী।

এ কারণে তারা নিজেদের ইচ্ছা অন্য দেশের ওপর জোর করে চাপিয়ে দিয়ে এবং বল প্রয়োগ করে সারা বিশ্বের ওপর একক কর্তৃত্ব তথা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনামলে তার বেপরোয়া আচরণের ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় ২০১৯ সালে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছিলেন, ‘মার্কিন আচরণ বিশ্বের স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে যা সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বিরাট হুমকি।’

তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দেশের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।’ যাহোক, রুশ প্রেসিডেন্ট এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের পরিণতি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মতোই হবে বলে যে ভবিষ্যতবাণী করেছেন তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পরিস্থিতি সেদিকেই যাচ্ছে কেননা সোভিয়েত ইউনিয়নও এ ধরনের আচরণ করে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারেনি এবং দেশটি খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে যায়।

বর্তমানে আমরা বেশ ক’বছর ধরে বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রভাব ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসার বিষয়টি লক্ষ্য করছি। খ্যাতনামা চিন্তাবিদরাও ঠিক এমনটিই ভাবছেন। খোদ পাশ্চাত্যের রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদরাই এ ধারণা পোষণ করছেন। ইরানের যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোস্তফা খোশ চেশম বলেছেন,

অনেক আগে থেকেই মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের পতনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুদিক থেকেই তাদের পতনের আলামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র তীব্র অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন এবং এর পাশাপাশি স’ন্ত্রা’সবা’দ ও খু’ন খা’রা’বি সে’খানে মা’থাচা’ড়া দি’য়ে উঠেছে। ব’র্ণবা’দ ও শ্রেণী বৈ’ষ’ম্য তী’ব্রতর হয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের প্রভাব দিন দিন কমছে। এ সব দিক বিবেচনা করে রুশ প্রেসিডেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প’ত’নের বিষয়ে যে ভবিষ্যতবাণী উচ্চারণ করেছে তা যথার্থ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*