মেয়েদের যেভাবে ফাঁদে ফেলত দিহান

রাজধানীর কলাবাগানে ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী আনুশকা ধ’র্ষ’ণ ও হ’ত্যা মা’মলার প্রধান আসামি ইফতেখার ফারদিন দিহান আনুশকার আগেও একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিল। এদিকে প্রভাবশালীদের চাপে পড়েই দিহানের তিন বন্ধুকে আড়াল করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, নিজের বাবার অর্থবিত্ত, দামি গাড়ি উপহারসামগ্রী দিয়ে মেয়েদের প্রভাবিত করত দিহান। দিহান ‘ও’ লেভেল পাস করে গেল বছরের আগস্ট মাসে। বর্তমানে দিহান কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত নেই। তবে শিক্ষার্থীদের মা’রধ’রের ঘটনাও এর আগে দিহান ঘটিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

দিহানের তিন বন্ধুর মধ্যে একজন একটি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয়। তারা দুজন সম্পর্কে চাচাতো ভাই। ফারদিনের আরেক বন্ধু মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তাদের দুজনের বাসা ধানমন্ডি এলাকায় এবং আরেকজনের বাসা কলাবাগান থানাধীন ভূতের গলি এলাকায়।

এর আগে ৮ জানুয়ারি এ ঘটনার একমাত্র আসামি দিহানকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তুললে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি। এ ছাড়া একই দিনই নিহত ছাত্রীর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শরীরে ধ’র্ষ’ণের আলামত পাওয়া গেছে।

ধ’র্ষ’ণের ফলে যৌ’ন ও পায়ুপথে অতিরিক্ত র’ক্তক্ষ’রণেই তার মৃ’ত্যু হয়েছে।’ মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এর এক ঘণ্টা পর তার বাবাও ব্যবসায়িক কাজে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থী তার মাকে ফোন করে কোচিং থেকে পড়ালেখার পেপার্স আনার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। প্রসঙ্গত, রাজধানীর কলাবাগানে অবস্থিত ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মাস্টারমাইন্ডের ‘ও’ লেভেল পড়ুয়া ছাত্রী আনুশকাহ নূর আমিনকে ধ’র্ষ’ণ শেষে হ’ত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আনুশকাহর বয়ফ্রেন্ড দিহানসহ চারজনকে গ্রে’ফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে কলাবাগানের ডলফিন গলিতে দিহানের বাসায় এই ধ’র্ষ’ণের ঘটনা ঘটে। পরে অসুস্থ আনুশকাহকে ধানমন্ডির মডার্ণ আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে দিহানসহ চার বন্ধু।

পরে বিকালে হাসপাতালে আনুশকাহ মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমার মেয়ের এ বছর ও লেভেল পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার সাজেশন দেয়ার কথা বলে ওকে ডেকে নিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, ওরাই আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে আন্টি ও (ভূক্তভোগী) অসুস্থ।

তখন আমি বলেছি ভালো মেয়ে গেল, অসুস্থ কীভাবে হয়েছে। বলেছে আমাদের সঙ্গেই ছিল তবে এখন সেন্সলেস হয়ে পড়েছে। পরে ওরাই আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতাল এ নিয়ে যায়। আমি হাসপাতালে পৌঁছার আগেই আবার ফোন দিয়ে বলে ও (ভূক্তভোগী) মারা গেছে। হাসপাতালে গিয়ে দেখি মেয়েটার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *