মুস্তাফিজের ৫ উইকেটের পরও হার

মুস্তাফিজুর রহমানের পাঁচ উইকেট নেয়ার দিনে হারল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। তৃতীয় রাউন্ডে সাকিব আল হাসানের মোহামেডানের কাছে ২৭ রানে হেরেছে তামিম ইকবালদের প্রাইম ব্যাংক। এবারের আসরে টানা তৃতীয় জয় পেল মোহামেডান। আর প্রথমবারের মতো হার দেখল প্রাইম ব্যাংক।

১৫১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে খানিকটা নড়বড়ে শুরু করে প্রাইম ব্যাংক। প্রথম দুই ম্যাচের মতো এদিনও ব্যর্থ দলটির অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়। ৫ বলে ৩ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে তুলে মারতে গিয়ে সাকিবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

এরপর তিনে নামা রনি তালুকদারকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও বড় জুটি গড়তে পারেননি তামিম। ধীরগতির ২০ বলে ২০ রান করে শুভাগত হোমের বলে সাজঘরে ফিরেছেন বাঁহাতি এই ওপেনার। তামিমের বিদায়ের পর সাজঘরে ফিরেছেন রনিও।

ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান করেছেন ১৯ বলে ১৯ রান। এরপরই প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটিং ইউনিটে ধস নামে। একে একে সাজঘরে ফিরেছেন অলক কাপালি, নাহিদুল ইসলাম ও রকিবুল হাসানরা। তাঁদের দুজনের কেউই তিন অঙ্কের কোটা পূরণ করতে পারেননি।

ব্যাটসম্যানদের আসা যাওয়ার মিছিলে বেশ কিছুদিন ধরে বাজে সময় পার করা মোহাম্মদ মিঠুন করেছেন ১৮ বলে ২৫ রান। আর শেষ দিকে নাইম হাসান ১৯ ও মনির হোসেন করেছেন ১৭ রান। তবে তাঁদের প্রচেষ্টা কেবল প্রাইম ব্যাংকের হারের ব্যবধানই কমিয়েছেন।

মোহামেডানের হয়ে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন আবু জায়েদ রাহি, তিসকিন ও সাকিব। ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন রাহি, ১৫ রানে তাসকিন তিনটি আর ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। একটি করে উইকেট পেয়েছেন আবু হায়দার রনি ও শুভাগত।

এর আগে পারভেজ হোসেন ইমনের হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রানে সংগ্রহ করে মোহামেডান। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে মোহামেডাকে দারুণ শুরু এনে দেন দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও মাহমুদুল হাসান।

শুরু থেকেই প্রাইম ব্যাংকের বোলারদের ওপর চড়াও হন এই দুই ওপেনার। দলীয় ৪০ রানের সময় ও ইনিংসের পঞ্চম ওভারের তৃতীয় ওভারে প্রাইম ব্যাংককে ব্রেক থ্রু এনে দেন নাহিদুল ইসলাম। রনি তালুকদারের দারুণ ক্যাচে ১৮ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফেরেন মাহমুদুল।

ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান ফিরলে ভাঙে ইমনের সঙ্গে তাঁর ৪০ রানের জুটি। এরপর শামসুর রহমান শুভকে নিয়ে দারুণ এক জুটি গড়েন ইমন। শামসুর ধীরগতিতে ব্যাটিং করলেও দ্রুত রান তুলতে থাকেন ইমন। ৪ ছক্কা ও ৩ চারে এবারের আসরে নিজের প্রথম হাফ সেঞ্চুরির দেখা পান বাঁহাতি এই ওপেনার।

হাফ সেঞ্চুরির পর অবশ্য ইনিংস বড় করতে পারেননি। অলক কাপালির বলে রনির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ইমন। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৩৮ রান তুলেছেন সাকিব ও শামসুর। ইনিংসের ১৮তম ওভারে মুস্তাফিজের বলে স্কুপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন সাকিব। গেল ম্যাচে শূন্য রানে আউট হওয়ার পর এদিন ফিরেছেন ১৫ বলে ২০ রান করে।

এর আগে ব্যক্তিগত ১৭ রানের সময় শরিফুল ইসলামের বলে জীবন পেয়েছেন তিনি। মিড উইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা নাহিদুল ইসলাম তাঁর ক্যাচ ছেড়েছিলেন। ওই ওভারে সাকিবসহ তিনটি উইকেট নিয়েছেন মুস্তাফিজ। দ্বিতীয় বলে সাকিবকে ফেরানোর পর চতুর্থ ও ষষ্ঠ বলে শুভাগত হোম ও শামসুরকে ফিরিয়েছেন বাঁহাতি এই পেসার।

শেষ দিকে মোহামেডানের আর কোন ব্যাটসম্যান সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। গেল ম্যাচে হাফ সেঞ্চু্রি করা ইরফান শুক্কুরও এদিন ফিরেছেন শূন্য রানে। ২০তম ওভারে আবু হায়দার রনি ও তাসকিন আহমেদকে ফিরিয়েছে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন মুস্তাফিজ।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট পেলেন তিনি। এর আগে ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। আর শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান তোলে মোহামেডান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মোহামেডান: ১৫০/৮ (ওভার ২০) (ইমন ৫০, সাকিব ২০, শামসুর ৩৩, মুস্তাফিজ ৫/২২, নাহিদুল ১/১৬)
প্রাইম ব্যাংক: ১২৩/১০ (ওভার ১৯.৩) (মিঠুন ২৫, তামিম ২০, নাইম ১৯*, তাসকিন ৩/১৫) রাহি ৩/৩৩, সাকিব ২/১৬)

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*