মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে আমি কী জবাব দেব!

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিধায়ক হতে না হতেই কৌতুক অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক ও অভিনেত্রী স্ত্রী পিঙ্কি ব্যানার্জির দাম্পত্য সম্পর্কের টা’নাপো’ড়েন নিয়ে তোলপাড় টালিপাড়া। স্বামী-স্ত্রী দুজনই থানায় একে অপরের বিরুদ্ধে অভি’যোগ করেছেন।

তবে স্ত্রীর করা অভিযোগে বিব্রত সদ্য বিজয়ী তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন। তার ভাষ্য— পিঙ্কির অভিযোগে দলের কাছে তার মাথা হেট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে তিনি মমতা ব্যানার্জিকে মুখ দেখাবেন। শনিবার রাতে নিউ আলিপুর থানায় কাঞ্চনের বিরু’দ্ধে অভিযোগ করেন স্ত্রী পিঙ্কি ব্যানার্জি। স্বামীর বান্ধবী শ্রীময়ী চট্টরাজের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন তিনি। এর পর দিন রবিবার স্ত্রীর নামে পাল্টা অভিযোগ করেন কাঞ্চন।

দুজনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে আনন্দবাজারে কলাম লেখেন কাঞ্চন। সেখানে স্ত্রীর বিরু’দ্ধে অ’ভিযোগের আঙুল তুলে অভিনেতা বলেন, অন্যকে মিথ্যে দো’ষারো’প করতে গিয়ে নিজেই প্রকৃত সত্য সামনে এনে ফেললেন পিঙ্কি। তিনি নিজে প্রেমে পড়েছেন। অর্থাৎ প’র’কী’য়া করছেন। সে জন্যেই কি তার প’রিণত দুজন মানুষের পর’কী’য়ায় আ’প’ত্তি নেই?

নাকি সেই জায়গা থেকে ছাড় পেতে আমাকে শ্রীময়ী চট্টরাজের সঙ্গে জড়িয়ে দিলেন? যার সঙ্গে আমার প’র’কী’য়া দূর’অস্ত কাজের বাইরে কোনো সম্বন্ধই নেই! এই প্রশ্ন কেউ করেছেন তাকে? ‘জানতে চেয়েছেন— পিঙ্কির প্রশাসনিক মহলে কতজন ‘বন্ধু’ রয়েছেন? কেউ জিজ্ঞাসা করবেন না। কারণ কোনো নারী এ ধরনের অভিযোগ তুললে সমাজ তার পক্ষে।’

কাঞ্চন বলেন, পুরুষদেরও কান্না পায়, কে বুঝবে? তার ওপর সে যদি হয় ‘লোক হাসানো’ কাঞ্চন মল্লিক! লোক হাসাতে হাসাতে আজ একা ঘরে হাউহাউ করে কাঁদছি। কেউ দেখার নেই! আজ মনে হচ্ছে— ভাগ্যিস শ্রীময়ী আর আমার আপ্ত সহায়ককে শনিবার সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। একা কথা বলতে গেলে বোধহয় আমার বিরুদ্ধে ৪৯৮-এ মা’ম’লা করত পিঙ্কি।

তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন আরও বলেন, গণমাধ্যমে মুখ খোলার পরই ফোনের ব’ন্যা। রাতারাতি ক’লঙ্কি’ত নায়ক আমি। রাস্তায় বেরোতে পারছি না। লোকের সঙ্গে মাথা তুলে কথা বলতে পারছি না। সবার বিস্মিত দৃষ্টি যেন তীরের মতো বিঁধছে। মাথা হেট নিজের দলের কাছে। কী উত্তর দেব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে? তারা আমায় ভরসা করে একটি কেন্দ্রের বিধায়ক পদে প্রার্থী করেছেন। দলের কাছে, নেত্রীর কাছে এভাবে ছোট করার মানে কী?

তিনি বলেন, বিধায়ক পদে জেতার পর মিষ্টি নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলাম। পরের দিন গণমাধ্যমের কাছে পিঙ্কির আ’ক্ষেপ— জাত অ’ভিনেতার অপ’মৃ’ত্যু হলো! আমার জয়ে তার এ মন্তব্য? ‘এর পরই কিন্তু একাধিক দাবি-দাওয়ার ঝুলি খুলে বসে আমার স্ত্রী। প্রতি মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকা দিতে হবে তাকে।

চাকরিও দিতে হবে ছেলের আয়ার ভাইকে! এত দাবি মেটানো আমার পক্ষে সম্ভব? বিধায়ক হলেও আদতে আমি তো ছা-পোষা অভিনেতা। আমার সঙ্গে যখন জি বাংলায় শো করতে গেল, তখনও ক্যামেরার সামনে কি নিখুঁত সুখী দম্পতির অভিনয় করল!’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*