মাহমুদউল্লাহর অবসর নিয়ে মুখ খুললেন ইমরুল

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলেই দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১৭ মাস পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে ১৫০ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। হুট করে মাহমুদউল্লাহর এ ধরণের সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার সহ দেশের ক্রিকেটের অনেক ভক্ত-সমর্থকই।

বাংলাদেশের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইমরুল কায়েসও মাহমুদউল্লাহর টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন। তবে তার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদও জানিয়েছেন তিনি। অনেকের কাছে অভিমান করে টেস্ট ক্রিকেট ছেড়েছেন মাহমুদউল্লাহ এমনটা মনে হলেও সেভাবে ভাবতে চাননা ইমরুল।

ক্রিকফ্রেঞ্জিকে দেয়া একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, ‘এটা সবার জন্য অবাক করা বিষয়। একজন ক্রিকেটার হিসেবে বলব রিয়াদ ভাই যে সিদ্ধান্তটি নিয়েছে আমি তার এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই, যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করি। এ কারণেই যে একজন খেলোয়াড় জানে যে কোন সময় তাকে সরে যাওয়া উচিত। হয়তবা সামনে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটটাতে আরো মনযোগ দেয়ার জন্য, অনেক ভালো খেলার জন্য হয়তবা এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। সমানে বিশ্বকাপ আছে সেখানে ফিট থাকার জন্য এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। আমি পুরোপুরি সাধুবাদ জানাই।’

মাহমুদউল্লাহর বয়স হয়েছে ৩৫ বছর। টেস্ট ক্রিকেট থেকে এবই সময় অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত দেশের ক্রিকেটের জন্যই ভালো হয়েছে বলে মনে করেন ইমরুল। কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, মাহমুদউল্লাহর জায়গায় একজন তরুণ ক্রিকেটার সুযোগ পাবে। যা আগামীর জন্য দেশের ক্রিকেটে সুফল বয়ে আনবে।

এ প্রসঙ্গে ইমরুল বলেন, ‘অবশ্যই প্রয়োজন তো ছিল কারণ এ রকম একজন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার যখন ওই জায়গা ছেড়ে চলে যাবে এ অভাবটা পূরণ করা কষ্টকর। আবার আর একদিক থেকে যদি চিন্তা করেন যে আমি এ জন্য রিয়াদ ভাইকে ধন্যবাদ জানাবো তার জায়গায় আর একজন তরুণ খেলোয়াড়কে সুযোগ করে দিয়েছে। রিয়াদ ভাই আরো খেললে হয়ত ঐটা জায়গায় সুযোগ পেত না সে। তো তরুণ একজন ঐ জায়গাটায় ২ বছর খেলার সুযোগ পাবে। তো আমি বলব যে এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যই অনেক ভালো হয়েছে।’

বিদায়ী টেস্টে ১৫০ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি সতীর্থদের কাছ থেকে গার্ড অফ অনারও পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। দেশের ক্রিকেটে এবারই প্রথম কোন ক্রিকেটার গার্ড অফ অনার পেলেন। মাহমুদউল্লাহকে তাই ভাগ্যবান মানছেন ইমরুল। সঙ্গে জানিয়েছেন প্রত্যেকটা খেলোয়াড়েরই ইচ্ছে থাকে নিজের বিদায়ী ম্যাচ খেলে মাঠ তেকে বিদায় নেয়া।

ইমরুল বলেন, ‘আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের একটা প্রিভিলেজ থাকা উচিত যে মাঠ থেকে বিদায় নেয়া। তো রিয়াদ ভাই অনেক ভাগ্যবান যে মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছে, মাথা উঁচু করে বিদায়টা নিয়েছে। উনি ওনার ক্যারিয়ারটা যখন শেষ করবে মাথা উঁচু করে এভাবেই যেন ক্যারিয়ারটা শেষ করতে পারে। প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ই চায় আসলে মাঠ থেকে এভাবে বিদায় নিতে।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*