মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এই তিন জেলায় ভ্রমণ না করার নির্দেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের !

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ে দেশে ম্যা’লে’রিয়া ও ডে’ঙ্গু রো’গের প্রকোপ বাড়ছে। এ অবস্থায় দেশের তিনটি জেলা ভ্রমণ না করাই ভালো। জেলা তিনটি হলো- বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি।

অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. মো. রোবেদ আমিন আজ বুধবার ভার্চুয়াল বুলেটিনে এ পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, যখনই বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়, আমরা দেখতে পাই তখনই মানুষ বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজার ভ্রমণে যান।

কিন্তু এগুলো ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকা। এসব এলাকায় বৃষ্টির সময় ও বৃষ্টি পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি থাকবে। তাই আমাদের অনুরোধ হলো, ভ্রমণের চিন্তা থেকে এসব জায়গার নাম বাদ দিলেই ভালো হবে।

ডা. রোবেদ আমিন বলেন, বাংলাদেশে ম্যা’লেরি’য়ার যে সং’ক্রমণ হয় তার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকার। চলতি বছরের মে ও জুন মাসে ১ হাজার ৫৮৫ জন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

যার ১ হাজার ২১৫ জনই বান্দরবানের বাসিন্দা। এ ছাড়া রাঙ্গামাটির ২৩৬ জন এবং ৩৭ জন খাগড়াছড়ির বাসিন্দা। চিকিৎসা নেওয়া ১ হাজার ৫৮৫ জনের মধ্যে ৫ জন ম্যা’লেরিয়া রো’গে মা’রা গেছেন। দেশে ডে’ঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই মুখপাত্র।

বলেন, প্রায় ৪৮ জন রোগী ডে’ঙ্গুতে আক্রা’ন্ত হয়েছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। আর চলতি জুলাই মাসের এই কয়দিনেই আ’ক্রান্ত হয়েছেন ৪৭৪ জন। অথচ গোটা জুন মাসে ডে’ঙ্গু রো’গীর সংখ্যা ছিল ৭১ জন।

ঢাকায় আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও ধীরে ধীরে ঢাকার বাইরেও বাড়ছে ডে’ঙ্গু রোগীর সংখ্যা।বর্তমানে ঢাকার বাইরে ডে’ঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩২ জন জানিয়ে ডা. রোবেদ আমিন বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডে’ঙ্গুতে আ’ক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৮১২ জন।

সবাইকে ডে’ঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হতে হবে। এ জন্য ব্যবহার করতে হবে মশারি। পরিষ্কার করতে হবে জমে থাকা পানি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি এবং সরকারির পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি উল্লেখ করে অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন,

ঢাকায় অনেকেই ইতোমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে অনেকের অবস্থা আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) নেওয়ার মতো হয়েছে। ডেঙ্গু রোগী করোনায় আক্রান্ত হলে অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে খেয়াল করতে হবে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*