‘মধুর সমস্যা’য় সৌম্য, দলীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে নন ফারুক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার সাত বছর হলো সৌম্য সরকারের। এই কয় বছরে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ রেখেছেন জাতীয় দলের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অনেক ম্যাচে দলের জয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দুটি ম্যাচ খেলেছেন। তবে এই দুটি ম্যাচে ‘মধুর সমস্যা’য় পড়েছেন সৌম্য। কোনো ম্যাচেই ব্যাটিং কিংবা বোলিং- কোনোটাই করা হয়নি তার।

ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে বেশ অনায়েসে জিতেছে টাইগাররা। প্রথম ম্যাচটি ৬ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয় ম্যাচ ৭ উইকেটে জিতে সিরিজ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই দুই ম্যাচে বোলার আর ব্যাটসম্যানরা বেশ ভালোও করেছেন। তাই সৌম্যর কোনো অবদানের প্রয়োজনও পড়েনি।

তবে এর পেছনে একটি বড় কারণও রয়েছে। এই সিরিজে সৌম্যর ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন করা হয়েছে। সাধারণত টপ অর্ডারে ব্যাট করে থাকেন। কিন্তু এই সিরিজে তার পজিশন ব্যাটিং অর্ডার ৬-৭ নম্বরে। যে কারণে তার আর ব্যাট করার প্রয়োজন হয়নি। অন্যদিকে বল হাতে মুস্তাফিজুর রহমান, হাসান মাহমুদ, সাকিব আল হাসান, মেহেদী হাসান মিরাজদের বোলিং দাপটের কারণে বল হাতে নেওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি।

সৌম্যর এই ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। সাত বছরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে সৌম্য ৫৭টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ৭ নম্বরে দুইবার ব্যাট করেছেন। আর ৬ নম্বরে ব্যাট করেছে একবার। টপ অর্ডারের একজন ব্যাটম্যানকে হঠাৎ করে ৬-৭ নম্বরে ফিনিশারের ভূমিকায় ব্যাট করতে হচ্ছে। সৌম্যকে অবশ্য আগেই এই বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

সৌম্যের ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তন নিয়ে বিডিক্রিকটাইমের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, সৌম্যর ব্যাটিং অর্ডার পরিবর্তনের বিষয়টি মোটেও যুক্তিসঙ্গত হয়নি। এটা তার ক্যারিয়ারের জন্য হুমকি হতে পারে।

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এটা একদমই যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ, আমরা সবসময় ক্রিকেটে টিম কম্বিনেশন বলি- সেখানে ওপেনিং ব্যাটসম্যান থাকে, ফিনিশার থাকে, মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান থাকে। আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল আমরা নির্দিষ্ট পজিশনের কোনো খেলোয়াড়কে সেভাবে মূল্যায়ন করি না। আমরা সাব্বিরকে নিয়ে এসেছিলাম, নাসিরকে নিয়ে এসেছিলাম, এরা কিন্তু সবাই ৬-৭ এর প্লেয়ার ছিল। কারণ ছয় নম্বরে তারা খুব সুন্দর ব্যাটিং করত, স্ট্রোকস খেলতে পারত, বলে বলে রান নিয়ে খেলতে পারত। কিন্তু মিডল অর্ডার খেলা আর টপ অর্ডারে খেলার মধ্যে পার্থক্য আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন জোর করে এ জিনিসটা হয় কি… আমরা একটা জিনিস বুঝি না মানে আমার কাছে বোধগম্য হয় না, টিম ম্যানেজমেন্ট যদি কোন ওপেনিং ব্যাটসম্যান… দুনিয়াতে এরকম অনেক ইতিহাস আছে ওয়াকার ইউনুস, ওয়াসিম আকরাম যখন খেলত তখন আকিব জাবেদের মত বোলাররা কিন্তু সাইডলাইনে থাকতো, যেকোনো সময় কিন্তু এই বলাটা যেকোনো দলে খেলতে পারত।

দিস ইজ ব্যাড লাক, আমার কথা হল যদি কোনো পজিশনে পার্টিকুলার কোনো ক্রিকেটার আসে তাহলে ওই পজিশনের প্লেয়ার বাইরে থাকবে। যে ৬-৭ নম্বরে খেলবে তাকে ৬-৭ নম্বর খেলতে হবে। এই জায়গায় সাইফুদ্দিন ফিট থাকলে সে খেলতে পারবে একটা বোলার পাবে হিট করতে পারে মিডল অথবা লোয়র মিডল অর্ডারে আমার মনে হয় জোর করে কাজটা ভালো করছে না টিম ম্যানেজমেন্ট।‘

বোর্ডের সাবেক এই প্রধান নির্বাচক মনে করেন, সৌম্যকে টেস্টের জন্য ছয় নম্বরে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে এটা ভালো হবে না।ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সৌম্য ভালো খেলোয়ার আমি সিলেক্টর থাকা অবস্থায় সে দলে চান্স পেয়েছে আমি জানি সে কি ধরনের খেলোয়াড়। তার ক্যাপাবিলিটি টপ অর্ডারে ভালো করার মত। সৌম্যকে যদি ছয় নম্বরে টেস্টের জন্য তৈরি করা হয় তবে সেটা ভিন্ন কথা। তবে ওয়ানডেতে সৌম্যর কাছ থেকে এই পজিশনে আমরা ভালো কিছু পাবেন না।‘

অথচ সিরিজ শুরু আগে থেকেই অনুশীলনে ঘাম ঝড়াছেন সৌম্য সরকার। ব্যাট হাতে যেমনি নেটে ঘাম ঝড়িয়েছেন তেমনি বল হাতেও কঠোর অনুশীলন করতে দেখা গেছে। তবে সৌম্যকে যে এভাবে যে দুই ম্যাচ ব্যাটিং-বোলিং না করে শুধু ফিল্ডিং করে কাটিয়ে দিতে হবে সেটাই বা কে জানত। স্বস্তি আছে বটে- অন্তত বাজে ফর্মের তকমা নিয়ে একাদশ থেকে বাদ পড়তে হচ্ছে না। কিন্তু এমন একটা মধুর সমস্যায় তাকে পড়তে হবে সেটা হয়তো সৌম্য নিজেও জানতেন না।

এখন দেখার অপেক্ষা, তৃতীয় ওয়ানডেতেও কি সৌম্যকে এই মধুর সম্যায় পড়তে হয় কিনা। যদিও বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কেমন পারফরম্যান্স করে তার ওপর!

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*