ভোটে হেরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বললেন, ‘ইভিএম মানেই ১০০℅ ভুয়া’

রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচনে সাধারণ সদস্য পদে পরাজিত হয়ে নিজের ফেসবুক পেজে ইভিএম নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন এজেডএম সেকেন্দার আলী মন্ডল নামে এক প্রার্থী। তিনি পীরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

সোমবার ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণায় দেরি এবং ভোট গণনার সময় কক্ষে থাকতে না দেওয়ায় ইভিএম নিয়ে পরপর ৬টি পোস্ট দেন এই প্রার্থী ।
সেকেন্দার আলী একটি পোস্টে বলেন, ‘পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বড় চোরটার নাম ইভিএম।’অপর একটি পোস্টে বলেন, ‘ইভিএম মানেই ১০০℅ ভুয়া যাকে মন চায় তাকেই জিতানো সম্ভব।’

আরও একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘পীরগঞ্জে ইভিএমে ভোট শেষে যে প্রিন্ট আউট করা হয়, এজেন্টদের আড়াল করে সেটা করা হয়েছে। প্রিন্ট আউটের কাগজ এজেন্টদের দেখানো হয়নি। হাতে লেখা কাগজ দেখানো হয়েছে।’

সোমবার (১৭ অক্টোবর) রংপুর জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জেলা পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে (পীরগঞ্জ) তিনিসহ ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ভোটে ২১১ জন ভোটরের মধ্যে ২০৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সাধারণ সদস্য পদে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এজেডএম সেকেন্দার আলী মন্ডল বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকে ৫ ভোট পেয়েছেন। তালা-চাবি প্রতীকে ৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মিঠিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদ আলী সরকার হাতি প্রতীকে ৭৩ ভোট পেয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেকন্দার আলী মন্ডল সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ করা এখন কঠিন। মনে হয় আমি আর আওয়ামী লীগ করবো না। কারণ জীবন বাজি রেখে দল করছি। আর আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। আগামীতে চিন্তা ভাবনা করে রাজনীতি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা বাণিজ্য করবো।

তিনি আরও বলেন, ইভিএমে ভোট গ্রহণের পর ফলাফল প্রকাশেও দেরি করা হয়। এ সময় আমার এজেন্ট প্রতিবাদও করেছে। পাশাপাশি ভোটের রেজাল্ট শিট প্রিন্ট করা কপি না দিয়ে হাতে লেখা রেজাল্ট শিট দিয়েছে। আমরা প্রার্থীরা ভোটগণনার সময় থাকতে চাইলেও প্রিসাইডিং অফিসার থাকতে দেননি।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম বলেন, নির্বাচনে জয় পরাজয় থাকবেই। পরাজিত হয়ে এলোমেলো কথা ফেসবুকে লিখে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করা ঠিক না। যিনি বিতর্কিত কথা লিখছেন, তিনি একজন দায়িত্বশীল মানুষ। আমরা এমন লেখা প্রত্যাশা করি না।

নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদি কারও আপত্তি থাকে, তবে তিনি বিধি অনুযায়ী আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।

Sharing is caring!