ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার স্মরণীয় পাঁচ লড়াই

রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় কোপা আমেরিকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। এ দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে বিরাজ করছে উত্তেজনা। রীতিমতো দুই ভাগে বিভক্ত তামাম বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। ঐতিহ্যগতভাবেই এ দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা চরমে।

সাধারণ প্রীতি ম্যাচ থেকে শুরু করে যেকোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল- দুই দলের মধ্যে লড়াইয়ের বার্তা থাকে উচ্চ পর্যায়ের। যুগ যুগ ধরে একের পর এক শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ উপহার দিয়ে চলেছে এ দুই দল। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার আরও একটি সুপার ক্লাসিকো ম্যাচের আগে দেখে নেয়া যাক এ দুই দলের স্মরণীয় পাঁচটি ম্যাচের ঘটনা:

১৯৯০ বিশ্বকাপ, দ্বিতীয় রাউন্ড (আর্জেন্টিনা ১-০ ব্রাজিল) গ্রুপপর্বে তৃতীয় হওয়ায় দ্বিতীয় রাউন্ডেই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের সামনে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৯৯০ সালের ২৪ জুন হওয়া সেই ম্যাচে ১-০ গোলে জিতেছিল আলবিসেলেস্তেরা। পরে সেই আসরে রানার্সআপ হয় তারা। ব্রাজিলের বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটিতে জিততে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।

দারুণ ফর্মে থাকা ব্রাজিলকে আটকে রাখাই যেন কঠিন হয়ে পড়ছিল তাদের জন্য।শেষমেশ ম্যাচের ৮১ মিনিটে গিয়ে দিয়েগো ম্যারাডোনার পাস থেকে গোল করে দলকে দুর্দান্ত এক জয় এনে দেন ক্লাউদিও ক্যানাজিয়া। সেই ম্যাচকে ঘিরে অবশ্য রয়েছে হোলি ওয়াটার স্ক্যান্ডাল।

১৯৮২ বিশ্বকাপ, দ্বিতীয় রাউন্ড (আর্জেন্টিনা ১-৩ ব্রাজিল) ইতালির বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম ম্যাচ হেরে যাওয়ায়, টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে ব্রাজিলের বিপক্ষে জয়ব্যতীত আর পথ খোলা ছিল না আর্জেন্টিনার সামনে। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই জিকোর গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

পরে সার্জিনহো ও জুনিয়রের গোলে নিশ্চিত হয়ে যায় জয়। ম্যাচের একদম শেষ দিকে এক গোল শোধ দিয়ে ব্যবধান কমান র‍্যামন ডিয়াজ। এই ম্যাচের ৪১ মিনিটের সময় বাতিস্তাকে কিক মেরে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনাকে।

২০০৪ কোপা আমেরিকা ফাইনাল (আর্জেন্টিনা ২ (২)-২ (৪) ব্রাজিল) প্রায় ১৭ বছর আগে জুলাই মাসের ২৫ তারিখে কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। মার্সেলো বিয়েলসার দল সেদিন হারাতে পারেনি কার্লোস আলবার্তো পেরেইরার শিষ্যদের।

মূল ম্যাচ ২-২ গোলে ড্র থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে জেতে ব্রাজিল। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে আর্জেন্টিনার পক্ষে গোল দুইটি করেন কাইলি গনজালেজ ও সিজার দেলগারো। অন্যদিকে ব্রাজিলের হয়ে স্কোরশিটে নাম তোলেন লুইসাও ও আদ্রিয়ানো।

পরে টাইব্রেকারে গিয়ে আন্দ্রেস আলেজান্দ্রোর শট ঠেকিয়ে দেন ব্রাজিল গোলরক্ষক হুলিও সিজার এবং বারের ওপর দিয়ে মারেন গ্যাব্রিয়েল হেইঞ্জ। যার ফলে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় আর্জেন্টিনাকে।

২০০৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব (আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্রাজিল) টাইব্রেকারে কোপা আমেরিকা ফাইনাল হারের পরের বছর জুনের ৭ তারিখে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের সেই ম্যাচে ৩-১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

দলের পক্ষে জোড়া গোল করেন হার্নান ক্রেসপো। অন্য গোলে নিজের নাম লেখান হুয়ান রোমান রিকুয়েলমে। পুরো ম্যাচেই ছিল রিকুয়েলমের জাদুর ঝলক। ব্রাজিলের পক্ষে একটি গোল শোধ করেন রবার্তো কার্লোস।

১৯৬৪ নেশনস কাপ (আর্জেন্টিনা ৩-০ ব্রাজিল) ১৯৬৪ সালের নেশনস কাপের শিরোপা জেতার পথে ব্রাজিলের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। পেলের দলের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন রবার্তো তেলচ ও অন্য গোল করেন আরমিন্দো ওনেগা। যার সুবাদে তখনকার দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। এর তিনদিন পর মারাকানা স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে নেশনস কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*