বৃষ্টি কালই হলো বাংলাদেশের

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে অন্তত প্রকাশ্যে কোনো আশা জাগাননি বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। কিন্তু মাঠে নেমে ঠিকই ম্যাচ জমিয়েছে টাইগাররা। টস জিতে ফিল্ডিং নেয়ার পর তাসকিনের দারুণ সূচনা। অপরপ্রান্তে শরীফুল আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি একদমই। সাকিব-হাসান মাহমুদরা উইকেট পেলেও ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিংয় লাইনআপ ঠিকই ১৮৪ রানের বড় পুঁজি গড়ে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যাটিং পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিঃসন্দেহে উইনিং স্কোর।

কিন্তু লিটন দাস যে অতিমানবীয় কিছু করে বসবেন সেটি তো জানা ছিল না রোহিত শর্মাদের। কোনো উইকেট না হারিয়েই মাত্র ৭ ওভারে ৬৬ রান তুলে ফেলে বাংলাদেশ। যেখানে লিটন একাই করেন ৫৯ রান! সেটিও মাত্র ২৬ বলে, ৩ ছয় আর ৭ চারে। তখনই বৃষ্টির হানা। এতে টাইগার ভক্তদের বড় অংশ আশাবাদীই ছিলেন কারণ বৃষ্টি আইনে বল আর মাঠে না গড়ালে ১৭ রানে জয় পেতো বাংলাদেশ।

কিন্তু আশার উল্টো পিঠেই থাকে আশঙ্কা। খেলা যদি মাঠে গড়ায় আউটফিল্ড তো স্লো হয়ে যাবে। বিগ হিটের হিসাবনিকাশে বাংলাদেশ কতটা কী করতে পারবে? অবশ্য মাঠে তো লিটন থাকবেন! আধঘণ্টার কিছু বেশি সময় পর খেলা যখন মাঠে গড়ায় বাংলাদেশের সামনে সমীকরণটা দাঁড়ায় ১৬ ওভারে ১৫১। অর্থাৎ আর ৫৪ বলে ৮৫ রান করতে হতো বাংলাদেশের। আপাতদৃষ্টিতে খুব কঠিন বলার সুযোগ নেই। কিন্তু প্রশ্ন ছিল, একই মোমেন্টামে ব্যাট করতে পারবে টাইগাররা? নাকি ছন্দপতন ঘটবে? পাশাপাশি ধীরগতির আউটফিল্ডের বিষয়টি তো ছিলই।

বৃষ্টিবিরতি কাটিয়ে ফেরাটা সুখের হলো না বাংলাদেশের। দু’বল পরই কেএল রাহুলের এক অসাধারণ থ্রোতে রানআউটের ফেরে পড়ে মাঠ ছাড়েন লিটন। এরপর শান্ত-সাকিবের ১৬ রানের জুটি আশা জাগালেও বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে শামির বলে যাদবের হাতে ধরা পড়েন শান্ত। সাকিব দুটো বাউন্ডারি হাঁকিয়ে আর্শদিপের বলে মিসটাইমিং হিটে বদলি দিপক হুদার হাতে ধরা পড়েন। ব্যাটিং ডিসপ্লের দারুণ সুযোগ নষ্ট করে একে একে ফিরে যান আফিফ, ইয়াসির রাব্বী, মোসাদ্দেকরা। এদের মধ্যে একমাত্র মোসাদ্দেকের মধ্যেই ছিল পজেটিভ ইন্টেন্ট। নেমেই দারুণ এক ছয় হাঁকিয়েছিলেন। কিন্তু পান্ডিয়ার সুইংয়ে স্ট্যাম্প ছেড়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেন।

মাত্র ১১ বলের এক ঝড়ে বাংলাদেশ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ১২-তম ওভারে আর্শদিপের হাতে বল তুলে দেন রোহিত প্রথম বলে আফিফ সূর্যকুমারের তালুবন্দী হন। চার বল পরই ফেরেন সাকিব, স্কোরকার্ডে যুক্ত হয় মাত্র ১টি রান। পরের ওভারে অ্যাটাকে আসেন হার্দিক পান্ডিয়া। দ্বিতীয় বলেই ইয়াসির আলী রাব্বী ফিরেন। এসেই একটি ছয় হাঁকিয়ে পঞ্চম বলে ফেরেন মোসাদ্দেক। এই সর্বনাশা ১১ বলে মাত্র ৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছে টাইগাররা।

ম্যাচের যেখানে শেষ দেখে ফেলেছেন সবাই, সেখান থেকেই শুরু করেন সোহান-তাসকিন। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১৯ বলে তোলেন ৩৭ রান। আর্শদিপের করা ১৪-তম ওভারে নুরুল হাসান সোহান দু’বার স্কুপ করেন। ভেজা আউটফিল্ডের কারণে সেখান থেকে আসে মাত্র ৪ রান। শুকনা মাঠে দু’টো শটই বাউন্ডারি পার হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা ছিল। এর আগে, নবম ওভারে ভেজা আউটফিল্ডের একই বিড়ম্বনায় পড়েন সাকিবও।

দিনশেষে মাত্র ৫ রানের অফসোস নিয়ে মাঠ ছাড়তে হলো টাইগারদের। ভক্তদের মনে আফসোস, ইশ্ লিটন যদি রান আউট না হতেন, সেই সর্বনাশা ১১ বলে যদি ব্যাট হাতে কেউ রুখে দাঁড়াতো, আউটফিল্ড যদি আরেকটু ভালো থাকতো… স্বপ্ন তো ছুঁয়েই ফেলেছিল বাংলাদেশ!

সোহান-তাসকিন আশা জাগিয়েও জয় তুলে নিতে পারেননি।এমন ছোট ছোট যদি, কিন্তুর সমীকরণ মিলিয়েই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিততে হয়। সেখানেই এগিয়ে গেছে ভারত। তবে ম্যাচ হারলেও ঠিকই ম্যাচ জমানোর কৃতিত্ব পাচ্ছেন লিটন-তাসকিনরা।

ম্যাচ শেষে টাইগার অধিনায়ক সাকিবের কণ্ঠেও সেই স্বীকারোক্তি, ভারতের সঙ্গে খেললেই এমন হয় আমাদের। অনেক কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু পার হতে পারলাম না। দারুণ ম্যাচ, দর্শকেরা উপভোগ করেছে, দুই দলই উপভোগ করেছে। দিনশেষে কাউকে জিততে হবে, কাউকে হারতে হবে।

ছোট ছোট নানা সমীকরণ মেলানোর ইম্পেক্ট ক্রিকেটই তো রপ্ত করতে চায় বাংলাদেশ। তার একটি বড় লেসন হয়েই থাকবে ভারত ম্যাচ।

Sharing is caring!