বিএনপির সমাবেশে এতো লোক কেন?

বিএনপি ঢাকার কর্মসূচি শেষ করে এখন প্রতিটি বিভাগের কর্মসূচি পালন করছে। চট্টগ্রাম বিভাগের কর্মসূচির পর আজ ময়মনসিংহ বিভাগে মহাসমাবেশ করছে দলটি। চট্টগ্রামের জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল পলো গ্রাউন্ড মাঠে এবং সেখানে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল বলে সাধারণ পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। আজ ময়মনসিংহেও বিএনপির জনসভায় বিপুল জনসমাগম হয়েছে। এই বিপুল জনসমাগম হওয়ার ফলে বিএনপির নেতারা উল্লোসিত এবং তারা মনে করছে যে, বিএনপির জনসমর্থন বেড়েছে এবং বিএনপির প্রতি জনগণের আস্থা আছে।

এ কারণেই জনসমাগম হচ্ছে। আর এটা নিয়ে বিএনপির মধ্যে এক ধরনের উজ্জীবিত ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বিনপির জনসভাগুলোতে লোকসমাগম বেশি হওয়াটা মোটেও অবাক হওয়ার মত বিষয় নয়। বরং এটিই প্রত্যাশিত। কি কারণে বিএনপির জনসভায় লোকসমাগম বেশি হচ্ছে এ ব্যাপারে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল একাধিক কারণ উল্লেখ করেছেন।

১. কর্মীদের আগ্রহ: দীর্ঘদিন পর বিএনপির নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পেয়েছে এবং এই কর্মসূচিগুলোতে তারা অংশগ্রহণ করতে চাচ্ছে। বিএনপির কর্মীরা দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। তারা মনে করছে যে, রাজপথে আন্দোলন করা উচিত এবং রাজপথে আন্দোলনের ব্যাপারে তৃণমূল থেকে এক ধরনের চাপও বিএনপির মধ্যে আছে। আর সে কারণেই এই কর্মসূচিগুলোর ব্যাপারে বিএনপি কর্মীরা আগ্রহী। তারা প্রায় সকলেই কর্মসূচিতে যোগদান করেছেন। এ কারণে সমাবেশগুলোতে সমাগম বেশি হচ্ছে।

২. বিরোধী পক্ষের বক্তব্য কি শোনার আগ্রহ: সাধারণ মানুষ সাধারণত সরকারের সমালোচনা এবং বিরোধী পক্ষের বক্তব্য গুলো শুনতে চায়। এতোদিন বিএনপি কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করেনি, শুধুমাত্র প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিট মুখী কর্মসূচির মাধ্যমে ঘরোয়া সংবাদ করে সরকারের সমালোচনা করেছে। বিএনপির মধ্য থেকে বিভিন্ন সময়ে দাবি উঠেছিল যে, সারা দেশে বিএনপির আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। সেজন্য বিএনপিকে ঢাকার বাইরে যেতে হবে। জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। সাধারণত সব সময় সাধারণ মানুষ বিরোধী দলের বক্তব্য কি শুনতে চায়। সরকারের বক্তব্যের চেয়ে বিরোধী দলের বক্তব্য শোনার প্রতি মানুষের একটা আগ্রহ থাকে। আর এই কারণেই বিএনপি জনসভাগুলোতে সাধারণ মানুষও আগ্রহ নিয়ে যাচ্ছে যে তারা কি বলে সেটা শোনার জন্য। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সব সময় বিরোধী দলের সমাবেশগুলোর ব্যাপারে রাজনীতির ক্ষেত্রে উৎসাহী মানুষের আগ্রহ থাকে।

৩. দেশের বর্তমান পরিস্থিতি: দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, লোডশেডিং ইত্যাদি নিয়ে জনগণের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে বিরোধীদলগুলো কি বলে সেটি শোনার জন্যই অনেকের আগ্রহ রয়েছে এবং সে কারণে তারা যাচ্ছে।

৪. বিএনপি সংগঠিত হচ্ছে: এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি অনেক সংগঠিত হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন কমিটিগুলো করার মধ্য দিয়ে বিএনপির কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের সাংগঠনিক ঐক্য তৈরি হয়েছে এবং তারা মনে করছে, যেকোনো মূল্যে সংগঠনকে টিকিয়ে রাখতে হবে। আর এ কারণেই এখন তারা সাংগঠনিকভাবে অনুষ্ঠানগুলোতে যোগ দিচ্ছে। তাছাড়া এখন বিএনপির বিভিন্ন কমিটিগুলো হচ্ছে। কাজেই এই কমিটিগুলো গঠনের মাধ্যমে কর্মীরাও তাদের চেহারা দেখিয়ে কমিটিতে জায়গা পাওয়া বা নেতৃত্ব পাওয়ার জন্য এক ধরনের প্রতিযোগিতা করছে। এ কারণেও বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম হচ্ছে। কিন্তু কোনো জনসমাবেশের লোকসমাগম মানেই তাদের প্রতি জনসমর্থন রয়েছে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিভিন্ন সময় দেখা গেছে যে, জনগণ অনেক জনসভায় যায়। কিন্তু তাদের মতামত এবং চিন্তা ভাবনাগুলো অন্যরকম। মাওলানা ভাসানীর জনসভাতেও প্রচুর লোক যেতেন। কিন্তু ভোটের বাজারে সেই উপস্থিতি মূল্যহীন পড়তো। কাজেই বিএনপির এই জনসমাবেশ গুলোতে লোক যাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু সেই লোকরা আসলে বিএনপির কথায় আন্দোলন করবে কিনা সে নিয়ে বিভিন্ন মহলের সংশয় রয়েছে।

Sharing is caring!