বাংলাদেশের বিপক্ষে ‘বিপদ’ নিয়ে ভাবছে ভারত

‘কাতার এখন অতীত, মনোযোগ এখন বাংলাদেশের দিকে’—ভারতীয় জাতীয় ফুটবল দলের টুইটার পেজের সর্বশেষ পোস্ট। বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে কাতারের বিপক্ষে মন্দ করেনি ভারত। ১৭ মিনিটে লালকার্ডের পর ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও বাকি সময় এশীয় চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দেয়াল গড়ে তোলাটা যথেষ্ট কৃতিত্বের।

১–০ গোলে হারলেও কাতারের বিপক্ষে ম্যাচে ভারতীয় দলের মাঠের পারফরম্যান্স অনুপ্রেরণাদায়ী। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচের আগে কাতার ম্যাচটি ভারতকে জয়ের ব্যাপারে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। ম্যাচটা যেহেতু বাংলাদেশের বিপক্ষে, তাই ভারতের ভাবনার বিষয়ও চলে আসছে।

২০১৯ সালে কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ৬৭ হাজার দর্শকের সামনে বাংলাদেশ যেভাবে ভারতকে চোখ রাঙিয়েছিল, তাতে দোহার ফিরতি ম্যাচটি নিয়ে ভারত আলাদাভাবে ভাবতে বাধ্য। সেদিন ম্যাচটা জেতার কথা ছিল বাংলাদেশেরই। সাদউদ্দিনের গোলে যুব ভারতীর দর্শকদের থমকে দিয়ে ম্যাচে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

এরপর গোটা কয়েক গোলের নিশ্চিত সুযোগ হাতছাড়া না করলে সেদিন শেষ হাসিটা বাংলাদেশই হাসত। কিন্তু ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ভারত সমতা ফিরিয়ে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিল। মান বাঁচানোর সেই ম্যাচের জবাব দিতে মরিয়া এখন ভারত।

পারলে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দিয়ে তৃপ্তি খোঁজে ইগর স্টিমাচের শিষ্যরা। কিন্তু আত্মবিশ্বাস, বিশ্ব তালিকায় অবস্থান—সবকিছু ছাপিয়ে দুই নিকটতম প্রতিবেশীর লড়াইটা আলাদা এক আবহ ছড়িয়ে দেয়। সেটা খুব ভালো টের পাচ্ছেন ডিফেন্ডার সুভাশিস বোস। ফিফার তালিকায় ভারতের অবস্থান (১০৫) আর বাংলাদেশের অবস্থানের (১৮৪) মধ্যে অনেক পার্থক্য।

কাগজে–কলমে ধরলে বাংলাদেশকে উড়িয়ে দেওয়ার কথা ভারতের। কিন্তু সুভাশিস বোঝেন বাস্তবতাটা, ‘আমরা বাংলাদেশ ফুটবল দলের মান সম্পর্কে খুব ভালোই জানি। তারা যথেষ্ট ভালো দল। তারা প্রতি–আক্রমণ করে খেলতে অভ্যস্ত। আর সেটিই বিপজ্জনক। ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচ সব সময়ই রোমাঞ্চকর আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। বাংলাদেশ দলকে যথেষ্ট সমীহ করি আমরা।’

ভারত যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে চায়, সেটি কেবল কলকাতার ম্যাচের জবাব, কিংবা বিশ্বকাপ ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান এগিয়ে নিতে নয়, বাংলাদেশের বিপক্ষে ফুটবলে একটা জয় যে অনেক দিন ধরেই অধরা তাদের। ২০০৯ সালের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে ভারত বাংলাদেশকে হারাতে পারেনি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিপক্ষে (নিয়মিত বিরতিতে পরস্পরের মুখোমুখি হয়) সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জয়খরা। ভারত ও বাংলাদেশের সবশেষ তিনটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ভারতীয়দের চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে আরও একটি তথ্য—এ তিনটি ম্যাচেই কোনোরকমে গোল পরিশোধ করে হারের লজ্জা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছিল ভারত।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*