পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা করার দাবি

অবিলম্বে মজুরি বোর্ড গঠন করে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণের দা‌বি জা‌নি‌য়ে‌ছে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন। একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা, বাসস্থান, রেশনিং ব্যবস্থা ও চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি নাজমা আক্তার।


তিনি ব‌লেন, বর্তমানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জীবনযাত্রার মান একেবারেই নিম্নমুখী। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য মাসিক সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করে, যা পূর্বে ছিল ৫ হাজার ৩০০ টাকা।

তি‌নি ব‌লেন, দেশের সব‌চে‌য়ে বড় শিল্প সেক্টর গার্মেন্টসের শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫ বছর আগে। এ ৫ বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, বাড়ি ভাড়া এবং জীবন-যাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিক হারে। কিন্তু এ সেক্টরে শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হয়নি।



নাজমা আক্তার বলেন, সিপিডির তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার কেন্দ্রস্থলে বসবাসরত একজন ব্যক্তির মাসিক খাবার খরচ ৫ হাজার ৩৩৯ টাকা। চার জনের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এ খরচ ২১ হাজার ৩৫৮ টাকা। যদি কোনো পরিবার পুরো মাসে একবারও মাছ, গরু, খাসি কিংবা মুরগির মাংস না খায় তাহলেও খরচ ৮ হাজার ১০৬ টাকা খরচ পড়ে। এর বাইরে এক কক্ষের ঘর ভাড়া, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল, চিকিৎসা ব্যয়, স্বাস্থ্য সুরক্ষার পণ্য ক্রয়, সন্তানের পড়ালেখার খরচ, যাতায়াত, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের বিল আছে।



তিনি আরও ব‌লেন, গণপরিবহনের ভাড়াও বেড়েছে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে পোশাক শ্রমিকদের প্রকৃত মজুরি কমে যাচ্ছে। তাতে বর্তমান মজুরিতে শ্রমিকদের জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। শ্রমিকরা মজুরি কম হওয়ায় শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে পারছেন না। ফলে পুষ্টিহীনতায় ভুগে অনেক শ্রমিক কাজ ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে একজন শ্রমিক পরিবার, সমাজ ও তথাপি দেশের বোঝা হয়ে যাচ্ছেন। যার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়ছ

Sharing is caring!