পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান!

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন ও সম্প্রদায়ের সমালোচনা সত্বেও ‘ব্লাসফেমি’ আইনের মাধ্যমে পাকিস্তানের সংখ্যালগু সম্প্রদায়ের ওপর নি’র্যা’তন হচ্ছে, বেশকিছু দিন ধরেই এমন অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। নির্বাসিত কাশ্মিরি ও মানবাধিকার কর্মীরা এর বি’রুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সামনে সম্প্রতি তারা এ বি’ক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআই’র প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে নির্বাসিত কাশ্মিরিরা দ্রুত জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, পাকিস্তান দেশটির সংখ্যালঘু জাতিদের ওপর নি’পীড়’ন চালাচ্ছে। তারা ড্রা’কোনিয়ান ল (ব্লাসফেমি আইন) চাপিয়ে দিচ্ছে। পাকিস্তান সামাজকর্মী ও সাংবাদিকদের ওপর ব্যাপক নি’র্যাত’ন চা’লাচ্ছে এই আইনের মাধ্যমে।

ইউনাইটেড কা’শ্মির পিপলস ন্যাশনাল পার্টি (ইউকেপিএনপি) চেয়ারম্যান সরদার শওকত আলী বলেন, ‘পাকিস্তানে সেসব বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক আক্রমণ হামলার শিকার হয়েছেন বিক্ষোভ থেকে তাদের প্রতি সংহতি জানাই। এসব মানুষদের গৃ’হত্যা’গ করতে বাধ্য করা হয়েছে। ভিন্ন মত পোষণের অপরা’ধে তাদের ওপর ব্যাপক নি’র্যা’ত’ন চালানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিচারক, আইনজীবী, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদেরকে নির্বিচারে হত্যা করেছে পাকিস্তান। এই বি’ক্ষোভ কর্মসূচি কেবল তাদের প্রতি সংহতিই নয়, আমরা পাকিস্তানে মানবাধিকার ল’ঙ্ঘন, হ-ত্যা-গু-মের প্র’তিরোধে জা’তিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করি।’

বি’ক্ষোভ উপস্থিত নির্বাসিত কাশ্মিরিরা বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে জেনেভায় অবস্থিত জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের সামনে উপস্থিত হন। তারা অভিযোগ করেন, আন্ত’র্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন ও সম্প্রদায়ের সমালোচনা সত্বেও ‘ব্লা’সফেমি’ আইনের মাধ্যমে সংখ্যালগু সম্প্রদায়ের ওপর নি’র্যা’তন চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।

দেশটির অধিকারকর্মীদের বরাতে ইন্ডিয়া বলুমস’র প্রতিবেদনে বলা হয়, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর বৈ’ষম্য নি’পীড়’নে প’রিণত হয়েছে। অনেক ঘটনা রয়েছে যেখানে ভিত্তিহীন অভিযোগে খ্রিস্টানদেরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষক খালেদ আহমেদের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সাংবাদিক সনিয়া আরিফ বলেন, ‘নব্বই শতাংশের বেশি খ্রিস্টান পাঞ্জাবে বাস করেন। ৬০ শতাংশ বাস করেন গ্রামে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে আদিবাসীরা তাদের নির্দিষ্ট অঞ্চলে থাকেন। ধর্মনিন্দা ও কোরআনের অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় তাদেরকে এবং পরে সংগঠিতভাবে তাদের সম্পদ ধ্বং’স করা হয়।’

গত বছর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, ড্রাকোনিয়ান এই আইনটি জীবনের জন্য ঝুঁ’কিপূর্ণ এবং তা বাতিল করা উচিত।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিবের কার্যালয়ের পরিচালক ডেভিড গ্রিফিথস বলেন, ‘ব্লাসফেমি আইনটি কতটা বি’পজ্জন’ক তার জন্য পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের আর কোনো প্রমাণের দরকার নেই। মিথ্যা অভিযোগে অনেকে অভিযুক্ত হয়েছেন এবং অন্যায়ভাবে হ-ত্যা করা হয়েছে। এর ফলে সমস্ত সম্প্রদায় ভুক্তভোগী হয়েছেন। তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*