নৌকা পেতে এক ডজন প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপ

সিলেট-৩ আসনের উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে এক ডজন নেতা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নানাভাবে তারা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ব্যানার-পোস্টার টাঙিয়ে তারা প্রার্থিতার জানান দিচ্ছেন। শুভেচ্ছা-মতবিনিময়ও করছেন তারা। আসনটিতে কে প্রার্থী হতে যাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা ও চুলচেরা বিশ্লেষণ।

সিলেট-৩ আসনের (দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জনপ্রিয় নেতা মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী করো’নাভাই’রাসে আ’ক্রা’ন্ত হয়ে ১১ মার্চ মা’রা যান। তার মৃ’ত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। এরপর থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতারা কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিতে শুরু করেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টি আসনটি চায়।

আসনটি ছাড় দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের কাছে তারা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্র জানায়, আসনটিতে আওয়ামী লীগ এমপি ছিলেন তাই জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। এ উপনির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে দলটির একাধিক নেতা প্রার্থী হতে আগ্রহী বলে জানা গেছে।

দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সিলেট-৩ আসন। এর ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ জন। জুলাইয়ে সংসদীয় এ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এ ঘোষণার পর ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে প্রার্থীর দীর্ঘ লাইন পড়েছে।

দলের উপরের সারি থেকে শুরু করে মধ্যম সারি এমনকি নিচের সারির অনেক নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তৎপর। তবে প্রয়াত এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর সহধর্মিণী ফারজানা সামাদ চৌধুরী প্রার্থিতা ঘোষণার পর চিত্র অনেকটা পালটে গেছে। দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে সমর্থন করছেন। তারা বলেন, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ফারজানা সামাদ চৌধুরীর বিকল্প নেই। ফারজানা সামাদ প্রার্থী হলে তারা তার পক্ষে মাঠে কাজ করবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হাবিবুর রহামান হাবিব মাঠে তৎপর রয়েছেন। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসাবে আলোচনায় রয়েছেন ফারজানা সামাদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান,

বিএমএর কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শমসের জামাল, ম্যানচেস্টার আওয়ামী লীগ সভাপতি এনামুল হক, সিলেট জেলা বারের পিপি অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু জাহিদ, সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টুসহ আরও কয়েকজন।

বিএনপি উপনির্বাচনে অংশ নিলে ধানের শীষের মনোনয়ন চাইবেন সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমেদ চৌধুরী, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার এমএ সালাম ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক। এক সময় জাতীয় পার্টির দুর্গ হিসাবে পরিচিত এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান ও জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব ওসমান আলী চেয়ারম্যানের নাম শোনা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ফারজানা সামাদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, আমি মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। অতীতের প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে আমি কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলছে তা অব্যাহত রাখতে এবং প্রয়াত এমপির অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে দল আমাকে মানোনয়ন দিলে মানুষের খেদমত করব। দলের নেতাকর্মীরা আমার প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন তাতে আমি অভিভূত।

বিএনপি নেতা আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দলের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হলে তার দল অংশ নেবে না। তবে সংগঠন যদি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হব।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*