নেতার সন্ধানে বিরোধী দল

বিরোধী দলগুলো তাদের স্ব স্ব অবস্থানে থেকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের কথা ভাবছে। ইতোমধ্যে ২৮ মার্চ বাম গণতান্ত্রিক জোট হরতালের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন বিরোধী দল আগামী রোজার ঈদের পর বিভিন্নভাবে রাজপথে আন্দোলন করবে বলে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

কিন্তু বিরোধী দলগুলোর প্রধান সমস্যা অন্য জায়গায়। নেতৃত্বের সংকটই এখন বিরোধী দলের প্রধান সংকট। বাংলাদেশে এখন জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি এবং গ্রহণযোগ্য একজন মাত্র নেতা রয়েছেন। তিনি হলেন শেখ হাসিনা। তার বাইরে না সরকারি দলের না বিরোধী দলের কোনো নেতা নেই। ৮০ ‘র দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় দুই নেত্রী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নেতা ছিলেন এবং দুই নেত্রীর জনপ্রিয়তা প্রায় সমান সমান ছিল।

সেখান থেকে শেখ হাসিনা নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একক নেতা হলেন শেখ হাসিনা। বেগম খালেদা জিয়া দুটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। সরকারের কৃপায় তিনি জামিনে আছেন। কাজেই রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো অবস্থা তার নেই।

অন্যদিকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লন্ডনে পলাতক এবং তার ইমেজ ঘরে-বাইরে অত্যন্ত খারাপ। ইমেজ সংকটে ভুগতে থাকা এই নেতা আর যাই হোক জাতীয় নেতা জাতীয় নেতা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারবেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের নেতা। কিন্তু জাতীয় নেতা হওয়ার মতো গুণাবলী, যোগ্যতা এবং গ্রহণযোগ্যতা তার নেই।

আর এ কারণেই বেগম খালেদা জিয়া গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন সময় বিএনপি নেতার সন্ধান করেছে। কখনো অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে এবং ২০১৮ এর নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে। কিন্তু তারা দু’জনের কেউই এখন জাতীয় পর্যায়ের নেতা না।

দুইজনই বার্ধক্যের ভারে নুজ হয়ে পরেছেন। বিএনপি বা বিরোধী দলগুলোকে আন্দোলন করতে গেলে এখন প্রথমে দরকার হবে একজন নেতা ঠিক করা। কিন্তু আরােপিতভাবে নেতা হওয়া যায় না। নেতৃত্বে গড়ে ওঠে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। সেটি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রক্রিয়া। তাই বিরোধী দলের নেতা কে হবে সেটি একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতিতে রেজা কিবরিয়া এবং ডাকসু’র সাবেক ভিপি নুরের পদচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু রেজা কিবরিয়া এলিট শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করেন। জাতীয় নেতা হওয়ার মতো যে গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে যে, সংযোগ সেটি তার নেই বললেই চলে। তাই জাতীয় নেতা হওয়ার মতো অবস্থা তার নেই। তাছাড়া তিনিও একজন আরােপিত নেতা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে তার কোনো পরিচিতি বা গ্রহণযোগ্যতা নেই।

অন্যদিকে নুর ছাত্ররাজনীতি কেন্দ্রিক নেতা। তিনিও জাতীয় নেতা হিসেবে এখনই অভিষিক্ত হবেন এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে। মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং খলিকুজ্জামানের মতো নেতারা সরে গেছেন। কাজেই বাম গণতান্ত্রিক দলের এখন হঠাৎ করে নতুন নেতৃত্ব গড়ে উঠবে এমনটি ভাবারও কোনো কারণ নেই।

নেতৃত্বের সংকট আছে ইসলামী দলগুলোতেও। একটা সময় ইসলামী দলগুলোতেও বেশকিছু গ্রহণযোগ্য জাতীয় নেতা ছিল। কিন্তু এখন সেরকম নেতা নেই। বিশেষ করে হেফাজত লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার পর ইসলামী দলগুলো নেতৃত্বের শূন্যতায় ভুগছে। এরকম পরিস্থিতিতে একটি আন্দোলন করার জন্য যে একজন সর্বজন গ্রহণযোগ্য নেতা লাগে সেই নেতা খুঁজে পাচ্ছে না বিরোধীদলগুলো।

এমন একজন নেতা যিনি আহ্বান জানাবেন, যাকে শেখ হাসিনার বিকল্প ভাববে জনগণ, সেরকম নেতা নেই। আপাতত শেখ হাসিনার কোন বিকল্প দেখছে না জনগণ। আর সেই কারণেই বিরোধী দলগুলোর এখন প্রধান লক্ষ্য হলো একজন নেতাকে খুঁজে বের করা। কিন্তু নেতা কি খুঁজে বের করা যায়? সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*