নিদাহাস ট্রফির স্মৃতি ফেরালেন সাকিব

বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল শ্রীলঙ্কার মাটিতে অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফিতে। ২০১৮ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এই ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিল বাংলাদেশ।

কিন্তু ফাইনালে ওঠার ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার অন্যতম নায়ক ছিলেন সাকিব আল হাসান। আজ শুক্রবার আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে সাকিব যেন সেই স্মৃতিই ফিরিয়ে আনলেন।

আবাহনীর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মুশফিকুর রহিমের বিরুদ্ধে সাকিবের করা একটি লেগ বিফোর উইকেটের আবেদন গ্রহণ করেননি আম্পায়ার। এতেই চটে যান সাকিব। এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে তিনি লাথি মেরে স্টাম্প ভেঙে ফেলেন!

পরের ওভার শেষে ফের স্টাম্প তুলে আছাড়ও মারেন! মাঠ ছাড়ার সময় তর্কে জড়ান আবাহনীর কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সঙ্গে। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি সুজনের কাছে ক্ষমা চান। এরপর সোশ্যাল সাইটে পোস্ট দিয়ে ভক্তদের কাছেও ক্ষমা চান।

তবে নিদাহাস ট্রফির প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। ওই ওভারের প্রথম দুই বলে লঙ্কান বোলার ইসুরু উদানা পরপর দুটি বাউন্সার মারেন।

নিয়মানুযায়ী একটাকে ‘নো বল’ হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। কিন্তু আম্পায়ার তা করেননি। লেগ আম্পায়ার নাকি দুই বাউন্সের ইঙ্গিত দিলেও স্ট্রাইকিং প্রান্তে দাঁড়ানো আম্পায়ার তাতে পাত্তা দেননি। এতেই চটে যান অধিনায়ক সাকিবসহ বাংলাদেশের ক্রিকেটারা।

প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার ১৫৯ রান তাড়া করতে নেমে উইকেটে তখন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আর রুবেল হোসেন। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান রেগেমেগে অপরাজিত দুই ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল হোসেনকে মাঠ ছেড়ে চলে আসতে বলেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত খালেদ মাহমুদ সুজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয়। মাহমুদউল্লাহ-রুবেল আবারও ব্যাটিংয়ে ফিরে যান। তখন ২ বলে দরকার ছিল ৬ রান। ওভারের পঞ্চম বলে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন মাহমুদউল্লাহ।

পরবর্তী সময়ে ওই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ বলেছিলেন, ‘নিদাহাসের ওই ম্যাচের দিন সাকিব তো এদিক থেকে ডাকতেছে, রিয়াদ ভাই আইসা পড়েন, আইসা পড়েন! আমি ভাবি কি বলতেছে ও!

বুঝতেছিলাম না যে আমি কী করব। আমি কিন্তু গ্লাভস রেখে সামনে কিছুদূর চলে আসছিলাম। কী হচ্ছে, কী করব, না করব… পরে তো সব সেটলড। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ওই ম্যাচটা জিততে পেরেছি। ওই রাতটা আমরা দারুণ কাটিয়েছি।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*