নিজ গ্রামে হাসপাতাল নির্মাণ করছেন সাদিও মানে

কাগজ-চামড়া জড়িয়ে গোলাকার একটা বস্তু বানিয়ে সমানে লাথি মারত সাদিও মানে। মাঝে পেরিয়ে গেছে ২৩টা বছর। সেনেগালের অখ্যাত গ্রামের সেই ছেলে আজ বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকারদের একজন। আদর করে যাকে ‘কালো হীরা’ নামে ডাকেন সমর্থকরা।

নতুন খবর হচ্ছে, ইংলিশ জায়ান্ট লিভারপুলের অন্যতম সেরা তারকা ফুটবলার সাদিও মানে। সাপ্তাহিক আয় কয়েক কোটি টাকা।কিন্তু এত বড় তারকা হওয়া সত্ত্বেও যেন মাটির খুব কাছের একজন মানুষ সেনেগালের রাস্তা থেকে ইউরোপের মাঠে ঝড় তোলা এই ফরোয়ার্ড।

১৯৯২ সালে সেনেগালের প্রত্যন্ত গ্রাম বাম্বালির এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম মানের। অর্থের অভাবে তাকে স্কুলেও পাঠাতে পারেননি তার বাবা, যিনি স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন। কিন্তু মানে দমে না গিয়ে এগিয়ে গেছেন সদর্পে। মানুষের অকৃপণ ভালোবাসা ও সমর্থনও পেয়েছেন লিভারপুলের জার্সিতে চ্যাম্পিয়ন লিগ ও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জেতা এই ফুটবলার। তার ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য এমনকি গ্রামের সবাই চাঁদা তুলে তার হাতে দিয়েছিল।

এখন সুদূর ইংল্যান্ডে ঐতিহ্যবাহী ও সমৃদ্ধ এক ক্লাবের হয়ে খেললেও নিজ দেশ ও গ্রামের লোকজনের কথা ভোলেননি মানে। নিজ গ্রাম বাম্বালিতে স্কুল নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালের জুলাইয়ে আড়াই লাখ ইউরো দান করেন তিনি। তার আগে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল উপলক্ষে নিজ গ্রামে ৩০০টি লিভারপুলের জার্সি পাঠান মানে। এছাড়া করোনাকালে ও গত রমজানে নিজ দেশে বিপুল পরিমাণ সাহায্যও পাঠিয়েছিলেন তিনি।

এবার বাম্বালিতে একটি হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৬ লাখ ৯৩ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬ কোটি টাকা) অনুদান দিলেন মানে। সেনেগালের রাজধানী ডাকার থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামে এর আগে কোনো হাসপাতাল ছিল না। চলতি মাসের শুরুর দিকে এই হাসপাতাল নির্মাণের ব্যাপারে কথা বলতে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল-এর সঙ্গে দেখা করেন তিনি।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*