নানামুখী চাপ বাড়ছে সরকারের!

সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক ষড়যন্ত্র এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। ষ’ড়য’ন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সমন্বয়হীনতা। আর এই সব মিলিয়ে সরকারের উপর চাপ বাড়ছে। কদিন আগেই `রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার` নামে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংগঠন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি দিয়েছে। এই বিবৃতির প্রতিবাদ করেছে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন।

কিন্তু আন্তর্জাতিক একটি প্রসিদ্ধ গণমাধ্যম সংগঠন কিভাবে এমন একটি বিজ্ঞপ্তি দেয় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে যে, এটি আসলে একটি ষ’ড়’য’ন্ত্রের অংশ। গত গত কয়েক মাস ধরে সরকারের বি’রুদ্ধে পরিকল্পিত ষ’ড়য’ন্ত্র চলছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যার প্রথম প্রকাশ হলো আল জাজিরার প্রতিবেদন।

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য, ভিত্তিহীন এবং কুৎসিত আক্রমণ চলছে সরকারের বিরুদ্ধে। দেশের ভেতরেও সরকারের বিরুদ্ধে নানারকম ষড়যন্ত্র ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যে আগুনগুলো লাগছে একের পর এক। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাশেম ফুড লিমিটেডের কারখানায় আ’গুন লাগার র্ঘ’টনা একটি পরিকল্পিত ষ’ড়য’ন্ত্রের অংশ এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিভিন্ন মহল মনে করছে যে, এই সমস্ত অ’গ্নিকা’ণ্ডের ঘ’টনা এটি পরিকল্পিত ষ’ড়য’ন্ত্রের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি অসামান্য উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। সারাদেশের গৃহহীন মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রী যে ঘর দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেই উদ্যোগ প্রায় ভেস্তে যেতে বসেছে। বিভিন্ন স্থানে এই বাড়িগুলো ধসে পড়ছে।

এই ধসে পড়া কি নিছকই দু’র্ঘটনা নাকি এর পিছনে প’রিকল্পিত ষ’ড়য’ন্ত্র রয়েছে সেটিও একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে সামনে এসেছে। প্রথমত, যে সমস্ত আ’মলারা এই কাণ্ডটি করেছেন তারা কি সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য এটি করেছে কিনা। দ্বিতীয়ত, এই বাড়িঘরগুলোর যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে সেটির ক্ষেত্রেও কোন ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করছেন বিভিন্ন মহল।

এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অদক্ষতা এবং একের পর এক দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত সরকারের বিরুদ্ধে ষ’ড়য’ন্ত্রের অংশ কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের ভেতর সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগগুলোর সমন্বয় করে লকডাউন করছে না।

লকডাউনের যে প্রজ্ঞাপনগুলো জারি করা হয়েছে সেই প্রজ্ঞাপনগুলোর সাথে মাঠের চাহিদা এবং বাস্তবতার কোন মিল নেই। যার ফলে এই লকডাউনের প্রজ্ঞাপনগুলো জনবিরক্তির কারণ হয়েছে, মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলার জন্য পরিকল্পিতভাবে এগুলো করা হচ্ছে কিনা সেই প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ। এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়গুলো একে অন্যের সাথে সহযোগিতা এবং সমন্বয় করছেন না।

সেটিও পরিকল্পিত কিনা সে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কারণ সরকারের মধ্যে বিএনপি-জামায়াতপন্থী স্বাধীনতাবিরোধী একটি বড় অংশ গাঁটছড়া বেঁধে আছে। এরা এখন প্রকাশ্য হয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার জন্য কাজ করছেন কিনা সেটি নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন করছেন। তবে চারপাশে সরকারবিরোধী যে প্রক্রিয়াগুলো সেই প্রক্রিয়াগুলো ক্রমশ দৃশ্যমান হচ্ছে।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন যে, আগুনের ঘটনা কিংবা `রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস` এর বিজ্ঞপ্তি আর বাংলাদেশের লকডাউনের গোঁজামিলের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জনবিরক্তির উৎপাদন কিংবা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গণবদলির আদেশ সবই একটি পরিকল্পিত নীলনকশার অংশ, যার মূল লক্ষ হলো সরকারকে জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা। এই বিষয়গুলো অবশ্যই এখনই কঠোর নজরদারি এবং নিরীক্ষার আওতায় আনা উচিত বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Sharing is caring!