নতুন আতঙ্কের নাম ভূমিকম্প

আট দিনের ব্যবধানে সিলেটে আজ আবারও দুই বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সোমবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় এক মিনিটের ব্যবধানে ৬টা ২৯ মিনিট ও ৬ট ৩০ মিনিটে দুইবার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে সিলেট। এর আগে, গত ২৯ মে (শনিবার) সিলেটে পাঁচবার মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। ওই দিন সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে, ১০টা ৫১ মিনিটে, বেলা ১১টা ২৯ মিনিটে, ১১টা ৩৪ মিনিটে ও বেলা ২টায় কেঁপে ওঠে সিলেট।

এর ফলে সিলেটবাসীদের মধ্যে ভূমিকম্প একটি নতুন আতঙ্ক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। শুধু সিলেট নয় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বাংলাদেশেও। বাংলাদেশে এমনিতেই করোনা, কিশোর অপরাধ, সামাজিক অবক্ষয় সহ নানাধরনের সংকট রয়েছে। তার মধ্যে এই ভূমিকম্প নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যখন একটি যায়গায় ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তখন সেট একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হওয়ার লক্ষণ। বাংলাদেশ সবসময় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে, বর্তমান সময়ে সিলেট অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল অনেক আগে থেকেই ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ১৮৬৯ সালে সিলেট অঞ্চলের কাছার এলাকায় বড় ধরণের ভূমিকম্প হয় যার মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল ৭.৬। ১৯১৮ সালে শ্রীমঙ্গলে ৭.৫ মাত্রার হয়েছিল। ১৯২২ সালে ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল হবিগঞ্জ অঞ্চলে। ১৯২৩ সালে দুর্গাপুরে।

এগুলোও ছিল বড় ধরনের ভূমিকম্প। এই ভূমিকম্পের ফলে সেখানে বড় ধরনের ফাটলের সৃষ্টি হয়, যা এখনো সুপ্ত অবস্থায় আছে। ছোট ছোট ভূমিকম্প হওয়ায় সেটি নাড়াচাড়া দিতে পারে। ছোট ছোট ভূমিকম্পের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে। আজ সিলেটের জৈন্তাপুরে এবং জগন্নাথপুরে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামেও দেশের ইতিহাসে কয়েকটি বড় ধরণের ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভূমিকম্পটি ঘটে ১৯৯৭ সালের ২১ নভেম্বর। সেই ভূমিকম্পে নগরীর কেন্দ্রস্থল হামজারবাগে অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত একটি পাঁচতলা ভবন ধ্বসে ২৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এছাড়া ১৯৯৯ সালে মহেশখালী ভূমিকম্প, ২০০৩ সালে রাঙ্গামাটির বরকল ভূমিকম্পও উল্লেখযোগ্য।

অপরিকল্পিত নির্মাণের ফলে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে চট্টগ্রামের মত প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে সিলেট সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। সম্প্রতি এই ছোট ছোট ভূমিকম্প বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত বলেই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ভূমিকম্প অন্যান্য দুর্যোগের মত কোন পূর্ভাবাস কিংবা সংকেত দিয়েও আসে না যার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা যাবে। তাই ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি রোধে সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক। তাই এখনই পরিকল্পিত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোনো সময়ই ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্যোগ।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*