তুমি পাকিস্তানে চলে যাও, শামিকে ভারতীয় সমর্থক

রোববার রাতটা ছিল ভারতের জন্য দুঃস্বপ্নের। পাকিস্তানের বিপক্ষে যে এমন গো হারা হারতে হবে, তা কল্পনাও করেননি ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীরা।কিন্তু দুবাইয়ের মাঠে ভারতের ছুড়ে দেওয়া ১৫২ রানের লক্ষ্য হেসেখেলেই পার করে দেন দুই ওপেনার বাবর ও রিজওয়ান। তাও আবার ১৩ বল বাকি থাকতেই।

এক কথায় পাকিস্তানের দুই ওপেনারে তুলোধোনা হয়েছেন ভুবনেশ্বর, বুমরাহ, শামি, বরুণ ও জাদেজা।ভারতের এই লজ্জার হারের পর গতরাত থেকেই ক্রিকেটারদের মুণ্ডুপাত চলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে সবার চেয়ে বেশি সমালোচনার শিকার হচ্ছেন পেসার মোহাম্মদ শামি। কেননা বাকি সবার চেয়ে বেশি খরুচে ছিলেন তিনি।

শামির ৩.৫ ওভারে ৬ বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন বাবর-রিজওয়ান। রান নিয়েছেন ৪৩। অর্থাৎ ওভারপ্রতি ১১.২৫ রান করে দিয়েছেন মোহাম্মদ শামি।শামির এ পারফরম্যান্স মানতে পারছেন না ভারতের ভক্তরা। সামাজিকমাধ্যমে বিষবাক্যবাণে জর্জরিত হচ্ছেন তিনি। তবে এরই মধ্যে শামিকে আলাদা করে লক্ষ্য বানিয়ে ফেলেছেন কিছু কট্টর সমর্থক।

ইনস্টাগ্রামে শামির অ্যাকাউন্টে গিয়ে তাকে পাকিস্তানের চর বলে গালি দিয়েছেন অনেক ভারতীয় সমর্থক। লেখার অযোগ্য গালাগালি চলেছে সেখানে। এক ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী শামিকে ‘পাকিস্তানের দ্বাদশ খেলোয়াড়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আরেকজন লিখেছেন, ‘বিশ্বাসঘাতক, নিজের ক্ষমতা দেখিয়ে দিলে।’ এর মধ্যেই আরেক সমর্থক বলেছেন ‘ভারত দলের পাকিস্তানি।’ একজন সরাসরি লিখেছেন ‘মুসলিম।’

একজন গালি দিয়ে শামিকে জিজ্ঞেস করেছেন, ‘কোন দলের হয়ে খেলছিলে তুমি…।’ আরও কয়েকজন লিখলেন, ‘তুমি পাকিস্তানে চলে যাও। তুমি শান্তি পাবে, আমরাও শান্তিতে থাকব।’এসব গালাগাল হজম করেই শেষ হয়নি শামির তিক্ত অভিজ্ঞতার। ম্যাচ পাতানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে এ পেসারের বিরুদ্ধে।

শামিকে মহারাজ বলে কটাক্ষ করে একজন লিখেছেন, ‘নিজের জাতভাইদের জেতানোর জন্য পাকিস্তান থেকে কত টাকা খেয়েছ? অন্তত একটু লজ্জা দেখাও মহারাজ। এদিকে আমাদের চোখে তো জল চলে এল।’

উল্লেখ্য, রোববারের ম্যাচে শামি বেশি রান দিলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে শামির করার কিছু ছিল না। ভারতের কোনো বোলারই কাল খুব একটা ভালো করেননি। শুধু বুমরাহ ও রবিন্দ্র জাদেজা ওভারে ৮-এর কম রান দিয়েছেন। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে শামিও তার প্রথম ওভারে ৮ রান দিয়েছিলেন।

নিজের দ্বিতীয় ওভারে ১১ রান দেওয়ার পর বোলিং থেকে তাকে সরিয়ে নেন কোহলি। আবার যখন তাকে বোলিংয়ে ফেরানো হয়, তখন ম্যাচ কার্যত শেষ। ৫ ওভারে মাত্র ৩১ রান দরকার ছিল পাকিস্তানের। এ অবস্থায় কিন্তু শামি দুর্দান্ত বল করেন, দেন ৭ রান।

কিন্তু ১৮তম পাকিস্তানের দরকার ১৮ বলে ১৭ রান। হাতে সবকটি উইকেট। এ পর্যায়ে মার খাবে বিশ্বের যে কোনো বোলার। শামির বেলায়ও তাই ঘটল। ৫ বলেই ১৭ রান দিয়ে বসেন তিনি।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*