তিন বছর বাড়ি ভাড়া দেন না উপাচার্য

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি)-এর উপাচার্য ড. এম রোস্তম আলীর বিরুদ্ধে বাড়ি ভাড়া পরিশোধ না করে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর নীতিমালা তোয়াক্কা না করে সুকৌশলে উপাচার্যের বাসভবনটি গেস্টহাউস ঘোষণা করে বাড়ি ভাড়া ফাঁকি দিচ্ছেন তিনি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমের কাছে আসা উপাচার্যের বেতন বিলেও বাড়ি ভাড়া পরিশোধ না করার প্রমাণ মিলেছে। এমন কান্ডকে সুস্পষ্ট অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষকরা। তদন্ত শুরু করেছে দুদক।

ইউজিসি ও পাবিপ্রবি সূত্র জানান, উপাচার্যের নিয়োগপত্রের নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে- ‘উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন।’ সে লক্ষ্যে প্রথম দিকেই পাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে প্রায় ৪ বিঘা জমিতে আনুমানিক দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে উপাচার্যের বাসভবন নির্মাণ করা হয়।

এদিকে পাবিপ্রবি উপাচার্যের জন্য বরাদ্দ বাড়িটি গেস্টহাউস ঘোষণা করার এখতিয়ার রোস্তম আলীর নেই বলে জানিয়েছেন ইউজিসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান। তিনি বলেন, ‘নিজের মতো নীতিমালা বানিয়ে বাড়ি ভাড়া কর্তন না করা আইনসিদ্ধ নয় এবং তা নিয়মবহির্ভূত’।

কোনো অবস্থাতেই গেস্টহাউস ঘোষণা করে বসবাসের সুযোগ নেই। কারণ এতে বিশ্ববিদ্যালয় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন কান্ডকে লজ্জাকর অভিহিত করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। পাবিপ্রবির সহযোগী অধ্যাপক ড. এম আবদুল আলীম বলেন, ‘উপাচার্যের বাসভবনটি গেস্টহাউস দেখিয়ে বিধি মোতাবেক ভাড়া না কাটলেও তাঁর রাজশাহীর বাড়ির বুয়ার বেতন থেকে শুরু করে সমুদয় খরচ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে নিয়েছেন।

এ দুই বাড়ির জন্য উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের যত কর্মচারী খাটান এবং যত অর্থ ব্যয় করেন তা বহন করা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সম্ভব কিনা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে। বিষয়টি সবার জন্য বিব্রতকরও বটে।

জানতে চাইলে গেস্টহাউস ঘোষণা করা ভিসির বাসভবনে বসবাসকারী পাবিপ্রবি কোষাধ্যক্ষ ড. আনোয়ার পারভেজ খসরু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার কোনো আবাসন নেই। উপাচার্যের বাংলোকে গেস্টহাউস করায় সেখানে ভাড়া দিয়ে অবস্থান করি। অনিয়ম হয়েছে কিনা তা উপাচার্য ভালো বলতে পারবেন।

তবে বাংলোকে গেস্টহাউস করায় কোনো অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেছেন পাবিপ্রবি উপাচার্য ড. এম রোস্তম আলী। তিনি বলেন, ‘উপাচার্যের জন্য বরাদ্দ বাড়িটির কারিগরি ত্রুটি রয়েছে। এটা কোনো বাংলোই হয়নি। তা পরিত্যক্ত ফেলে না রেখে গেস্টহাউস করায় বিশ্ববিদ্যালয় কিছু টাকা পাচ্ছে।

বরাদ্দ অর্থ দিয়ে বাড়ির সংস্কার করা যেত কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘এখানে গার্ড রুম, ড্রাইভার রুম, কুকের রুমসহ অনেক কিছুই নেই। সংস্কার করে তা নির্মাণ সম্ভব নয়। নতুন করে তৈরি করতে হবে।’ রাজশাহীর ব্যক্তিগত বাসভবনের খরচ নেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘আগের উপাচার্যরা নিয়েছেন তাই আমিও নিই।

এদিকে বাড়ি ভাড়া ফাঁকি, পরিবহন পুলে দুর্নীতিসহ পাবিপ্রবি ভিসির বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। দুদক পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *