তাসকিন ৫ উইকেট না পেলে প্রোটিয়ারা আড়াইশো করে ফেলতো

সেই ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে পাকিস্তানকে হারানো দিয়ে শুরু। এরপর অনেক দিন পরপর একটা-দুটা করে বড় ম্যাচ জিতলেও ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর মধ্য দিয়ে দেশে ও বিদেশে টাইগারদের বড় ‘মাছ শিকার’ শুরু।

এরপর যত সময় গড়িয়েছে, ততই বড় ম্যাচে সাফল্য বেড়েছে। ২০১১ সালে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টিও অনেক বড় এক সাফল্য। তার আগে ঘরের মাঠে ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ডকে ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করা, ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে ‘বাংলাওয়াশ’, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ হারানো ছিল অনেক বড় সাফল্য।

সে ধারাবাহিবকতায় ২০১৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাকিব আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জোড়া সেঞ্চুরিতে পাওয়া জয়ও অনেক বড় সাফল্য। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা আর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে হইচই ফেলে দেয় মাশরাফির দল।

এবার তো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিক প্রোটিয়াদেরকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারিয়ে টাইগাররা আবারও শিরোনামে। ২৩ মার্চ, বুধবার রাতে সেঞ্চুরিয়নে পাওয়া সেই সাফল্যকে দেশের বাইরে অনেকেই সেরা ও অনেক বড় সাফল্য বলে অভিহিত করেছেন।

জাতীয় দলের অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন মনে করেন, এ সাফল্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বিশেষ কিছু। তার মূল্যায়ন, ‘বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন ও বড় কৃতিত্ব।’আজ দুপুরে জাগো নিউজের সাথে মুঠোফোন আলাপে হাবিবুল বাশার বলেন, ‘এটা আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে গিয়ে প্রোটিয়াদের ওয়ানডে সিরিজে হারানোর চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। অনেক বড় কিছু। আমাদের ক্রিকেটাররা সে কাজটিই করে দেখিয়েছে।’ প্রথম ম্যাচে ৩১৪ রানের বড়সড় স্কোর গড়ার পর ওয়ান্ডারার্সে ৭ উইকেটের হারকে খুব ছোট করে দেখতে নারাজ বাশার।

তার ব্যাখ্যা, ‘আমরা প্রথম ম্যাচে দারুণ খেলে জিতেছিলাম। দ্বিতীয় ম্যাচ হারলেও চরম বিপর্যয়ের পর যতদুর গেছি, সেটাও কম নয়; কিন্তু শেষ ম্যাচে আমাদের ছেলেরা দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে। আমরা প্রোটিয়াদের রীতিমত আউট প্লেইড করে ছেড়েছি।’

অথচ তার মনে হয়, এ ম্যাচে মনের দিক থেকে বেশ চাপে ছিল তামিম ইকবালের দল। ‘আমাদের দলের সামনে ছিল সিরিজ বিজয়ের চাপ। জিতলে সিরিজ নিজেদের। হারলে সিরিজ হাতছাড়া। এমন মানসিক চাপ সামনে নিয়েও ছেলেরা নিজেদের সেরাটা দিয়েছে।’

তাসকিনের বোলিংয়ের ভুয়সি প্রশংসা করে বাশার বলেন, ‘উইকেটে পেসার তথা বোলারদের জন্য তেমন কিছুই ছিল না। তার মধ্যে তাসকিন বারুদে বোলিং করেছে। আমার মনে হয় এই পিচে যতটা ভাল ও বিধ্বংসী বোলিং করা সম্ভব, তাই করেছে সে।

তাসকিনের যত প্রশংসাই করা হোক না কেন, কম করা হবে।’ হাবিবুল বাশার মনে করেন, ‘তাসকিন ৫ উইকেট না পেলে প্রোটিয়াদের এত কম রানে অলআউট করা সম্ভব হতো না। তারা আড়াইশো’র ওপর রান করে ফেলতো। তাতে করে আমাদের জেতা কঠিন হয়ে পড়তো।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*