তাসকিনকে পা মাটিতে রাখার পরামর্শ মাশরাফির

ওয়ানডে ক্রিকেটের অভিষেক ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। তবে এর মাঝে বোলিং অ্যাকশনের সমস্যা, ইনজুরির সঙ্গে অফ ফর্ম।

তাতে লম্বা সময় জাতীয় দলের বাইরে ছিটকে যান তাসকিন। সুযোগ মেলেনি সর্বশেষ ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও। এরপর থেকেই নিজেকে বদলে ফেলেন ডানহাতি এই পেসার। সর্বশেষ দুবছরে হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ পেস ইউনিটের বড় অস্ত্র। সদ্য সমাপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে পেয়েছেন সিরিজ সেরার পুরস্কার। তবে তাসকিনকে মাটিতেই পা রাখতে বলছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা।

বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘আমি মনে করি এখন ওর আসল সময় যাচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এখন ও এখন কিভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করবে। কারণ এখন ধরুন আমাকেই আমরা প্রশ্ন করছেন তাসকিনকে নিয়ে। ও আসলে কিন্তু অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হবে। মিডিয়া তার পেছনে থাকবে, মানুষজন তার পেছনে থাকবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটাকে মাটিতে পা রেখে যেটা করছে সঠিক জিনিস করে যাওয়া এবং বারবার করা ‘

‘তার কাজ যে শুধু মাঠে, বাইরে না এই জিনিসটা প্রতিনিয়ত তার অনুধাবন করা। এখন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিশ্চিত যে ও করবে। কারণ এই পর্যায়ে থেকে ক্যারিয়ারের শুরুতে ৫ উইকেট পেয়ে কিন্তু একটা সেটব্যাক ছিল সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানো। আশা করি ও অনুধাবন করেছে বলে এই পর্যন্ত এসেছে। আশা করি ওর অনুধাবনটা চালিয়ে যাবে।‘

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট খেলার সময় চোটে পড়ে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) পুরো মৌসুম থেকে ছিটকে গিয়েছেন মার্ক উড। ডানহাতি এই ইংলিশ পেসারের বদলি হিসেবে তাসকিনকে পেতে চেয়েছিল লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টস।

যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) অনাপত্তি পত্র না দেয়ায় আইপিএল খেলতে যাওয়া হয়নি তাসকিনের। এমন অবস্থায় তাসকিনকে ক্ষতিপূরণ কিংবা পুরস্কার দিতে বলছেন মাশরাফি। তাতে বোর্ড এবং খেলোয়াড়দের সম্পর্ক আরও ভালো হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।

মাশরাফি বলেন, ‘অবশ্যই আমি মনে করি। দেখেন আপনি যদি অ্যান্ডারসন এবং ব্রডের দিকে তাকান ইসিবি কিন্তু তাদেরকে সবসময় ক্ষতিপূরণ ঠিক না। তাদেরকে ওই পুরস্কারটা দেয়া যেহেতু তারা আইপিএল না খেলে দেশকে সার্ভিস দিচ্ছে তো তাদেরকে নূন্যতম পুরস্কারটা দেয়া। তখন হয় কি খেলোয়াড়দের ভালো লাগা কাজ করে যে বোর্ড আমাদের দেখাশোনা করছে।

টেস্ট ক্রিকেট কেন আমরা যেকোনো ক্রিকেট খেলার জন্য প্রস্তুত। না দিলেও প্রস্তুত এটা সত্য। কিন্তু দিন শেষে পৃথিবীটা কিন্তু অন্যভাবে চলছে।’ ‘দক্ষিণ আফ্রিকা দল দেখেন টেস্ট ম্যাচে এখন কেউ নেই। পৃথিবী কিন্তু চলছে অন্যদিকে। আপনি জোর করে একদিকে চালাইতে গেলেও মুশকিল হয়ে যায় অনেক সময়।

আমার কাছে মনে হয় যে এখানে খেলায়াড় ও বিসিবির মাঝে যদি একটা সমন্বয় থাকে নূন্যতম পুরস্কারটা দেয়া। ঠিক আছে তুমি সুযোগ পেয়েছো কিন্ত এই সিরিজে তোমাকে আমার প্রয়োজন এবং সেক্ষেত্রে তোমার ক্ষতিপূরণটা যতটা সম্ভব আমরা করবো। তখন কিন্তু আমার মনে হয় খেলোয়াড় এবং বোর্ডের মাঝে সম্পর্কটা আরও সুন্দর হবে। যার প্রতিফলন আমরা মাঠে আরও বেশি দেখতে পারবো।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*