তারেক, বাবর, মামুন, মুনীরঃ চোরাচালানের উত্তরাধিকার

বাংলাদেশে চোরাচালানের নেটওয়ার্কের অঘোষিত সম্রাট ছিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর। বাবরকে বলা হতো ‘ক্যাসিনো বাবর’। এই চোরাচালান নেটওয়ার্কের সূত্রেই বাবরের সাথে পরিচয় হয় তারেকের বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনের। মামুন জড়িয়ে পরেন চোরাচালান নেটওয়ার্কে।

তবে সাধারন পণ্য চোরাচালানে মামুনের আগ্রহ ছিলো কম। মামুন অস্ত্র এবং মা’দক চোরাচালানে আগ্রহী ছিলেন। আর সেই সূত্রেই, তারেকের সহযোগিতা নেন মামুন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় আসে। তখন তারেক এই চোরাচালান নেটওয়ার্কের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন।

বাবরকে করা হয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। আর সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয় গোল্ডেন মুনীরকে। তারেক তখন এই অঞ্চল মাদক এবং অ’স্ত্র চোরাচালানের অঘোষিত গডফাদার পরিণত হন। চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অ’স্ত্র ধরার আগে, এই নেটওয়ার্ক সম্পর্কে কেউই তেমন কিছু জানতো না।

কিন্তু ঐ ১০ ট্রাক অ’স্ত্র ধরার পরও তারেকদের অ’স্ত্র ও মা’দক চোরাচালানের নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়নি। বরং রাস্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ হয়ে ওঠে চোরাচালানের করিডোর। ওয়ান ইলেভেন সরকার গঠিত হবার পর। তারেক, মামুন, বাবর এবং মুনীর গ্রেপ্তার হন।

ভেঙ্গে যায় চোরাচালানের সিন্ডিকেট। ২০১২ সাল পর্যন্ত চোরাচালান নেটওয়ার্ক বন্ধ ছিলো বাংলাদেশে। এর মধ্যে গোল্ডেন মুনীর জেল থেকে ছাড়া পান। লন্ডনে চো’রাচালানের নতুন নেটওয়ার্ক তৈরী করেন তারেক জিয়া। এসময় গোল্ডেন মুনীরকে নিয়ে নতুন করে চোরাচালানের নেটওয়ার্ক তৈরী করেন তারেক।

২০১৫ সাল থেকে গোল্ডেন মুনীরের নেতৃত্ব বাংলাদেশে স্বর্ণ, মা’দক এবং অ’স্ত্র চোরাচালান শুরু হয়। এসময় লন্ডনে তারেকে অর্থায়ন করা, বাংলাদেশে স’হিংসতায় অর্থ যোগান করে আলোচিত হন গোল্ডেন মুনীর। সাম্প্রতিক সময়ে বাসে আ’গুনের ঘটনায় আলোচনায় আসে গোল্ডেন মুনীর।

এই বাসে আ’গুনের ঘটনায় যাদের গ্রে’প্তার করা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদে গোল্ডেন মুনীরের নাম সামনে আসে। উল্লেখ্য, গোল্ডেন মুনীর গত কয়েক বছর প্রত্যক্ষ রানজীতি থেকে দুরে থাকলেও বিএনপিকে অর্থায়ন করতো গোপনে।

এছাড়াও জ’ঙ্গীদের অর্থায়ন এবং স’ন্ত্রাস ও সহিংসতায় অর্থায়নের অ’ভিযো’গ আছে তার বি’রুদ্ধে। তারেক জিয়া সাম্প্রতিক সময়ে অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত লোকদের দিয়ে স’ন্ত্রাস সহ নানা অপকর্ম করাচ্ছিল। গোল্ডেন মুনীর তাদেরই একজন।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *