তবুও আশা ভরসার কেন্দ্রবিন্দু সাকিব

‘আমি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অবস্থায় নেই। শরীর ও মনের দিক থেকে অবসাদগ্রস্ত।’ এমন কথা বলে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যেতে চাননি সাকিব আল হাসান।যাব না, যাব না করেও শেষ পর্যন্ত তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা গেছেন। মূল বহর দেশ ছাড়ার পরে দলের সঙ্গে যোগ দিয়ে জোহানেসবার্গে দলের সঙ্গে অনুশীলন করছেন এবং ভাবা হচ্ছে, ১৮ মার্চ, শুক্রবার সেঞ্চুরিয়নে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে খেলবেন ‘বাংলাদেশের প্রাণ’ সাকিব আল হাসান।

বাংলাদেশের প্রাণ শুধু ভক্ত ও সমর্থকদের দেয়া বিশেষণ নয়। টিম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি তিনি। অধিনায়কের সর্বোচ্চ আস্থা। আর হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর কথা শুনে মনে হলো, সাকিব হলেন তার ‘হাতের লাঠি।’ টাইগার হেড কোচের অনুভব ও উপলব্ধি সাকিব দলে থাকাই অনেক কিছু। ব্যাটিং-বোলিং দুই ডিপার্টমেন্টেই স্থিতি বেড়ে যায়। সাকিব থাকলে আর তাকে রিপ্লেস করার জন্য কারো দরকার পড়ে না।

এখানেই শেষ নয়। দেরিতে যোগ দিয়েও জোহানেসবার্গে দলের সঙ্গে সাকিবের মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়া, তার উদ্যম, অনুশীলনে একাগ্রতা ও আত্মনিবেদন দেখে যারপরনাই খুশি টাইগার হেড কোচ। বুধবার অনেক কথার ভিড়ে সাকিবের শরীরি অভিব্যক্তি, একাগ্রতা আর প্র্যাকটিসে সিরিয়াসনেস দেখে বেশ সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছেন ডোমিঙ্গো। সাকিবের এই একাগ্রতা, নিষ্ঠা আর আত্মনিবেদন দেখে কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট খুশি হতেই পারেন।

কারণ, ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাকিবই টিম বাংলাদেশের ‘অন্ধের যষ্ঠি।’ ইতিহাস ও পরিসংখ্যান জানাচ্ছে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে টাইগারদের সর্বশেষ ওয়ানডে জয়ের নায়ক, রূপকারও সাকিব। এবং বলে রাখা জরুরি যে সেটাই ছিল ওয়ানডেতে বাংলাদেশ আর দক্ষিণ আফ্রিকার শেষ সাক্ষাত।

২০১৯ সালের ২ জুন লন্ডনের ওভালে আইসিসি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারিয়েছিল। সে ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে জ্বলে উঠে (৮৪ বলে ৭৫ ও ১/৫০) টাইগারদের জয়ের নায়ক হওয়ার পাশাপাশি ম্যাচ সেরাও হয়েছিলেন সাকিব।

অবশ্য মুশফিকুর রহিমও পিছিয়ে ছিলেন না। তার ব্যাট থেকেও এসেছিল ৮০ বলে ৭৮ রানের দারুণ ইনিংস। সবশেষ লড়াইয়ে ম্যাচ জেতানো অলরাউন্ড পারফরমেন্সই শুধু নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল পারফরমারও সাকিব। রান তোলা ও উইকেট প্রাপ্তিতে ব্যাটার ও বোলার সাকিবই সবার ওপরে।

ব্যাটিং নৈপুণ্য মানে রান তোলাকে মানদণ্ড ধরলে সাবেক চার প্রোটিয়া ‘গ্রেট ব্যাটার গ্রায়েম স্মিথ, হার্শেল গিবস, হাশিম আমলা আর এবি ডি ভিলিয়ার্সের পর ৫ নম্বরে সাকিব (১৪ ম্যাচে ৩৯৭। সর্বোচ্চ ৭৫। গড় ৩৩.০৮। স্ট্রাইকরেট ৬৮.৪৪।)

একইভাবে বোলিংয়ের বোলার সাকিবও বাংলাদেশের সফলতম পারফরমার। বোলিংয়ে ১৪ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে মাখায়া এনটিনি (৮ ম্যাচে ১৮), শন পোলক (৮ ম্যাচে ১৫ উইকেট) ও কাগিসো রাবাদার (৭ ম্যাচে ১৩, সেরা ৬/১৬) পরে চার নম্বরে সাকিব। সেরা বোলিং ৩/৩৩।

বাংলাদেশের আর কোনো বোলারই তার ধারেকাছে নেই। এখনকার বোলারদের মধ্যে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের আছে ৪ ম্যাচে ৮ উইকেট। সেরা ৩/৩৮। কাজেই পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে যে, মন ও শরীর নিয়েই যান না কেন, মাঠের সাকিব, অলরাউন্ডার সাকিব দলের সেরা ও সফলতম পারফরমার। কাজেই ঘুরে ফিরে এবারও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সাকিবই আশা-ভরসার কেন্দ্রবিন্দু।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*