চীন-ভারতের প্রতিযোগিতায় ক্ষতির শঙ্কায় বাংলাদেশ!

আন্তর্জাতিক নদ ব্রহ্মপুত্রের উজানে নিজেদের অংশে বাঁধ দিচ্ছে চীন। এর পাল্টা হিসেবে ভাটিতে নিজেদের অংশেও বাঁধ দিচ্ছে ভারত। ত্রিদেশীয় নদটির ভাটির বাকি অংশ রয়েছে বাংলাদেশে।ব্রহ্মপুত্র নদ চীনের তিব্বত থেকে ভারতের অরুণাচল ও আসাম হয়ে বাংলাদেশে প্রবাহিত হয়েছে। এটি চীনে ইয়ারলুং সাংবো নামে পরিচিত হলেও ভারত ও বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্র নামে ডাকা হয়।

ভারত বলছে, চীনা প্রকল্পের কারণে নদে তাদের অংশে বর্ষাকালে বন্যা আর শুকনো মৌসুমে পানি সংকট তৈরি হবে। একইভাবে ভারতীয় প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ অংশে বন্যা বা পানি সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ঢাকার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, নদটির উজানে প্রথমে চীন এবং পরে ভারত বাঁধ দিলে ভাটির দেশ বাংলাদেশে গুরুতর প্রভাব পড়বে। দেশ দুটির বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।গত সোমবার এক শীর্ষ চীনা কর্মকর্তার বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ব্রহ্মপুত্র নদে ৬০ মেগাওয়াট সক্ষমতা সম্পন্ন একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় পাওয়ার কনস্ট্রাকশনের চেয়ারম্যান এক শিল্প সম্মেলনে ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দেয়াকে ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।এর পরই ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা টিএস মেহরা জানান, ব্রহ্মপুত্র নদে চীনের বাঁধ নির্মাণের খবর ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ জন্য অরুণাচলে ১০ গিগাওয়াট (জিডব্লিউ) জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে।সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হলো- সাম্প্রতিক সময়ে চীন ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর নাম করে উভয় দেশ পাল্টা-পাল্টি বাঁদ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা বলছে।

তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এমন কোনো পরিকল্পনা এখনো জানা যায়নি।এদিকে, কয়েকজন বিশ্লেষক সতর্ক করে বলছেন, ব্রহ্মপুত্র নদে চীন-ভারতের বাঁধ নির্মাণ নিয়ে সীমান্ত সংঘাত দেখা দিতে পারে। চীনা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ভারত সীমান্তে হওয়ায় এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Sharing is caring!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *