কোপা জেতার পুরো কীতৃত্ব যাকে দিলেন মেসি

এর আগে গত ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ, এরপর ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকা, এরপর ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা- পরপর তিন বছর তিনটি বড় আসরের ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু তিনবারই ফিরতে হয়েছে স্বপ্নভঙ্গের হতাশা নিয়ে। এ তিনটি টুর্নামেন্টেই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন লিওনেল মেসি।

কিন্তু টানা তিন ফাইনাল হারের হতাশায় ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার গোল্ডের বল গ্রহণ করেননি মেসি। উল্টো হতাশায় ডুবে আন্তর্জাতিক ফুটবল ছেড়ে দেয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্তে বেশি দিন থাকতে পারেননি।

বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের ভালোবাসা ও আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধে অবসর ভেঙে সে বছরই ফেরেন মেসি। ভাগ্যিস অবসর ভেঙে ফিরেছিলেন তিনি। নতুবা ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার শিরোপাটি কি নিজ হাতে নিতে পারতেন বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এ ফুটবলার?

শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, দলের সেরা পারফরমার হিসেবেই এবারের কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন করেছেন মেসি। পুরো আসরে চার গোল ও পাঁচ এসিস্ট করে জিতেছেন গোল্ডেন বুট ও গোল্ডেন বল। সবচেয়ে বড় বিষয়, এবার যে কোপা আমেরিকার ট্রফিটাও পেয়েছেন মেসি।

দীর্ঘ অপেক্ষার পর এলেও, অবশেষে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ধরা দেয়ায় আনন্দে মাতোয়ারা মেসি। তার মতে, ঈশ্বর এতদিন তার জন্য এই মুহূর্তটাই জমিয়ে রেখেছিলেন। বিশেষ করে ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়টি।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ঈশ্বর আমার জন্য এই মুহূর্তটা জমিয়ে রেখেছিলেন। ব্রাজিলের মাটিতে ব্রাজিলের বিপক্ষে কোপা আমেরিকা জয় অসাধারণ অনুভূতি। লিওনেল স্কালোনি দুর্দান্ত কোচ। সে সবসময় জাতীয় দলের জন্য সেরাটা চেয়েছে। সে জানত কীভাবে একটা জয়ী দল গোছানো যায়।

সে অবশ্যই কৃতিত্ব প্রাপ্য।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে কিছু না জেতার কাঁটাটা দূর করা জরুরি ছিল আমার জন্য। বেশ কয়েকবার আমি এর কাছাকাছি গিয়েছি। আমি জানতাম, কখনও এটা হয়তো পাবো না, আবার একসময় হয়তো পাবো। আমার মনে হয়, এর চেয়ে সেরা মুহূর্ত আর হতে পারে না।’

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*