কোন বাধা ছাড়াই যে ৫ দেশ থেকে অস্ত্র আমদানি করে ইসরায়েল!

ফিলিস্তিনের অধিকৃত গাজা উপত্যকায় ১০ দিন ধরে টানা বি’মান হা’মলা চালিয়ে নি’র্বিচারে মানুষ মারছে দখলদার ই’হুদিবাদি ইসরায়েল। ই’হুদিবাদিদের দাবি হামাস ‘স’ন্ত্রা’সীদের’ লক্ষ্য করেই এ হা’মলা চালাচ্ছে তারা। কিন্তু সারা দুনিয়ার মানুষ জানতে পেরেছে দখলদার ই’সরায়েলের হামলায় আবাসিক ভবন, বইয়ের দোকান, হাসপাতাল এম’নকি কো’ভি’ড-১৯ টে’স্ট ল্যাবটিরও রক্ষা মেলেনি।

চলমান ইসরায়েলের এ ব’র্বরো’চিত হা’মলায় কেবল গাজা উ’পত্যকায় এখন পর্যন্ত ২২৭ জন ফিলিস্তিনির মৃ’ত্যু হয়েছে যার অ’র্ধেকই নারী (৩৮) ও শিশু (৬৪)। প্রতিবাদে হা’মাসও পা’ল্টা হা’মলায় শত শত রকেট ছু’ড়েছে ইসরায়েলে। হা’মাসের হা’মলায় এ পর্যন্ত ১২ জন ইসরায়েলি না’গরিকের মৃ’ত্যু হয়েছে।

হামাস নিজেদের তৈরি বো’মা বা র’কেট দিয়ে হামলা চালালেও ইসরায়েলের রয়েছে বিদেশি অ’স্ত্রের বিপুল স’মাহার। যদিও অ’স্ত্র তৈরিতে তারা নিজেরাও কম যায় না। বিশ্বের অ’ষ্টম বৃ’হত্তম অ’স্ত্র রপ্তানিকারক দেশ ইসরায়েল। তবুও বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিদেশি অ’স্ত্র কেনে ই’হুদিবাদি এ দেশটি।

ইসরায়েলের বি’রুদ্ধে যু’দ্ধাপ’রাধের অ’ভিযোগ থাকা স্ব’ত্ত্বেও যেসব দেশ এই ই’হুদিবাদি দেশটিকে পয়সার বিনিময়ে অ’স্ত্র সরবরাহ করে আসছে তাদের বিষয়ে জানাতেই এই প্রতিবেদন। চলুন জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে-

যুক্তরাষ্ট্র : এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অ’স্ত্র সরবরাহকারী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৯-২০২০ সাল এই ১১ বছরের মধ্যে ইসরায়েলের কেনা ৭০ শতাংশেরও বেশি অস্ত্র এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট (সিপ্রি) আর্মস ট্রান্সফার ডাটাবেজ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলের আমদানি করা অস্ত্রের সবটাই প্রধান প্রধান আধুনিক প্রচলিত অস্ত্র।

সিপ্রির হিসাব অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬১ সাল থেকে প্রতি বছর ইসরায়েলে অস্ত্র রফতানি করে আসছে। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা ক্যাম্পেইন এগেইনেস্ট দ্য আর্মস ট্রেডের (সিএএটি) তথ্যানুযায়ী, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই চার বছরেই ইসরায়েলে ৪৯০ কোটি ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সাম্প্রতিক হামলায় গাজা উপত্যকায় ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে- যার ছবি প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের ওপর বিভিন্ন সময় যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র অনবরত অস্ত্র রফতানি করে আসছে দেশটির কাছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কেনে ইসরায়েল। সেই বিমান দিয়েই তাণ্ডব চালানো হচ্ছে গাজা উপত্যকায়। ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহকারী বেসরকারি মার্কিন সংস্থার সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাদের কাছ থেকে লকহিড মার্টিন, বোয়িং, নরথ্রপ গ্রুম্মান, জেনারেল ডায়নামিকস, আমেটেক, ইউটিসি অ্যারোস্পেস, রায়থিয়নসহ বহুবিধ অস্ত্র কেনে ইসরায়েল।

জার্মানি : ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানিতে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের কেনা বিদেশি অস্ত্রের ২৪ শতাংশেরই রপ্তানিকারক দেশ হলো জার্মানি।সিএএটি’র তথ্যানুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে জার্মানি থেকে ইসরায়েলে ১৬০ কোটি ইউরো সমমূল্যের অস্ত্র সরবরাহ করা হয়ছে।

সিপ্রির সমীক্ষানুযায়ী, প্রথমদিকে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে জার্মানি। এরপর ১৯৯৪ সাল থেকে জার্মানি প্রতিবছরই ইহুদিবাদি দেশটিতে অস্ত্র রপ্তানি করছে। জার্মানি থেকে মূলত সাবমেরিন ও অ্যান্টি এয়ারক্রাফট মিসাইল কেনে ইসরায়েল।

জার্মানি জাহাজপ্রস্তুতকারক থাইসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেম এরই মধ্যে ইসরায়েলকে ৬টি ডলফিল সাবমেরিন তৈরি করে দিয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলের মার্কাভা ট্যাংকের জন্য গোলা বা মিসাইল সরবরাহ করে জার্মানির রেঙ্ক এজি কোম্পানি।

ইতালি : জার্মানির পর আসে ইতালির নাম। ইসরায়েলের অস্ত্রাগারে থাকা বিদেশি অস্ত্রের ৫.৬ শতাংশের রপ্তানিকারক হলো ইতালি। সিপ্রির হিসাব অনুযায়ী ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলর প্রধান প্রধান অস্ত্রের ৫.৬ শতাংশ কেনা হয়েছে ইতালির কাছ থেকে।

সিএএটির সমীক্ষা অনুযায়ী ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ৪ বছরে ইতালি ৫৮ কোটি ডলারের অস্ত্র সরবরাহ করেছে ইসরায়েলকে। ইসরায়েলের ব্যবহৃত অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশও তৈরি করা হয় ইতালিতে।

যুক্তরাজ্য : ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহকারি দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের নাম সিপ্রির ডাটাবেজে না থাকলেও সিএএটির কাছে আছে। সিএএটির সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে এ অব্দি ইসরায়েলে ৪০ কোটি পাউন্ড সমমূল্যের অস্ত্র রপ্তানি করেছে যুক্তরাজ্য।যদিও জনসাধারণ্যে প্রকাশিত পরিমাণের চেয়ে বেশি পরিমাণে অস্ত্র সরবরাহ করে যুক্তরাজ্য।

সিএএটি’র তথ্য অনুসারে- বিএই সিস্টেম; অ্যাটলাস ইলেকট্রনিক ইউকে, এমপিই, মেগিট, পেনি+গিলস কন্ট্রোল, রেডমায়িন ইঞ্জিনিয়ারিং, সিনিয়র পিএলসি, ল্যান্ড রোভার এবং জিএটিএস ইত্যাদি ব্রিটিশ বেসরকারি সংস্থাগুলো ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করে আসছে।

তবে মূলত কি কি অস্ত্র সরবরাহ করা হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত জনসমক্ষে প্রকাশ পায় না। এ ছড়া ইসরায়েলের ওয়েপন সিস্টেমে মিলিয়ন মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তাও দেয় যুক্তরাজ্য।সিএএটির এক বিবৃতি অনুসারে, যুক্তরাজ্য ইসরায়েলে বিমান, ড্রোন, গ্রেনেড, বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং গোলাবারুদসহ বিভিন্ন অস্ত্র রফতানি করে।

কানাডা : ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির তালিকায় রয়েছে কানাডার নামও। সিপ্রির হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কানাডা থেকে ইসরায়েলের ০.৩ শতাংশ বিদেশি অস্ত্রের যোগানদাতা হলো কানাডা। ২০১৯ সালে কানাডা ইসরায়েলে প্রায় দেড় কোটি ডলারের সামরিক যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে যা দেশটির মোট অস্ত্র রপ্তানির ০.৪ শতাংশ। সূত্র : মিডল ইস্ট আই

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*