কোটি টাকার গাড়ি লাখ টাকায়

অবশেষে নিলামে উঠছে চট্টগ্রাম বন্দরে বছরের পর বছর পড়ে থাকা কোটি টাকা বিএমডব্লিউ-মার্সিডিজ বেঞ্চ-ফোর্ডের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের ১১২টি দামি গাড়ি। পর্যটন সুবিধায় বিদেশ থেকে আনা এসব গাড়ি খালাসে জটিলতার কারণে এত দিন বন্দরেই পড়েছিল। খালাস জটিলতায় চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামে উঠছে বিভিন্ন ব্রান্ডের শতাধিক গাড়ি যার বাজারমূল্য অন্তত ৩ কোটি টাকা।

এসব গাড়ি বিদেশ থেকে আনা হয়েছিলো শুল্কমুক্ত সুবিধায়। বিশ্বখ্যাত ল্যান্ড রোভার ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল চার কোটি ৫ লাখ ১৩ হাজার ৩১৩ লাখ টাকা। দামি এই গাড়ির প্রতি এবার খুব আগ্রহ নেই ক্রেতাদের। এই ব্র্যান্ডের গাড়িটির দর উঠেছে ১২ লাখ টাকা। তবে ল্যান্ড রোভারের চেয়ে কম দামি বিএমডব্লিউ গাড়ির দর উঠেছে সবচেয়ে বেশি। শীর্ষ দর পাওয়া চারটি গাড়িই বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের।

বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের একটি গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৬০ টাকা। যার সর্বোচ্চ মূল্য উঠেছে ৫৩ লাখ টাকা। প্রায় ২ হাজার ৯৯৩ সিসির এই গাড়ি জার্মানিতে নির্মাণ করা হয়েছিল ২০০৭ সালে। গাড়িটির চাবি নেই। কোটি টাকা দামের বিএমডব্লিউ গাড়ির দর উঠেছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। গাড়িটির সংরক্ষিত মূল্য ছিল ৮৮ লাখ ৬০ টাকা। গাড়িটি ২০০০ সালের তৈরি।

চট্টগ্রাম বন্দরে নানা জটিলতায় খালাস না হওয়ায় ৩৬০টি গাড়ি বিভিন্ন শেডে পড়ে আছে। এর মধ্যে পর্যটন সুবিধায় এনে খালাস নিতে পারেনি এ ধরনের গাড়ি রয়েছে ১১২টি। বছরের পর বছর বন্দরের শেডে পড়ে থাকা কোটি টাকা দামের এসব গাড়ি নিলামে বিক্রি করবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

গত ৩ থেকে ৪ নভেম্বর অনলাইনে ও দেশের পাঁচটি নির্ধারিত স্থানে এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১১২টি গাড়ি কেনার জন্য ৫৫১টি দর জমা দিয়েছিল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এটি বিগত চারবারের নিলামের মধ্যে রেকর্ড করেছে। ২ হাজার ৪৮৭ সিসির বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের আরেকটি গাড়ির সর্বোচ্চ দর উঠেছে ৫০ লাখ টাকা। এই গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৯১ টাকা।

এছাড়া ৩ হাজার ৬০০ সিসির একটি বিএমডব্লিউর দাম উঠেছে ৪৬ লাখ টাকা। যার সংরক্ষিত মূল্য ছিল ৫৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা। গাড়িটি ২০০৩ সালে জার্মানিতে তৈরি। গাড়িটির চাবি আছে। গাড়িটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ক্লিয়ারেন্স পারমিট সংগ্রহ সাপেক্ষে খালাসযোগ্য।

অপরদিকে, মিতসুবিশি সোগান ব্র্যান্ডের একটি গাড়িতে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন একজন। সংরক্ষিত মূল্য ছিল ১ কোটি ৩৯ লাখ ১৬ হাজার ৯২৪ টাকা। ২ হাজার ৭২০ সিসির একটি ল্যান্ড রোববার গাড়ির সংরক্ষিত মূল্য ছিল ১ কোটি ৫৫ লাখ ৩২ হাজার ৬৫০ টাকা।

এই গাড়িটির সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ২৬ লাখ টাকা। গাড়িটি ২০০৫ সালের তৈরি। চাবি পাওয়া যায়নি। সর্বোচ্চ দাম উঠা বিএমডব্লিউ গাড়িটি জার্মানিতে ২০০৭ সালে তৈরি। 730LD SE AUTO মডেলের এ গাড়ি ৪ আসনের। ২৯৯৩ সিসির সিলভার কালারের গাড়িটির চাবি ও রাবার চ্যানেল পাওয়া যায়নি।

হুইল ও ব্যাটারি ব্যবহারের অনুপযোগী। সব জেনে বুঝে এ গাড়ির জন্য ফারজানা ট্রেডিং দর দিয়েছে ৫৩ লাখ টাকা। কাস্টমহাউস কর্তৃপক্ষ গাড়িটির সংরক্ষিত মূল্য ধরেছিল ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ৯৬০ টাকা। কাস্টমসের উপকমিশনার মো. আল আমিন আরটিভি নিউজকে বলেন, ১১২টি গাড়ির নিলামে দরদাতাদের রেকর্ড সাড়া পাওয়া গেছে। এখন নিলাম অনুমোদন কমিটির একটি বৈঠক হবে। সেখানকার সুপারিশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে যাবে।

এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেগুলো বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হবে না, সেগুলো আবারও নিলামে তোলা হবে। ১১২টি গাড়ির নিলামে দরদাতাদের রেকর্ড সাড়া পাওয়া গেছে। এখন নিলাম অনুমোদন কমিটির একটি বৈঠক হবে। সেখানকার সুপারিশ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে যাবে।

এরপর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেগুলো বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হবে না, সেগুলো আবারও নিলামে তোলা হবে। এর আগে এসব গাড়ির চারবার নিলাম হয়েছে, একেকটি গাড়ির দাম কোটি টাকা বেশি উঠেছে।

কিন্তু নানা জটিলতায় এসব নিলাম বাতিল হয়েছে। পর্যটন সুবিধায় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আসা আটক গাড়ির পঞ্চমবারের নিলামে ১১২টি গাড়ি তোলা হয়। এর মধ্যে ১১০টি গাড়ি কেনার জন্য ৫৫১টি দর জমা দিয়েছে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। আগের চারবারের চেয়ে এবার ভালো সাড়া মেলেছে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*