কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

একের পর এক সমন্বয়হীনতা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং দুর্নীতির কারণে সরকারের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আর এসব বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা দিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে।

তবে তৃতীয় মেয়াদে এসে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে নানা রকম সংকট এবং অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। আর এইগুলো মোকাবেলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন তা সঠিকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অতি উৎসাহ, কোথাও কোথাও দুর্নীতি এবং সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে উঠছে।

আর এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী সবকিছু খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছেন। করোনায় সবচেয়ে বেহাল দশা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে।

সমালোচিত হয়ে নিজেকে শুধরানোর চেয়ে মন্ত্রণালয়টি বরং আত্মপক্ষ সমর্থনের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যতটুকু না মনোযোগী তার চেয়ে বেশি মনোযোগী নিজেদেরকে জাহির করার ব্যাপারে।

একের পর এক ব্যর্থতার পরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নানা রকম বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞপ্তি ইত্যাদি দিয়ে নিজের ঢোল নিজে পেটাচ্ছে। এটি জনমনে বিরক্তি তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যে গণবদলির আদেশ করেছে এ গণবদলির আদেশ নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই গনবদলির আদেশের কপি নিয়েছেন এবং কিভাবে কোন প্রক্রিয়ায় এটি করা হলো তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। একই সাথে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে যে, চীনা প্রতিষ্ঠান থেকে যে ভ্যাকসিন আনার চুক্তি হয়েছে সেই ভ্যাকসিনের জন্য যে চাহিদাপত্র দিতে হবে

সেই চাহিদাপত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এখনো দিতে পারেনি। যদি আগামী ১৬ই জুলাইয়ের মধ্যে চাহিদাপত্র না দেওয়া হয় তাহলে একটি জটিল পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এসমস্ত নজিরবিহীন অদক্ষতার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এখন নিজেরাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিরীক্ষা করছে

বলে একাধিক সূত্র জানাচ্ছে। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী খুব শীঘ্রই একটি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। করোনা সংকটের সময় একের পর এক লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং এই সমস্ত প্রজ্ঞাপনগুলোতে প্রায় সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে,

মাঠের বাস্তবতার সাথে লকডাউনের প্রজ্ঞাপনের মিল নেই এমন অভিযোগ আসছে। এই বিষয়টিও সরকারের নীতিনির্ধারকদের নজরে এসেছে এবং এই ব্যাপারটিকে ঈদের আগে কিভাবে একটি সমন্বয়ের মধ্যে আনা যায় সে ব্যাপারেও কাজ করা হচ্ছে।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এখন সবচেয়ে বিরক্ত মুজিববর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার থাকবে না কেউ গৃহহীন উদ্যোগটি নিয়ে। এই উদ্যোগের আওতায় প্রত্যেকটি গৃহহীন মানুষকে একটি করে ঘর দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ঘর নির্মাণ করা হয়েছে কিন্তু এই ঘরগুলো বেশকিছু নিম্নমানের এবং অনেকগুলো ভেঙে পড়ছে। এটি সরকারি নীতিনির্ধারক মহলকে ক্ষুব্ধ করেছে বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন,

কারা কিভাবে এটির সঙ্গে জড়িত সেই ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী খোঁজ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এখন এই ঘরগুলো নির্মাণে কি ধরণের অনিয়ম হয়েছে তা দেখতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কয়েকটি টিম সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়েছেন। এই ঘটনায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছেন প্রধানমন্ত্রী।

যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর এই সমস্ত এর সমন্বয়হীনতা, অনিয়মের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী খুব শীঘ্রই দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপ নিবেন বলে সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

Sharing is caring!

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*